প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শনাক্তের চেয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০-৪০ গুণ হতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট :  দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শনাক্তের সংখ্যার চেয়ে ১০ থেকে ৪০ গুণ বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মোশতাক হোসেন। ডা. মোশতাক বলেন, ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় যে সংখ্যা সেটাকেই প্রকৃত সংখ্যা বলতে হবে। এ পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পাওয়া গেছে প্রায় ২১ হাজার আক্রান্ত রোগী। কিন্তু রোগ তাত্ত্বিকরা অনুমান করেন যে, মৃদু লক্ষণযুক্ত রোগী এর বাইরেও থাকতে পারে। সেটা সর্বনিম্ন ১০ গুণ এবং সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ গুণ হতে পারে। বিশ্লেষণ যদি করতে হয় তথ্য দ্বারা তাহলে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে যে পজিটিভ সংখ্যা পেয়েছি তাদের ভিত্তিতে পরিসংখ্যানটা হবে। আর হলো রোগ তত্ত্বের অনুমান। মৃদু লক্ষণযুক্ত রোগীরা হয়তো পরীক্ষা করতে আসছেন না।

আরেকটি বিরাট সংখ্যক লোক সামাজিকভাবে হেনস্থা হওয়ার ভয়ে পরীক্ষা করতে আসছেন না। কাজেই এটা অনুমান করে ১০ থেকে ৪০ গুণ বলে ধরা যেতে পারে। এটা হলো আনুমানিক সংখ্যা। যে কোনো মহামারীর ক্ষেত্রে রোগ তাত্ত্বিকরা এরকম একটি অনুমান করে থাকে। শুধু এটা করোনার ক্ষেত্রে না। রোগটি হয়ে যাওয়ার পরে যদি সার্ভে করা হয় কতো ভাগ লোক আক্রান্ত হলো। তখন হয়তো আরো ভালোভাবে অনুমানটি করা যাবে। এখন হলো ফর্মুলা অনুযায়ি সর্বনিন্ম থেকে সর্বোচ্চ রেঞ্জ হিসাব করা। কিন্তু আপনাকে যে কোনো হিসাবনিকাশ করতে হবে ল্যাবরেটরির কনফার্ম পরীক্ষার ফলাফলের উপর। যেমন মহামারী এখন কোন দিকে যাচ্ছে এটা শুধু সংখ্যা দিয়ে হবে না। যতগুলো লোককে পরীক্ষা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে কতভাগ লোক পজিটিভ হচ্ছে তার ওপর। যেমন এখন যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে শতকরা ১৪ ভাগকে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হচ্ছে। যখন বলা হলো কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। সেদিন থেকে শতকরা ১০ ভাগ ছিলো। সেটা গত রোববার থেকে বেড়ে ১৪ ভাগ হয়েছে। গত সপ্তাহে পরীক্ষা করে শতকরা ১৪ ভাগ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাওয়া গেছে। এটা গার্মেন্টস, শপিং মল, দোকানপাট ইত্যাদি খুলে দেয়ারই প্রভাব বলে আমাদের ধারণা।

কিন্তু আমাদের সাধারণ ধারণা এবং অনুমান থেকে বলা যায় যে লকডাউন শিথিলের কারণে যারা নতুন রোগী তাদের কাছ থেকে আবার রোগ ছড়াবে। একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে রোগ ছড়ায়। আন্তর্জাতিক তথ্যানুযায়ী এটাকে বলা হয় রিপ্রোডাকটিভ রেট। যেটা R0 দিয়ে লিখে। সেটা ২.৫। সেটা যদি হয় তাহলে এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছে তারা যদি দ্রুত আইসোলেশনে না যায় কমিউনিটিতে থাকে তাহলে তারা আরো সংক্রমিত করবে। সেটার ধাক্কা আমাদের সামলাতে হবে। আবার এখন সরকার হয়তো কড়াকড়ি করতে যাচ্ছেন সেটার একটি ভালো ফল হবে। সেটার ফলাফল আমরা ঈদ বা ঈদের পরে পাবো হয়তো। রোগীর সংখ্যা হয়তো নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি বলেন, গণপরিবহন যদি আগের নিয়মে চলে তাহলে আমাদের অবস্থা খারাপ হবে। আর যদি গণপরিবহনে যাত্রি সংখ্যা সীমিত হয়, সবাই মাস্ক পড়ে, বাসে ওঠার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়। সেভাবে যদি নিয়ম মেনে চলে তাহলে অতো খারাপ প্রভাব পড়বে না। গণপরিবহনে আগের চিত্র শুরু হলে উপায় নেই আমাদের। এইমুহূর্তে সরকারের করনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে ডা. হোসেন বলেন, এখন লকডাউনকে ঘিরে সামাজিক যে রেস্ট্রিকশন বা বিধিনিষেধ আছে এটা শিথিল করার প্রশ্নই আসে না। সেটাকে বরং আরো কার্যকর করতে হবে।

তবে জরুরি প্রয়োজন এবং সামাজিক কাজ সেটা যদি ঢালাওভাবে নয় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে সেটার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। আরেকটি জরুরি কাজ যেটা হলো আক্রান্ত এলাকা এবং আক্রান্ত এলাকার বাইরে উভয় স্থানে কমিউনিটিতে সক্রিয়ভাবে রোগী খুঁজে বের করে পরীক্ষা করতে হবে। লক্ষণ দেখে অর্থাৎ জ্বর থাকলেই তাকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। কমিউনিটি থেকে সংক্রমনের উৎসটা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। উৎস যদি থেকে যায় তাহলে লকডাউন যখনই তোলা হবে তখনই অবস্থা খারাপ হবে। রোগের উৎস নির্মূল করতে হাসপাতালে সবচেয় খারাপ অবস্থায় যারা যায় তাদের আইসোলেশনে রাখা। আরেকটি হলো কমুউনিটিতে মৃদু লক্ষণযুক্তদের অবশ্যই শনাক্ত করে আলাদা করতে হবে। এবং লকডাউন যদি আমরা ঠিকভাবে মেনে চলি তাহলে যাদের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না ঘরে থাকার কারণে তাদের দ্বারা রোগ ছড়ানোর সুযোগ থাকবে না। একদিকে লকডাউন কার্যকর করতে হবে। আরেকটি হচ্ছে মৃদু লক্ষণযুক্ত রোগী খুঁজে বের করে তাকে আলাদা করে রাখা। তাহলে এদুটি মেনে আমরা রোগীর সংখ্যা কমাতে পারবো। সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত