প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভারতে ‘করোনা সন্ত্রাস’ নাম দিয়ে দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের ওপর

নিউজ ডেস্ক : [২] ভারতে কোভিড নাইন্টিন সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে দেশটির একটি মুসলিম গোষ্ঠীর ওপর। ক্ষমতাসীন হিন্দু-জাতীয়তাবাদি সরকার একে ‘করোনা জিহাদ’ বা ‘করোনা সন্ত্রাস’ বলে আখ্যায়িত করছে। মানবজমিন

[৩] বিজেপি নেতারা সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে কোভিড নাইন্টিন বিস্তারের আসল কারণ হিসেবে দিল্লিতে তাবলীগ জামাতের সম্মেলনকে দায়ি করে যাচ্ছেন। ফলে দেশটিতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ছে তাদের প্রতি সহিংসতা, ব্যবসা বয়কট ও ঘৃণামূলক মন্তব্যের ব্যবহার।

[৪] লন্ডনের ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ভারতে যত মানুষ কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্ত হয়েছেন তারমধ্যে প্রতি ৫ জনের একজনই ওই তাবলীগ জামাতের। দেশটিতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এই মহামারি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গত মার্চ মাসে প্রায় ৮ হাজার মানুষ রাজধানী দিল্লিতে জড়ো হয়।

[৫] পরবর্তীতে তারা সেখানেই অবস্থান করেন তিন দিন ধরে। সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ভাইরাস। এ নিয়ে ভারতীয় চিকিৎসক ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. অনন্ত ভান বলেন, শুধুমাত্র মুসলিমরা বড় ঝুঁকিতে আছে তা নয়। তারা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার ঝুকিও সৃষ্টি করছে। এটি একটি চক্রের মতো যা চলতে থাকবে।

[৬] তাবলীগ জামাত বলছে, হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা করায় তাদের সেখানে অবস্থান করা ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। তবে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেই সরকার ওই মসজিদে অভিযান চালায় এবং ভারতের কোভিড নাইন্টিন বিস্তারের সবথেকে বড় উপকেন্দ্রটি শনাক্ত করে। তাবলীগের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে ভারতীয় পুলিশ।

[৭] গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয় ২৯ জনকে। এরমধ্যে ১৬ জন বিদেশি নাগরিক। কিন্তু সত্যি ঘটনার বাইরেও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পরে যাতে মুসলিমদের ওপর ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতই দেশটিতে এর বিরুদ্ধে ‘করোনা জিহাদ’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার শুরু হয়। যা টুইটারে ট্রেন্ডিং ছিলো সে সময়ে। কিন্তু পরবর্তিতে প্রমাণিত হয় যে, ওই ভিডিও ছিলো ভুয়া।

[৮] এরইমধ্যে ভারতজুড়ে তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়েছে। হিমাচল প্রদেশে তাবলীগের সদস্যদের স্কুটিতে চড়ানো নিয়ে প্রতিবেশিদের চাপের মুখে পড়েন দিলশাদ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি। তারা অভিযোগ দেয়, দিলশাদ তাবলীগের লোকদের গ্রামে ঘুড়িয়ে সমগ্র গ্রামে মহামারি ছড়িয়ে দিতে চেয়েছে। কটাক্ষ শুনতে শুনতে তিনি শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।

[৯] তবে তাবলীগের কারণে মুসলিমদের ওপর এই দোষারোপের খারাপ দিক তুলে ধরেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের প্রধান ড. রনদ্বীপ গুলেরিয়া। তিনি বলেন, পুরো একটি সম্প্রদায়কে এই দোষারোপের ফলে ভারতে কোভিড নাইন্টিনে মৃত্যুর হার আরো বাড়ছে। দেশটিতে কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ মুসলিমরা। কিন্তু তারা সামাজিক চাপে পড়ার ভয়ে এর উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা নিতে আসছেন না।

[১০] ভারতে রয়েছে প্রায় ২০ কোটি মুসলিম যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ। তবে তাদের বেশিরভাগই দরিদ্র। ২০১৩ সালের জরিপ অনুযায়ী, তাদের মাথাপিছু দৈনিক আয় প্রতিদিন মাত্র ৩২.৬ রুপি। মুসলিমরা অর্থনৈতিক কারণে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। ২০০৬ সালের সরকারি জরিপ থেকে জানা যায়, ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামগুলোর মধ্যে ৪০ ভাগই চিকিৎসা সেবার আওতার বাইরে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত