প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হোসেনপুরে শত শত নারী সুঁই সুতা কারিগররা দিশেহারা

আশরাফ আহমেদ, হোসেনপুর প্রতিনিধি : [২] পবিত্র মাহে রমজানের ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটায় সুঁই সুতা কারিগররা । কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াবহ থাবায় আজ পৃথিবী বিপর্যস্ত। এই মরণঘাতী করোনা প্রতিরোধে অফিস-আদালত , কল কারখানা, দোকানপাট, শপিং মল, বিপনী বিতান সহ যাবতীয় বন্ধ । তাই সুুঁই সুতা কারিগরদের উপরও পড়েছে এর প্রভাব।

[৩] কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রমজানের ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন আকর্ষনীয় ও মনোরম ডিজাইনের পুথি ও সুতা দিয়ে বাহারি রঙের শাড়িতে নকশার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতো উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের দরিদ্র মহিলা ও শিশু কর্মীরা।তারা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে রাত দিন একটানা অর্থ উপার্জনের জন্য শাড়িতে নকশা করতেন।

[৪] কিন্তু বিশ্বব্যাপী এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সকল শপিং মল, বিপণীবিতান বন্ধ থাকায় কোনো মহাজন’ আর শাড়ির কাজের অর্ডার দিচ্ছে না। ফলে উপজেলার পৌরসভাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শত শত সুঁইসুতা ও নকশা কর্মীরা বেকার। তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে কাটছে দিন।

[৫] সরেজমিনে উপজেলারশাহেদল ,কুড়িমারা ,রহিমপুর আশুতিয়া , দ্বীপেশ্বর সহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি বাড়িতে এখন শাড়িতে পুথি ও সুতা দিয়ে বিভিন্ন নকশার শাড়ি তৈরি করা হচ্ছে না।

[৬] দেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শাড়ি ব্যবসায়ী ও মহাজনদের নিকট থেকে নামে মাত্র মূল্যে কাজের অর্ডার নিয়ে আসত তারা। কিন্তু বর্তমানে কোন শাড়ি ব্যবসায়ী ও মহাজন’ নতুন করে কোন কাজের অর্ডার দিচ্ছে না। ফলে শাড়িতে সুঁই সুতার নকশা কাজে নিয়োজিত বহু পরিবার অসহায় ও বেকার ।

[৭] এ সময় উপজেলার দ্বীপেশ্বর গ্রামের নকশা কারিগর রহিমা খাতুন জানান, শাড়িতে নকশা কাজ করে ছেলে মেয়ের পড়ার খরচ ও সংসারের খাবার যোগাড় করতাম। কিন্তু করোনা আতঙ্কে মহাজনরা শাড়ির কাজ বন্ধ করাই এখন খুব কষ্টে কাটছে দিন। বিভিন্ন এনজিও ও মানুষের কাছ থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছিলাম। এখন কিভাবে তা পরিশোধ করব তা ভেবে পাচ্ছি না!

[৮] শাহেদল গ্রামের শাড়িতে নকশা কর্মী সালেহা বলেন, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে শাড়িতে কাজ করি।তবে এখন শাড়িতে কাজ বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

[৯] কুড়িমারা গ্রামের নকশা কর্মী বিলকিস বলেন, অভাবের তাড়নায় শাড়ির কাজ করে সংসার চালাতাম। কিন্তু বর্তমানে মহাজনরা কাজ বন্ধ রাখায় খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। এজন্য সুঁই সুতার কারিগরদেরকে সরকারের প্রণোদনা প্রদানের জন্য দাবি জানান তারা। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এ ব্যাপারে ঢাকার শাড়ির ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল রামপুরের শাড়ি ব্যবসায়ী হিরন,কেরামত সহ অনেকেই জানান, দেশব্যাপী করোনায় শপিং মল, দোকানপাট, বিপণিবিতান বন্ধ থাকায় শাড়ি উৎপাদন কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। তবে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পুনরায় শাড়ি উৎপাদন কাজে বিনিয়োগ করবেন বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল জানান, ওইসব অসহায় মানুষদেরকে ত্রাণ সামগ্রী ও বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত