প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শুনানি ভার্চ্যুয়াল হলেও আদালতে যেতেই হচ্ছে : অভিযোগ আইনজীবীদের

এস এম নূর মোহাম্মদ : [২] করোনায় সবকিছুর সঙ্গে আদালতও বন্ধ ছিল দীর্ঘ সময়। তাই শারীরিক দুরুত্ব নিশ্চত করতে ভার্চ্যুয়াল   আদালতের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে নানা অভিযোগ তোলে নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট এবং পটুয়াখালী জেলা   আইনজীবী সমিতি ভার্চ্যুয়াল কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তবে প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন আইনজীবীরা।

[৩] সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টে সমস্যা হচ্ছে এমন কোন অভিযোগ এখনো কেউ করেনি। তবে নিম্ন   আদালতে কিছু সমস্যার কথা শুনেছি। ওকালতনামা, বেইলবন্ডসহ কিছু কাগজ সংগ্রহ করার জন্য কোর্টে যেতে হচ্ছে   আইনজীবীদের। তাহলে তো নতুন পদ্ধতিতে লাভ হবেনা।  তিনি বলেন, অন্যদেশে ই-জুডিশিয়ারি,   আমাদের মতো ভার্চ্যুয়াল কোর্ট না। হঠাৎ করে   আপতকালীন সময়ের জন্য এটা করা হয়েছে। তবে রেগুলার করতে হলে সময় ও প্রশিক্ষণ লাগবে। এটা   আরও অনেক সংযোজন-বিয়োজন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

[৪] সুপ্রিম কোর্টের   আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ভার্চ্যুয়াল কোর্ট বলা হলেও পুরোপুরি সেভাবে এটা কাজ করছেনা। কেননা ওকালতনামার জন্য   আইনজীবীদের কোর্টে যেতেই হচ্ছে। এছাড়া মামলা ফাইল করার পর তা শুনানি হবে কি না, সেটা বিচারকের ওপর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এটা যথার্থ নয়। মামলা ফাইল করার পরই শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে।   আগাম জামিনের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় অধিকাংশ   আইনজীবী এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওকালতনামায় ক্লাইন্টের সাক্ষর ও কোর্ট ফি   আদালত স্বাভাবিক হওয়ার পর যথাযথভাবে দেয়া হবে, এ বিষয়ে   আইনজীবী অঙ্গীকার করতে পারে। এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট তাদের নির্দেশনা সংশোধন করলে ভার্চ্যুয়াল কোর্টের উদ্দেশ্য সফল হবে।

[৫] ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম   আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, করোনার কারনে দ্রুত ভার্চ্যুয়াল কোর্টের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কেবল   আইনজীবীরাই নয়, বিচারক, পেশকার, পিয়নদেরকেও কোর্টে যেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন এই পদ্ধতি শুরু হয়েছে খুবই অল্প সময় হলো। যেসব সমস্যা সামনে   আসছে সেগুলো সমাধান যোগ্য এবং তা দ্রুত করা হবে বলে মনে করেন তিনি।

[৬] সুপ্রিম কোর্টের   আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, চার্জশিট হওয়ার পর যেসব মামলা সিএমএম কোর্ট থেকে বদলী হয়েছে সেগুলো শুনানি করা যাচ্ছেনা।   আর শুনানি করার জন্য বিভিন্ন কারনে অাইনজীবীদেরকে বাইরে যেতেই হচ্ছে। এছাড়া মামলা ফাইল করার পর নাম্বার ও শুনানির তারিখ পেতে অনেক দেরী হয় বলে জানান তিনি।

[৭] ফরিদপুর জজ কোর্টের   আইনজীবী মোসাদ্দেক   আহমদ বলেন, প্রবীনরা এই পদ্ধতিতে অনভিজ্ঞ। এছাড়া বেশিরভাগ   আইনজীবীর প্রয়োজনীয় উপকরন নেই। শুনানির সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া ও ইন্টারনেটের গতি না থাকাতে কাজে সমস্যা হয়।
তিনি বলেন, ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে বুঝানো একটু কঠিন হয়। এতে একতরফা   আদেশ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ ছাড়া এর সুফল সবাই ভোগ করতে পারবেনা বলে মনে করেন তিনি।

]৮] ঢাকার জজ কোর্টের   আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকায় অ‌ধিকাংশ আইনজীবীই এ ধর‌নের আদাল‌তের ব‌্যাপা‌রে প্রস্তুত ছি‌লেন না। ই-অ‌্যা‌প্লি‌কেশ‌নের ‌ক্ষে‌ত্রে নিবন্ধন করতেও অ‌নে‌কে সমস‌্যায় পড়‌ছেন তারা।

[৯] তিনি বলেন, ভার্চ্যুয়াল আদালত বলা হ‌লেও শুধু শুনা‌নি ছাড়া বা‌কি সব কাজ আইনজীবী‌দের আ‌গের ম‌তোই কর‌তে হ‌চ্ছে। শুনা‌নির জন‌্য বিচার‌কের মু‌খোমু‌খি হ‌তে হয় না এ‌তোটুকুই উন্ন‌তি। ত‌বে পু‌রোপু‌রি সুফল পে‌তে পদ্ধ‌তিগত আরও সংস্কার প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত