প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এমএফএসটিসি করোনামুক্ত হাসপাতালে প্রতিদিন অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের স্বাভাবিক প্রসব করানো হচ্ছে : ডা. মাকসুদা খাতুন

শাহীন খন্দকার : [২] জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে বলে জানালেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর পরিচালিত মোহম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার ( এমএফএসটিসি) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মাকসুদা খাতুন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটি ১’শ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের স্বাভাবিক প্রসব করানো হচ্ছে । তবে কোভিড-১৯-এ চলমান অবস্থায় প্রতিদিন এখানে ২০ থেকে প্রায় ৩০ জন মা হচ্ছেন। আমাদের হাসপাতালে ইতোপূর্বে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তরাই আসতেন। করোনা ভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়ায় এখন উচ্চবিত্তরাও আসছেন নিরাপদ এবং করোনামুক্ত এই হাসপাতালে।

[৩] তিনি আরো বলেন, শিশু জন্মের ৬ মাস বা ১৮০ দিন পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এসময় পানি বা অন্য কোনো পানীয় খাওয়ানোর দরকার নেই। কেন না, মায়ের দুধেই আছে শতকরা ৯৫ ভাগ পানি। অন্যান্য পুষ্টিগুন তো আছেই। ৬ মাসের পর থেকে পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি ২ বছর পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুকে দিনে রাতে ৮ থেকে ১২ বার বুকের দুধ খাওয়ানো যেতে পারে।

[৪] শাল দুধ : প্রসবের পরে মায়ের বুকে প্রথম যে দুধ আসে তা শালদুধ। এ দুধ ঘন, আঁঠালো এবং একটু হলুদ রংয়ের। প্রসবের পরে প্রথম ২-৩ দিন যতটুকু শালদুধ আসে তাই নবজাতকের জন্য যথেষ্ট। তাই জম্মের পরপর শালদুধ ছাড়া আর কিছু দেয়া যাবে না।

[৫] শিশুকে শাল দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা : শালদুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে। শালদুধ আমিষ সমৃদ্ধ এবং এতে প্রচুর ভিটামিন-এ আছে। এতে আছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শালদুধ শিশুর পেট পরিষ্কার করে এবং নিয়মিত পায়খানা হতে সাহায্য করে। শিশুর জন্ডিস হবার সম্ভাবনা কমে যায় ।

[৫] বুকের দুধে মা ও শিশুর উপকার সর্ম্পকে তিনি বলেন, বুকের দুধ খেলে শুধুমাত্র যে শিশুর উপকার আছে তা নয়। এতে আছে মায়ের উপকারও। বুকের দুধ পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত। বায়ু বা পানি বাহিত জীবানু দ্বারা সংক্রমিত হবার সুযোগ নেই। মায়ের দুধে আছে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মার উপাদান।

[৬] শিশুর অসুখ বিসুখ বিশেষ করে ডায়রিয়া, কান পাকা রোগ, নিউমোনিয়া, শ্বাসনালীর রোগ, হাঁপানী, এলার্জি, চুলকানি ইত্যাদি সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধ উপকারী।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব শিশু কৌটার দুধ খায় তাদের তুলনায় মায়ের দুধ যারা খায় তাদের বুদ্ধির বিকাশ বেশি হয়।

[৭] রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকার ফলে অসুস্থ হলেও শিশু তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়। মায়ের দুধ শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে দেয়। মায়ের দুধ সহজে হজম হয় । প্রাথমিক অবস্থায় শিশুর দেহ জটিল খাবার হজম করতে পারে না।
কিন্তু মায়ের বুকের দুধের উপাদান সহজে হজম হয়। মায়ের দুধে পূর্ণমাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ থাকে বলে শিশুর রাতকানা হবার সম্ভাবনা থাকে না। পরবর্তীতে শিশুর ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি ভয়াবহ রোগ হাবর সম্ভবনা কমে যায়।

[৮] মায়ের উপকার সর্ম্পকে বললেন, জম্মের পরপরই শিশুকে বুকের দুধ দিলে মায়ের প্রসবজনিত রক্তপাত বন্ধ হয়। পরবর্তীতে রক্তস্বল্পতা হয় না। গর্ভজনিত স্ফীত জরায়ু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

[৯] যে সব মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান তাদের স্তন, জরায়ু এবং ডিম্বকোষের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কম থাকে। ৫ মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ালে স্বাভাবিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ২ বৎসর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ালে ঘন ঘন গর্ভবতী হবার সম্ভাবনা কমে যায়। বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের আত্নবিশ্বাস বাড়ে। শিশুর সাথে মায়ের আত্মিক বন্ধন দৃঢ় হয় মায়ের দুধ নিরাপদ, ঝামেলামুক্ত এবং মায়ের বাড়তি খাটুনি ও সময় বাঁচায় এবং অর্থের সাশ্রয় হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত