প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লেখাপড়ার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীর ভেতরে জানা কিংবা শেখার ক্ষমতা তৈরি করে দেয়া : ড. জাফর ইকবাল

রায়হান রাজীব: [৩] এ শিক্ষাবিদ আরো বলেন, যার ভেতরে জানা বা শেখার ক্ষমতা আছে সে যে কোনো কিছু নিজে নিজে জেনে নিতে পারবে বা শিখে নিতে পারবে।

[৪] ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে বাবা-মায়েদের আলাদা ভাবে দুর্ভাবনা করার কোনো কারণ নেই। এই করোনার কালে বাবা-মায়েরা যদি লেখাপড়ার আসল উদ্দেশ্যটা কী সেটা নিয়ে একটু চিন্তা ভাবনা করেন, তাহলে তাদের দুর্ভাবনাটা আরো কমে যাবে।

[৪]  দুঃখের ব্যাপার হয় যখন বাবা-মায়েরা ছোট শিশুর কৌতুহল না মিটিয়ে তাকে ধমক দিয়ে শাসন করে তার শেখার আগ্রহটি নষ্ট করে দেন। সেটি আরো বেশি হৃদয়বিদারক হয় যখন বাবা-মায়েরা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাবে সেই আশা করে তাদের ছেলে-মেয়েদের কোচিং করতে পাঠান। তখন একটু একটু করে একটা ছেলে বা মেয়ের জানা এবং শেখার ক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে।

[৫] শিক্ষা এবং শিক্ষক সম্পর্কে সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যাটি হলো: একজন শিক্ষক হচ্ছেন অন্ধকার ঘরে প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ। সেই প্রদীপের আলোতে ঘরের সবকিছু শিক্ষার্থীরা দেখতে পায়, দেখার কাজটি শিক্ষক নিজে করে দিতে পারেন না সেটা ছাত্র-ছাত্রীদেরই করতে হয়।

[৬] যেহেতু শেখার পুরো ব্যাপারটা সব সময় ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদেরই করতে হয় তাই করোনা ভাইরাসের এই গৃহবন্দী সময়ে ছাত্র-ছাত্রীরা ইচ্ছে করলে নিজেরাই তাদের পাঠ্য বই নিয়ে বসতে পারে।

[৭] আমার বাসায় স্কুল কলেজে যাওয়া কোন ছেলে-মেয়ে থাকলে তাদের বলতাম, “ঘরে বসে বসে পুরো গণিত বইটা শেষ করে ফেলো দেখি!” তারা যদি চোখ কপালে তুলে বলতো, “যদি করতে না পারি তাহলে কী করব?” আমি তাহলে বলতাম, “সেগুলো নোট বইয়ে লিখে রাখো। যখন স্কুল খুলবে তখন স্যার ম্যাডামকে জিজ্ঞেস করবে!”

[৮] আমি আশা করছি দেখতে দেখতে এই বিপদ কেটে যাবে এবং আবার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছেলেমেয়েদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠবে। অতীতেও পৃথিবী এরকম বিপদ থেকে মুক্ত হয়ে এসেছিল, এবারে কেন পারবে না?

সর্বাধিক পঠিত