প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভারতীয়দের ইসলাম-বিদ্বেষী মন্তব্যে আমিরাতের রাজকুমারীর ক্ষোভ প্রকাশ

ইয়াসিন আরাফাত : [২] করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে ভারতে মুসলিমদের অন্যায়ভাবে আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছে। অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক কোঅপারেশন বা ওআইসি। পাশাপাশি কোনও কোনও ভারতীয়র মুসলিম-বিদ্বেষী মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরাও।

[৩] সম্প্রতি আমিরাতের এক রাজকুমারী হেন্দ আল কাসিমি সে দেশে কর্মরত এক ভারতীয় হিন্দুর বেশ কিছু আপত্তিকর ও মুসলিম-বিরোধী টুইটের স্ক্রিনশট দিয়ে তাকে হুঁশিয়ারি দেন, যে দেশে রুটিরুজি কামাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালে সেটা কিন্তু উপেক্ষা করা হবে না।

[৪] চলতি সপ্তাহে এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হেন্দ আল কাসিমি বলেন, ওই ব্যক্তি যেভাবে ইসলামকে নিয়ে বিদ্রূপ করেছে এবং ১৪০০ বছরের প্রাচীন এক ধর্মকে গাধাদের ধর্ম বলে গালি দিয়েছে তা মেনে নেয়া যায় না।

[৫] এসময় তিনি আরও বলেন, আমিরাতকে গড়ে তোলার পেছনে ভারতীয়দের অবদানকে আমরা সম্মান করি, তাদেরকে পরিবারের অংশ বলে মনে করি। তবে আমি লজ্জিত যে একজন ভারতীয় এমন কথা বলতেও পারেন।

[৬] এ বিষয়ে সৌদি আরবের প্রভাবশালী ইসলামী বিদ্বজ্জন শেখ আবিদি জাহারানি তার এক টুইট বার্তায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও গাল্ফে কর্মরত যে উগ্রবাদী ভারতীয়রা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন তাদের অবিলম্বে দেশে ফেরত পাঠানো দরকার।

[৭] ইসলামী দেশগুলোর জোট ওআইসি-র মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকেও ১৯ এপ্রিল টুইট করা হয়, কোভিড-১৯ ছড়ানোর জন্য ভারতে যেভাবে মুসলিমদের ঢালাওভাবে দায়ী করা হচ্ছে এবং মিডিয়াতে তাদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে তা চরম নিন্দনীয়।

[৮] ইসলামী বিশ্বের দিক থেকে এই লাগাতার আক্রমণের মুখে ভারতকেও এখন আত্মপক্ষ সমর্থনে নামতে হয়েছে। তবে ভারতে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের প্রধান ঘায়োরুল হাসান রিজভি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ার পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মুসলিম থাকেন ভারতে এবং এখানে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

[৯] তিনি বলেন, ভারতে মুসলিমরা নামাজ-রোজা থেকে শুরু করে সব ধর্মীয় আচার নির্বিঘ্নে করতে পারেন, যা সিরিয়া-ইরাক-আফগানিস্তানেও ভাবা যায় না। ‘আমি তো বলব, হিন্দুস্তান মুসলমানদের জন্য এক ‘জান্নত’ বা স্বর্গ। ভারতের ক্যাবিনেট মন্ত্রী মুখতার আব্বস নাকভিও ঠিক একই সুরে বক্তব্য দেন।

[১০] আর ওদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের রাষ্ট্রদূত পবন কাপুর এক টুইট বার্তায় সে দেশে থাকা ভারতীয়দের মনে করিয়ে দেন, ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা ভারতের নৈতিকতা ও আইনের পরিপন্থী। সেই সাথে কোবিড-১৯ কোনও জাতি-বর্ণ-ধর্ম দেখে আঘাত হানে না, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বক্তব্যও রিটুইট করেন তিনি।

[১১] তবে ভারতের সিনিয়র জার্নালিস্ট রাহুল সিং মনে করছেন, ইসলামী দেশগুলোর ওই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানোর আসলে সঙ্গত কারণ আছে। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘যখন এতগুলো মুসলিম দেশ ভারতের মুসলিমদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাতে আমাদের সত্যিই বিচলিত হওয়া দরকার। আর এটা তো শুধু করোনাভাইরাস নিয়েই নয়, এই পরিবেশটা ধীর ধীরে গড়ে উঠেছে, তাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে, বিফ নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে রাস্তায় আটকানো হয়েছে। এই ঘটনাগুলো তো আমরা অস্বীকার করতে পারি না।

[১২] ভারতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার প্রায় সাথে সাথে যে ইসলামোফোবিয়ার ঝড় শুরু হয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের অনেক বন্ধু দেশও তা ভাল চোখে দেখেনি, এটা পরিষ্কার। এখন ভারতের ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় কতটা কাজ হয়, না কি এর ফলে দুপক্ষের সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরে, সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র : বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত