প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পর্যটন হোটেল শৈবাল থেকে মদের চালান উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

এম. আমান উল্লাহ : [২] মদের বিশাল চালান উদ্ধারের সংবাদ প্রকাশ না করতে রাতভর তৎপরতা চালিয়েছে প্রভাবশালী চক্র। একাধিক গাড়ি নিয়ে তাদের দৌড়াদৌড়ি যেন শেষ নেই। অবশেষে মামলা রুজু হওয়ার পর জানা গেছে আসল তথ্য। কক্সবাজারে হোটেল শৈবালের পর্যটন গলফ ক্লাব বার (অপটিমা ট্যুরিজম) থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৭৬.২১ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

[৩] জব্দকৃত মদের মধ্যে বিলাতী মদ মোট ৬৪১ বোতল (৬২৯.৭৫ লিটার) এবং বিভিন্ন ব্রান্ডের বিয়ার মোট- ২২৬২ ক্যান (৭৪৬.৪৬ লিটার) রয়েছে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে বারের ইনচার্জ মো: শামীম উদ্দিনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হলেও অপর সহযোগি মহসিন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গত সোমবার মধ্যরাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কক্সবাজারের সহকারি পরিচালক সোমেন মন্ডলের নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান চালায়।

[৪] এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) চাঁন মিয়া বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও অদৃশ্য কারণে মুলহোতা মহসিনকে আসামী করা হয়নি। তবে গ্রেফতারকৃত মো: শামীম উদ্দিন ছাড়া আরও দুই আসামি হচ্ছে বার তথা মেসার্স অপটিমা ট্যুরিজমের মালিক এমএ আউয়াল চৌধুরী (ভুলু) এবং বারের ম্যানেজার শফিউল বারী চৌধুরী। তারা দুই জনই পলাতক রয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কক্সবাজার’র সহকারী পরিচালক সৌমেন মন্ডল। তিনি বলছেন মহসিনের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।

[৫] বাদি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা বিপুল পরিমাণ এ্যালকোহল (মদ) অবৈধ উপায়ে সংগ্রহপূর্বক ধারণ, অধিকার অথবা দখল, সংরক্ষণ ও গুদামজাত করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

[৬] এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন শৈবাল বারে মো: শামীম উদ্দিন ও মহসিনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট অবৈধ মদের বিশাল মজুদ গড়ে তোলে। তারা এসব মদ হোটেল মোটেল জোনের বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন বারে সরবরাহ করে আসছিল। চোরাইপথে সংগৃহীত এসব মদ বিক্রি করায় কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

[৭] এর আগেও ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর হোটেল শৈবাল থেকে বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৭৪ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়েছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেছিল। এ ঘটনায় বারের সহকারী ম্যানেজার আবদুল আলীমকে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। হোটেল শৈবাল ও পর্যটন গলফ বার ঘিরে গড়ে উঠা মাদক কারবারী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে প্রতিবছর শত কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে সরকার, এমনটাই অভিমত সচেতন মহলের। সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত