প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‌কমলগঞ্জে মধু চাষে স্বাবলম্বী আব্দুস সামাদ

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার: [২] স্বল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় মৌচাষির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গড়ে উঠেছে মধু সংগ্রহের কারখানা। কালিয়াকৈরের মধু এখন রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন মৌ-চাষিরা। এতে একদিকে মৌচাষিদের মুখে ফুটে ওঠেছে হাসি, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়ণের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি।

[৩] মধু পানে রোগ সারে, মধু পানে শক্তি বাড়ে- এ শ্লোগান সামনে রেখে মৌলভীবাজারের উপজেলার আলেপুর মুক্তারবাড়ীতে বাণিজ্যিকভাবে চলছে মৌচাষ। উপজেলার আলেপুর পৌর এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে এ মৌচাষ করছেন আলেপুর এলাকার মৃত ছালিক চৌধুরীর কনিষ্ট পুত্র যুবক মোঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী। তিনি কমলগঞ্জ সরকারী কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষের ছাত্র এবং কলেজ রোভার স্কাউট ও সিনিয়র রোভার মেট হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। সৌখিন এই যুবক আজ থেকে এক বছর পূর্বে টিউশানি করে উপার্জিত ৮ হাজার টাকায় একটি বক্স কিনে তার নিজ বাড়িতে শুরু করেন মৌ এর চাষ। এর পর থেকে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি । বর্তমানে তার বাড়ীতে একে এক বক্সের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ টিতে।

[৪] আব্দুস সামাদ জানান, একটি বক্স থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ কেজি মধু আহরিত হয় । প্রতি কেজি মধুর মূল্য ১০০০-১২০০ টাকা। কখনও কখনও এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। সে হিসাবে ৫টি বাক্স থেকে প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৩৬ হাজার টাকার মধু উৎপাদন করেন তিনি। অল্প খরচে মৌচাষে স্বাবলম্বী আব্দুস সামাদ চৌধুরী।

[৫] শুধু আব্দুস সামাদ চৌধুরীই নয়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এবং স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় অল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় মৌচাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন অনেকেই। শ্রীনাথপুরের প্রাবন্ধিক আহমদ সিরাজ, প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ^জিৎ রায়, সাংবাদিক অলক দেব, শিক্ষক নাজমুল আহমদ চৌধুরীসহ

[৬] অনেকেই তার নিজ বাড়ীতে মৌ-চাষ শুরু করছেন। সারাদেশের ন্যায় এ উপজেলায়ও বিসিকের মাধ্যমে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মৌচাষি রয়েছেন তারা নিজ উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায়ও আগ্রহী চাষীদের মাধ্যম মৌচাষ শুরু করেছেন। প্রতি বছরের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়, এ কাজ চলে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

[৭] মৌচাষি সামাদ জানান, তিনি সহ তার চার বোনের লেখাপড়ার খরচ বড় দুই ভাইকে বহন করতে হতো। এখন আর তার লেখাপড়ার জন্য বড় ভাইদের কাছে হাত পাততে হয় না । এই মধূ বিক্রির আয় থেকে পাওয়া অর্থে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পর উদ্বৃৃত্ত অর্থ পরিবারের কাজে ব্যায় করতে পেরে ভালো লাগছে তাদের।

[৮] দেশের বেকার যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে এই মধু চাষ হতে পারে মোক্ষম হাতিয়ার। মৌচাষ সম্প্রসারণ হলে বেকারত্ব লাঘব হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশ ও জাতি আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত