প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যা: দুজনের আদালতে জবানবন্দি

সুজন কৈরী : [২] গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন হত্যায় জড়িত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিএমপির উত্তরা বিভাগ। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিম, শাহীন ও চালক হাবিব। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি হায়েস মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।

[৩] বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তরা বিভাগের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, গত ১১ বিকেলে তুরাগের ১৭ নম্বর সেক্টর থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে প্রকৌশলী দেলোয়ারের লাশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিলো। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি পরিকল্পিত খুন বলে মনে হয়। র‌্যাব সদর দপ্তরের সহায়তায় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় জানা যায়। এরপর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তুরাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (অঞ্চল-৭) সহকারী প্রকৌশলী সেলিমসহ প্রকৌশলী রাশেদ ও প্রকৌশলী সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নিহতের বাসার রাস্তার আশপাশ এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়।

[৪] ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিহতের বাসার অদূরে একটি হায়েস মাইক্রোবাসে একজন সাদা পিপিই পড়া ও একজন শার্ট প্যান্ট পড়া ব্যক্তি অপেক্ষা করছে। হঠাৎ তারা একটি রিক্সাওয়ালাকে থামিয়ে তার মোবাইল থেকে কাকে যেন কল করে। কিছুক্ষণ পর রিক্সাওয়ালার ওই মোবাইলে ফিরতি কল আসলে তারা দ্রুত প্রকৌশলী দেলোয়ারের বাসার দিকে গাড়ি নিয়ে রওনা দেয়। এখানে সাদা পিপিই পরিহিত ব্যক্তির সঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী সেলিমের দেহের আকৃতির মিল পাওয়া যায়। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে ওই রিক্সাওয়ালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি জানান, পিপিই পরিহিত ব্যক্তি আর প্রকৌশলী সেলিম একই ব্যক্তি। সেলিমের সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। মোবাইল থেকে কল করে মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার সময় রিকশাওয়ালাকে ১০০ টাকা দেয়া হয়।

[৫] ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল জানান, গ্রেপ্তার সেলিমের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় সাদা পিপিই ও কালো জুতা পরিহিত একজন ব্যক্তি বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত পিপিই, জুতা ও দেহের আকৃতির সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পিপিই পরিহিত ব্যক্তির হুবহু মিল পাওয়া যায়। এসব বিষয় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত হয়ে সেলিমকে সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জানালে তিনি একপর্যায়ে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেন।

[৬] হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তরা বিভাগের এডিসি কামরুজ্জামান সরদার বলেন, নিহত প্রকৌশলী দেলোয়ার ও প্রকৌশলী সেলিম একই অফিসে সহকর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অন্তর্দন্দ্ব ছিল। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তাদের মধ্যে মনমালিণ্য ছিল। হত্যাকান্ডে সহযোগী হিসেবে শাহীন ও মাইক্রোসহ চালক হাবিবকে সঙ্গে নেন সেলিম। ঘটনার দিন সেলিম ও তার দুই সহযোগী মাইক্রোবাস নিয়ে প্রকৌশলী দেলোয়ারের বাড়িতে গিয়ে তাকে গাড়িতে উঠান। গাড়িটি রূপনগর বেড়িবাঁধে পৌঁছানোর পর সেলিমের ইশারায় মাইক্রোর পেছনে থাকা শাহীন দেলোয়ারের গলায় রশি দিয়ে পেঁচিয়ে টান দেন এবং সেলিম তাকে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর মৃতদেহ ১৭ নম্বর সেক্টরের খালি জায়গায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় দেলোয়ারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দিয়াবাড়ির তিন নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন লেকে ফেলে দেন। যা পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে।

[৭] পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার শাহীন ও হাবিব বৃহস্পতিবার আদালতে ১৫৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী প্রকৌশলী সেলিমের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত