প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনার থাবায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জুতা শিল্পের করুণ দশা !

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পাদুকা কারখানায় তৈরি জুতার খ্যাতি ও চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। গুণগত-মানসম্পন্ন এবং দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এখানকার তৈরী জুতা ঈদ কিংবা পূজা-পার্বনে চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। বছরের অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে উৎসবের সময়গুলোতে পাদুকা কারখানার মালিক ও শ্রমিকদের দম ফেলারও ফুরসত থাকে না। রাত-দিন কাজ করে পাইকারদের চাহিদা অনুযায়ী জুতা তৈরি করেন তারা।

[৩] অথচ আর কদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। করোনার থাবায় এই ঈদে লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারি হচ্ছে পাদুকা শিল্পের জন্য। এর ফলে এই মৌসুমে এই শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকারও বেশি। চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা অনেকটাই অনিশ্চিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

[৪] মাহমুদ আলী নামে ভারতের পাটনা শহর থেকে আসা এক ব্যবসায়ী ১৯৬৩ সালে সর্বপ্রথম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে একটি পাদুকা কারখানা স্থাপন করেন। বর্তমানে জেলা শহরের পীরবাড়ি, নাটাই, ভাটপাড়া ও রাজঘরসহ কয়েকটি এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক ছোট-বড় কারখানা সচল রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক হাজার শ্রমিকের।

[৫] বাজারে বিদেশী জুতার সঙ্গে পাল্লা দিতে হাতের পাশাপাশি এখন মেশিনেও জুতা তৈরি হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাদুকা কারখানাগুলোতে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জুতা নিয়ে যান। প্রতি জোড়া জুতা পাইকারাদের কাছে বিক্রি হয় ১৮০ থেকে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত। পাদুকা শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূলত রোজার মাসকেই পাদুকা শিল্পের মৌসুম ধরা হয়। এই মৌসুমে ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকরাও বাড়তি টাকা আয় করেন।

[৬] শুধুমাত্র রোজার মাসেই বড় মাপের একেকটি কারখানায় কোটি টাকার কাছাকাছি এখানকার তৈরী জুতা বিক্রি করেন। রোজা শুরুর ১০-১৫ দিন আগে থেকে রাত-দিন মিলিয়ে কাজ করেন শ্রমিকরা। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে এবারের মৌসুমে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন পাদুকা ব্যবসায়ীরা। গত ২৫ মার্চ থেকে জেলার সবকটি পাদুকা কারখানা বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার জুতা বিক্রি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘসময় ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন পাদুকা শ্রমিকরা। এতে করে মানবেতর দিন কাটছে প্রায় কয়েক হাজার পাদুকা শ্রমিক।

[৭] কারখানার মালিকরা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে এখন কষ্ট হচ্ছে তার। পাদুকা শিল্পের এমন দুর্দিন আগে কখনো দেখিনি। কাজ না থাকায় চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে আমাদের শ্রমিকদের। এভাবে আমরা কতদিন চলব? এই ভাইরাস আমাদের পথে বসিয়ে ছাড়বে। দুই-তিন মাস আগ থেকে লাভের আশায় কাঁচামাল মজুত রেখেছিলাম সেগুলো নষ্ট হচ্ছে। কারখানা বন্ধের কারণে শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে পারছি না। সারা বছর মার্কেটে যে বাকি দিয়েছি বর্তমান রিস্থিতিতে সেই টাকাগুলো উঠিয়ে আনা সম্ভব না।

[৮] এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাদুকা শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন মিয়া বলেন, সারাবছরের লোকসান আমরা এই মাসে ব্যবসা করে পুষিয়ে নিতে পারতাম। কারণ এই রোজার মাসে একেকটি কারখানা থেকে কয়েক কোটি টাকার জুতা বাজারজাত করা হতো। অথচ এবার এই রোজার মাসেই আমাদের সবচেয়ে বেশি লোকসান হচ্ছে। এখন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কারখানা খুলে দেয়ার পাশাপাশি সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগীতা প্রয়োজন। সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত