প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গরীবের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে মেম্বারের বিরুদ্ধে

এইচএম দিদার : [২] কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত ১০টাকা মুল্যের ভিজিএফ এর চাল আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও ডিলারের বিরুদ্ধে।

[৩] এ ঘটনায় বরাদ্দকৃত চাল না পাওয়া ব্যক্তিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসালাম খান এর নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

[৪] জানা যায়, “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ-ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” এ স্লোগানকে সামনে রেখে গ্রামের হতদরিদ্র লোকজনের মাঝে ১০ টাকা মুল্যের জনপ্রতি ৩০ কেজি চাল বিতরণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ চাল বিতরণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান মাইন উদ্দিন আহম্মেদ। এ ইউনিয়নে ৬৯৮ জন হতদরিদ্র পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ওই ডিলারের আওতায় ২৯৬ টি কার্ডধারীর মধ্যে অর্ধশতাধিক কার্ডধারী গত কয়েক বছরে একবারের বেশি চাল পায়নি বলে অভিযোগ করেন।

[৫] সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ইউনিয়নের গোলাপেরচর গ্রামের কার্ডধারী মোর্শেদা বেগম, জাহাঙ্গীর ও সখিনা বেগম (কার্ড নং-১০৭) জানান,” তিন দিন আগে কাদির মেম্বার বাড়ীতে কার্ড দিয়ে গেছে। কার্ডে দেহি অনেকবার চাল উঠানোর টিপসই। এগুলো আমাদের টিপসই না। আমরাতো একবার পাইছি। প্রথম যখন চাল পাই তখন ডিলারের কাছে কার্ড চাইলে বলে মেম্বার নিয়ে গেছে। আর মেম্বারের কাছে চাইলে বলে কার্ড দিয়ে কি করবি, চাল আসলে আমি খবর দিবো।”

[৬] রহিমা বেগম নামের আরেক নারী বলেন, “আমি ৪ বছরে শুধু ২ বার ১০ টাকা দামের চাউল পাইছি। বাকি চাউল ডিলার আমাকে দেয়নি। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।”

[৭]চেঙ্গাকান্দি গ্রামের সমাজসেবক আল আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে তারা গরিব লোকজনের আহার কেড়ে নিচ্ছে। এসব চালচোরদের বিচার হওয়া দরকার।

[৮] ডিলার মাইন উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শুরু থেকেই মেম্বাররা আমার কাছ থেকে কার্ড নিয়ে গেছে। চাল বিতরণের সময় তারা(মেম্বার) লোকজন নিয়ে আসে এবং চাল নিয়ে যায়। কিছু কার্ডে মেম্বররা একজনের নাম কেটে আরেকজনের নাম ছবি লাগাইছে। তালিকার সাথে মিল না থাকায় আমি দিতে চাইনি।”

[৯] কাদির মেম্বার (২নং ওয়ার্ড) অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, “চাল আসলে ডিলার আমাদেরকে ডেকে কার্ড বিতরণের জন্য দেয়। আমরা ঘরে ঘরে কার্ড পৌছে দেই। এখানে অনেকেই টাকার জন্য চাল আনতে পারে না, কয়েকজনকে আমি নিজে টাকা দিয়েছি চাল আনতে। আমি কোন চোর বাটপার না, জনগনের ভোটে মেম্বার হইছি। আমার নামে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনে যে বিচার , তা মাথা পেতে নেব। তবে আমি মেম্বার হওয়ার পর থেকে কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে একটার একটা ষড়যন্ত্র করেও কোন কিছু পাচ্ছে না। তাই এখন নতুন করে চাল খাওয়ার বদনাম করছে।”

[১০] ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. আব্দুস সালাম বলেন,” আমার ইউনিয়নের ৬৯৮ পরিবার ১০ টাকা দামের চাল ক্রয়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন। গোলাপেরচর ও চেঙ্গাকান্দি এলাকার অন্তত ৬০ জন সুবিধাভোগী নারী-পুরুষ আমার কাছে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করে। সাথে সাথে আমি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করি। ইতিপূর্বে এলাকার কয়েকজন ভূক্তভোগী এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।”

[১১] উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, “ভূক্তভোগীদের অভিযোগ হলো মেম্বারের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত