প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গার্মেন্টস খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ রাখলে গার্মেন্টস মালিকদের লাভ

মো. গোলাম সরয়ার : গার্মেন্টস, পাটকল, শিল্পকারখানা খোলা রেখে মানুষকে লকডাউন মেনে ঘরে থাকতে বলা আর রোজা রেখে পুকুরের পানিতে ডুব দিয়ে পানি খাওয়া প্রায় একই টাইপের ঘটনা। আমরা এখন তাই করে যাবো, আর হাটে-বাজারে ভিড় করা খেটে খাওয়া মানুষ আমাদের জ্ঞানের লেবেল দেখে পরিহাসের হাসি দেবে। মানুষ জ্ঞানী হলে বহু চোখ খুলে যায় আবার বহু চোখ অন্ধও হয়ে যায়। পৃথিবীতে সবচেয়ে জ্ঞানীরা সত্য দেখেন সবচেয়ে কম। সবচেয়ে সেরা বিজ্ঞানীরা তৈরি করেন সবচেয়ে প্রাণঘাতী আণবিক মারণাস্ত্র।
গার্মেন্টস খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ রাখলে গার্মেন্টস মালিকদের লাভ। তারা পুরনো শ্রমিকদের সময়মতো না আসতে পারার অপরাধে নেবেন না। তাতে করে দুই মাসের বেতন না দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে তারা আরেকটি কৌশলও নিয়েছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রাম থেকে আসা শ্রমিকদের সঙ্গে সঙ্গে কাজে নেবেন না। এটা একটা ফাঁকিবাজি হিসাব, কারণ প্রায় সবাই তো গ্রাম থেকে ছুটি কাটিয়ে আসবে এখন। মানে গার্মেন্টস চালাতে হলেতো দক্ষ শ্রমিকই লাগবে। ক্ষেত থেকে ধরে নিয়ে তো আর মেশিনে বসিয়ে দেওয়া যাবে না। আবার তাদের বকেয়া মজুরিও খেয়ে দিতে হবে। তাই বুদ্ধি হলো গ্রাম থেকে আসার আইনে যার যার শ্রমিককে তার তার গার্মেন্টসে নেবেন না। তারা তখন বাধ্য হয়ে অন্য কারখানাতে যাবেন এবং নতুন বলে তাদের স্ট্যাটাস হবে গ্রামে ছুটিতে না যাওয়া শহুরে শ্রমিক। দেশে ডুব দিয়ে পানি খাওয়া শিল্পপতিদের সংখ্যা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ডুবে ডুবে জল খাওয়া সম্প্রদায় হলো আমাদের গার্মেন্টস মালিকেরা। প্রথম থেকেই তারা লকডাউনকে বিপদে ফেলেছেন। তবে আমরা আরও দেখছি, করোনাভাইরাস গরিব দুঃখী দেখে তেমন একটা ধরছে না এখনো। কোনো এক আশ্চর্য কারণে এটি এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশগুলোর সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরগুলোতে। এই নিয়ম আরেকটু এগিয়ে যদি ব্যক্তি হিসেবে ধরে অন্য কোনো ভাইরাস অন্য কোন সময়ে, তাহলে পৃথিবীর শ্রমজীবী মানুষ ঠকিয়ে সম্পদ পুঞ্জিভূত করা তাবৎ মহাজনেরা কোথায় যাবেন। ইতোমধ্যে করোনা জানান দিয়েছে পৃথিবীর সব সম্পদ দিয়েও মানুষের চিকিৎসা না হওয়ার গ্যারান্টি পৃথিবীতে এখনো আছে। সুতরাং ধনী হওয়ার আগে মানুষ হোন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত