প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহামারীকালে দেশে দেশে ব্যতিক্রমী রমজান

দেশ রূপান্তর : শুরু হয়ে গেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র মাস ‘রমজান’। অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এ বছরের রমজান মাস ব্যতিক্রম। মহামারী ঠেকাতে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ধর্মীয় উপাসনার স্থানগুলোতে লোকসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডা।

সাধারণত যেভাবে পালিত হয় রমজান

এবার ২৩ এপ্রিল থেকে রমজান শুরু হয়ে গেছে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত টানা এক মাস দিনের বেলায় খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূলস্তম্ভের একটি রোজা। রমজান মাসে যারা রোজা পালন করেন, তারা সুবেহ সাদিকের আগে আগে খাবার খেয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগ পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন।

পবিত্র এই রমজান মাসেই সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কাছে পবিত্র কোরআন শরিফ নাজিল হয়েছিল। রমজান মাসে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা শুধু খাদ্য ও পানি গ্রহণ করা থেকেই বিরত থাকে না, বিশেষ এই মাসটিতে তারা দৈনন্দিন জীবনাচরণের নানা অভ্যাসেও লাগাম টানেন ও গরিব দুস্থদের মধ্যে দান-খয়রাত বা জাকাত দেন। ইসলাম ধর্মের প্রধান পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে জাকাতও অন্যতম।

২০১৭ সালে পিউ রিসার্সে সেন্টার পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকায় বসবাসকারী প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম রমজান মাসে রোজা রাখেন।

আরবের মানুষরা প্রাকৃতিকভাবেই দিনের বেলায় প্রচণ্ড উত্তাপের মধ্যে বসবাস করে। তাদের কাছে রমজান মাসের বিশেষ তাৎপর্য হলো এই সময়টিতে ভালো কাজ এবং উপোস থাকার মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক উপায়ে সব পাপ ও কলুষতা মুক্ত হওয়া যায়।

রমজান মাসে প্রতিদিনের প্রধান দুটি খাবারের নাম হলো সাহরি ও ইফতার। সূর্যোদয়ের আগে খেতে হয় সাহরি ও সূর্যাস্তের পর খেতে হয় ইফতার। আর এই খাবারগুলো সাধারণত পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে একসঙ্গে গ্রহণ করে রোজাদার মানুষরা।

করোনাভাইরাসের সময়ে রমজান

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে যে আতঙ্ক ও দুর্দশা শুরু হয়েছে, তাতে অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এ বছরের রমজান মাসটি অনেকটাই ভিন্ন। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের মতো ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম স্থানগুলো এবার শূন্য পড়ে থাকবে। কারণ মহামারী ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ সবাইকে বাড়ির ভেতরেই ইবাদত-বন্দেগি করার পরামর্শ দিয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, মর্যাদার দিক দিয়ে ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ রমজান মাসে বন্ধ রাখা হবে।

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাতের বেলার তারাবি। এশার নামাজের পর বিশেষ এই নামাজে বিপুলসংখ্যক মুসলিম অংশ নেন। আর এই প্রার্থনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয় সাধারণত প্রত্যেকটি মসজিদে নির্ধারিত একজন ইমামের নেতৃত্বে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ‘ইয়াকিন ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক রিসার্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইমাম ওমর সুলাইমান সিএনএনকে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গেছে, তারাবির নামাজে মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছেলে-বুড়ো মিলিয়ে সাধারণ নামাজের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে মানুষ অংশ নেয়।’

তবে ইমাম ওমর সুলেইমান মনে করেন, রমজান মাসের বিশেষ এই নামাজ মসজিদ কিংবা বাড়ির ভেতর দুই জায়গায়ই পড়া যায়। এতে আল্লাহর নৈকট্য কিংবা সওয়াব লাভে কোনো তারতম্য ঘটে না।

মহামারীর এই কালে সংক্রমণ এড়াতে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ যখন বাড়ির ভেতরে বিচ্ছিন্ন সময় কাটাচ্ছে, তখন মুসলিমদের উদ্দেশে সুলেইমানের পরামর্শ হলো ‘আপনারা আলাদাভাবে প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। একাকিত্বকে ভেতরের শক্তিতে পরিণত করুন।’

‘ইয়াকিন ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক রিসার্চ’-এ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন ছাড়াও টেক্সাসে অবস্থিত সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটিতে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অধ্যাপনা করেন ইমাম ওমর সুলেইমান। সিএনএনকে তিনি আরও বলেন, ‘যদি আপনি সাধারণ মুসলিমদের বলেন, এ মুহূর্তে সত্যিকারের ভালোর জন্য আপনাদের উচিত আলাদা আলাদা প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে তোলা। তবে, এই পরামর্শটিকে সহজভাবে মেনে নিতে তাদের একটু কষ্ট হবে। কারণ তারা সাধারণত মসজিদে অনেকের সঙ্গে নামাজ পড়ে অভ্যস্ত।’

এদিকে, মহামারী ঠেকাতে বাড়ির ভেতরে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে একটি আশঙ্কাও রয়েছে ওমর সুলেইমানের। তার মতে, এভাবে নামাজ পড়ায় অনেকে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এতে একটি বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে ধর্মীয় আচার-আচরণে প্রভাব পড়তে পারে। যখন মসজিদে নামাজ পড়তে আর কোনো বাধা থাকবে না, তখন দেখা যাবে সেখানে মুসল্লির দেখা পাওয়াই যাচ্ছে না।

সুলেইমান বলেন, ‘নামাজের মধ্যে আরও কিছু ব্যাপার রয়েছে। যেমন একসঙ্গে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া, ঈদের নামাজ শেষে একে অপরকে আলিঙ্গন করা এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়া ধর্মীয় আচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই দিকটিতে ভাটা পড়ুক, আমি তা চাই না। রমজান মাসে সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে, এটা খুবই হতাশাজনক ব্যাপার। তবে, আমি চাই না যে, আমরা এমন কিছু করি, যা সবার জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে।’

রমজানের শেষে

রমজানের পর সওয়াল মাসের প্রথম দিনটি ঈদুল ফিতর। মুসলিমদের কাছে বিশেষ এই দিনটি বিপুল তাৎপর্যপূর্ণ। বলা যায়, এই দিনটি হলো মুসলিমদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মুসলিমদের রোজা রাখার মাসটি শেষ হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সামাজিকভাবে মানুষ আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। একে অপরকে নিমন্ত্রণ করে। গরিব-দুঃখীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করে।

ঈদুল ফিতরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এদিন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা একটি বড় জায়গা কিংবা মসজিদে সমবেত হয় ঈদের নামাজ পড়ার জন্য। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমরা ছাড়াও অপ্রাপ্তবয়স্করাও এই নামাজে উৎসাহের মধ্য দিয়ে অংশ নেয়। সকালবেলায় সাধারণত মিষ্টিজাতীয় খাদ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতরের দিনটি শুরু হয়। কারণ, প্রায় এক মাস পর তারা আবার সকালবেলায় কিছু খেতে পারছে।

এই দিনটিকে কেন্দ্র করে অনেক উপহার আদান-প্রদানেরও ব্যাপার থাকে। বিশেষ দিনে পড়ার জন্য অনেকে আগে থেকেই নতুন জামা-কাপড় কিনে রাখেন। মূলত এক মাসজুড়ে রোজা রাখার পর একটি আধ্যাত্মিক নবজন্মকে স্বাগত জানাতেই সবাই নতুন কাপড় পড়ে এবং পরিশুদ্ধ অনুভূতি লাভ করে।

ঈদের দিনের প্রধান খাবারটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদিন সমাজের অন্যান্য মানুষ, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে অনেকেই মুখরোচক খাবার গ্রহণ করেন। তবে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঈদের দিনটি কীভাবে উদযাপন করা হবে, তা নিয়ে এখনো কোনো দেশ সিদ্ধান্ত নেয়নি।

তাজিকিস্তানে রোজা না রাখার পরামর্শ

রমজান মাসে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে যেখানে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, সেখানে তাজিকিস্তান আরও একধাপ এগিয়ে। মুসলিমপ্রধান তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবার রোজা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তার দেশের নাগরিকদের। মূলত মহামারীর এই কালে সংক্রামক ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতেই এ আহ্বান জানানো হয়। যদিও পৃথিবীর গুটি কয়েক দেশের একটি হিসাবে তাজিকিস্তানে এখনো কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেনি।

রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে এক বক্তব্যে তাজিক প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাখমন বলেন, ‘রোজা রাখা সংক্রামক রোগগুলোর ক্ষেত্রে ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’ এ ক্ষেত্রে যারা কৃষিকাজ এবং কায়িক শ্রমের সঙ্গে জড়িত আছেন, তাদের এ বছর রোজা না রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন প্রেসিডেন্ট।

প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে ইস্যু করা এক বিবৃতিতে করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে ইমোমালি বলেন, ‘এই রোগে সংক্রমিত কোনো মানুষ এখনো আমাদের দেশে নেই, এর মানে এই নয় যে, রোগটি নিয়ে আমাদের গা ছাড়া ভাব থাকবে এবং হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকব।’

ইমোমালি জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি ইসলামিক স্কলারদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার বর্ণনা মতে, রোজা রাখা এই বিরুদ্ধ সময়ে কৃষক, গবাদিপশু পালক ও যারা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই, যারা মাঠেঘাটে কাজ করছেন, তাদের বরং অন্য কোনো সুবিধাজনক সময় বেছে রোজা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

তাজিকিস্তানের মতো মুসলিমপ্রধান দেশ তুর্কমিনিস্তানেও এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো মানুষকে শনাক্ত করা হয়নি। যদিও দেশটি করোনাভাইরাস শনাক্ত করার কিট এবং এর চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রমজান প্রস্তুতি

রমজান মাস সামনে রেখে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো আরও জোরদার করেছে বাহরাইন। এ ক্ষেত্রে দেশটির লকডাউন পরিস্থিতি ২৩ এপ্রিল থেকে আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে ৭ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে দেশটির সব সিনেমা হল, স্পোর্টস সেন্টার, ব্যায়ামাগার ও সেলুনগুলো বন্ধ থাকবে। দেশটি ঘোষণা করেছে, রমজান মাসে দেশটির প্রধান মসজিদ আল-ফাতেহ মসজিদে যে তারাবি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে ইমামসহ আর কেবল পাঁচ ব্যক্তি অংশ নিতে পারবেন।

তবে, রমজান মাস উপলক্ষে রাতের বেলায় কারফিউকে একটু শিথিল করেছে মিসর। করোনাভাইরাস ঠেকাতেই দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান মাসে দেশটির দৈনন্দিন কারফিউ এক ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হবে। আগে যেমন কারফিউ শুরু হতো, রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত। এখন কারফিউ শুরু হবে রাত ৯টা থেকে। তবে, একসঙ্গে হয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বলবৎ থাকবে।

রমজান উপলক্ষে ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর ও গাজায় আলাদা নিয়ম জারি থাকবে। দেশটির হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগী নথিভুক্ত না হওয়ায় সেখানে রমজান মাসে কোনো লকডাউন থাকবে না। তবে, পশ্চিমতীরের অবস্থা এ ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন। সেখানে রাষ্ট্র নির্ধারিত জরুরি অবস্থা রমজান মাসেও জারি থাকবে এবং স্কুল-কলেজ, জনসমাগম কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ও মসজিদগুলো বন্ধই থাকবে। বন্ধ থাকবে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদও। ১৪০০ বছরের ইতিহাসে এবার প্রথমবারের মতো বন্ধ রাখা হবে এই মসজিদটি।

রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন শহরে জারি থাকা কারফিউ কিছুটা শিথিল করবে সৌদি আরব। এ ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকরা তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনাকাটায় আরও বেশি সময় পাবে। করোনাভাইরাস ঠেকাতে সেখানে ২৪ ঘণ্টা কারফিউ জারি ছিল। শুধু চিকিৎসাকেন্দ্র ও সুপারমার্কেটগুলো সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা ছিল। রমজান উপলক্ষে এই সময়সীমা পরিবর্তন করে চিকিৎসাকেন্দ্র ও সুপারমার্কেটগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ফলে তারাবির নামাজ সৌদি নাগরিকদের বাড়ির ভেতরেই পড়তে হবে।

তুরস্কের ৩০টি বড় প্রদেশে ২৩ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন করে চার দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলো সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে। রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে থাকা তুর্কি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি। প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫৯ দেশ থেকে প্রায় ২৫ হাজার তুর্কি নাগরিককে রমজান শুরুর আগেই দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রমজান শুরুর আগের দিনও কানাডা থেকে ৩৪৯ জন ও ওমান থেকে ২৪৯ জন তুর্কি নাগরিক দেশের মাটিতে পা রেখেছে। তবে, দেশে প্রত্যাবর্তন করা সব নাগরিককেই বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ।

রমজান উপলক্ষে কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও। দেশটিতে কারফিউয়ের সময় দুই ঘণ্টা কমানো হয়েছে। রমজান মাসে দেশটিতে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকবে। এর আগে দেশটিতে রাত ৮টা থেকেই কারফিউ জারি ছিল। দুবাইয়ের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। দুবাই শহরে করোনাভাইরাস ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টাই কারফিউ জারি করা হয়েছিল। তবে, স্থানীয় সূত্র মতে, সেখানে রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য মলগুলো আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রমজান মাসে দুবাই শহরে একসঙ্গে ১০ জনের বেশি মানুষের একত্র হওয়ায় নিষেধাজ্ঞাসহ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ এখনো বলবৎ আছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত