প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হত্যা মামলায় মা জেলে, বাবা আরেক বিয়ে করে ঢাকায়, তিন সন্তানের পাশে দাঁড়ালো পুলিশ

বিপ্লব বিশ্বাস : [২] করোনার থাবায় একের পর মানবিক দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। এবার হত্যা মামলার এক আসামীর দুই সন্তানের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার আরেক দৃষ্টান্ত দেখালো রাজশাহী পুলিশ।

[৩] জানা যায়, রাজশাহীর বাগমারায় পরকিয়ার জেরে সুকেন কুমার সরকার (৩০) নামের এক যুবকে হত্যার অভিযোগে তাহমিনা বেগম নামের এক মহিলা ও পল্লব কুমার নামের আরেক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হত্যা মামলায় তারা এখন জেলে আছে।

[৪] গত ১৯ এপ্রিল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের ধামিন কামনগর গ্রামে এক বাড়ির পাশে আমগাছের নীচে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় সুকেন নামক ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সুকেনের ভাই বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সুকেনের ভাই।

[৪] তদন্তের এক পর্যায়ে গোপন সূত্রে রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন দেবের নেতৃত্বে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের আব্দুস সাত্তার স্ত্রী তাহমিনাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের বিষয় তারা স্বীকার করেন।

[৫] মূলত পরকীয়া সম্পর্কের জের ও পাঁচ হাজার টাকার প্রলোভনে তাহমিনা এবং পল্লব নামক এক ব্যক্তি মিলে সুকেন কুমারকে হত্যা করে। বর্তমানে দুইজনই কারাগারে রয়েছে। উল্লেখ্য, তাহমিনা সুকেনের বাসায়ই গৃহপরিচাকার কাজ করতো।

[৭] এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহমিনা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে, দশম শ্রেণী পড়ুয়া এক মেয়ে ও দুইজন নাবালক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাতেন। তার স্বামী দীর্ঘদিন আগে ঢাকায় একটি বিয়ে করে সেখানেই সংসার করেন। তাহমিনা ও সন্তানদের কোন খোঁজখবর তিনি রাখে না।

[৮] করোনায় উদ্ভুত সংকটময় পরিস্থিতিতে তাহমিনা কারাগারে থাকায় তার সন্তানরা অসহায় ও মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। এমন সময়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাজশাহীর পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় তাহমিনার অসহায় সন্তানদের সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান। এ সময় ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুনরুল ইসলাম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত