প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]চৌগাছায় শ্রমিক সংকটে কৃষকের স্বপ্ন পূরণের আশঙ্কা

বাবুল আক্তার, যশোর প্রতিনিধি: [২] ধানের শীষগুলো পরিপক্ক রূপ নিয়েছে। কিন্তু পুরো ধানে এখনও পাক ধরেনি। কেউ কেউ এখনও সেচ দিচ্ছেন। যারা আগাম জাতের ধান চাষ করেছিল তাদের কেউ কেউ ধান কাটতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে চৌগাছার মাঠে মাঠে মৌ মৌ ঘ্রাণে সোনালী ধানের শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। পুরোদমে ধানের গোড়ায় কাস্তে চালাতে বড়জোর সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। সোনালী শীষে কৃষকের দোদ্যুল্যমান স্বপ্ন বাস্তাবায়নে বৈরী আবহাওয়া ও করোনা প্রাদুর্ভাবে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

[৩] উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ ১১ টি ইউনিয়নে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ৮’শ ২০, হেক্টর জমিতে। অর্জন হয়েছে ১৮ হাজার ৫’শ হেক্টর। সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৬ হাজার ৯’শ ২০ মেট্রিকটন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষ হওয়ায় ৪ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ধান বেশি উৎপাদন হওয়ার আশা করছেন কৃষি অফিস।

[৪] করোনার থাবায় বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন। থেমে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা। স্থবির হয়ে পড়েছে কর্মচঞ্চল মানুষের জীবনধারা। বন্ধ হয়ে গেছে সব ব্যবসা-বাণিজ্য। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এমন পরিস্থিতিতেও মাঠে কাজ করছেন কৃষক। করোনা আতঙ্ক এখনও গ্রামঞ্চলের কৃষককে থামাতে পারেনি। অর্থনীতির মেরুদন্ডকে মেরামতের কাজে ব্যস্ত তারা।

[৫] কথা হয় উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক আলী হোসেনে ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আবু সিদ্দিক ও আব্দুল হামিদসহ কয়েকজন চাষীর সাথে তারা বলেন, ‘এ বছরে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ধান পাকতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন পাবেন বলে আশা করছেন তারা। তবে বৈরি আবহাওয়ার করোনা প্রাদূর্ভাবে শ্রমিক সংকটে আশঙ্কার কথা জানালেন কৃষকরা। এসময় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মুল্যে ধান ক্রয়ের দাবীও করেন তারা।

[৬] উপজেলার কৃষি উপ-সহকারী কর্মককর্তা চাদআলী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কাটা নিয়ে প্রতি বছর কৃষক-শ্রমিকের বিপুল প্রস্তুতি থাকলেও এবারের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। এবার ধান কাটার চেয়ে বেশি মনোযোগী হতে হবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায়। ধান কাটার সময় একসাথে থাকা খাওয়া, একে অন্যের জিনিস ব্যবহার ও কৃষিযন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এবার সেভাবে চললে বিপদ হতে পারে। তাই নিজ নিজ উপকরণ ব্যবহার ও কৃষকদের নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

[৬] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই এই সমস্যা উপলব্ধি করে কৃষক ও শ্রমিকের যাতায়াতের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এবছর কৃষক-শ্রমিকের জন্য ক্ষেত থেকে শুরু করে সব জায়গায়, সব সময় হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক মাস্ক ও গামছা থাকতে হবে। কৃষিসরঞ্জাম ও উপকরণগুলো ব্যবহারের আগে-পরে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তা না হলে কৃষকের মুখে সুখের হাসি বিষাদেপরিণত হতে পারে । সম্পাদনা: ইস্রাফিল হাওলাদার

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত