প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব নেবেন, বেসরকারিদের নয়?

আলী রীয়াজ : করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দিতে চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে যেসব সরকারি কর্মচারী কাজ করছেন, তাদের বিমাসুবিধার পরিবর্তে সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে প্রথম আলো। আগে যে বীমা ব্যবস্থা চালু করার কথা ছিলো সরকারের এই নতুন প্রস্তাবে তা বাদ দেয়া হয়েছে; তার বদলে তারা পদমর্যাদা অনুযায়ী অর্থ পাবেন। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, যাঁরা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরাই এ সুবিধার আওতাভুক্ত থাকবেন বলে প্রস্তাবে আছে। দায়িত্ব পালনের কারণে যারা আক্রান্ত হবেন বা মারা যাবেন তারা এই সুবিধা পাবেন। পদমর্যাদা অনুযায়ী আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণকারীদের অর্থ প্রদানের ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণ এই মহামারীর সময়েও সমাজে যে পদসোপান বা হায়ারারর্কি আছে তাই আবারো তুলে ধরছে। এ ক্ষেত্রে যারা সেবা দিচ্ছেন তাদের সেবা দানের ধরনের ভিত্তিতে বা যারা ফ্রন্টলাইনে আছেন তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে কিংবা সকলের জন্যে একই পরিমাণের অর্থ দেয়ার কথা সরকার বিবেচনা করতে পারে। এটি বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া দরকার।
এই প্রস্তাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে সেটি উদ্বেগ তৈরি করে এবং অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা দরকার। এখানে বলা হয়েছে, ‘সরকারি হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া কোনো চিকিৎসক, নার্স বা কর্মী আক্রান্ত হলে বা মারা গেলেও সরকারি এ আর্থিক সুবিধা পাবেন না’। এই মহামারী মোকাবেলায় সরকারি হাসপাতলের অপ্রতুলতা বিবেচনা করে প্রাইভেট হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের যুক্ত করা দরকার ছিলো। সেটা করা হয়নি। গত ১ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিসিডিও) সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া ইত্তেফাককে জানিয়েছিলেন যে তারা সেবা দিতে প্রস্তত ‘আড়াই মাস আগেই সরকারের কাছে আমরা করোনা রোগীদের সেবা দিতে আগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পিপিই দেওয়া হয়নি’। অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, দেশে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে ১৪ হাজার। এসব হাসপাতালে ৮০ হাজার বেড রয়েছে। ৮৮ হাজার ডাক্তার এসব হাসপাতালে সেবা প্রদান করেন। এর মধ্যে ২৮ হাজার সরকারি ডাক্তার, বাকি ৬০ হাজার বেসরকারি ডাক্তার। যদিও মনিরুজ্জামান বলেছেন যে বেসরকারি হাসপাতালগুলো কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেয়নি, কিন্তু এই ধরণের অভিযোগ আছে যে রোগীরা চিকিৎসাবঞ্চিত হয়েছেন। যেহেতু স্বাস্থ্য কর্মীদের পিপিইর অভাব সেহেতু তারা সাবধানতা অবলম্বন করেই এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলেও অনুমান করা যায়। কিন্তু এখন বেসরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা যারা এই মহামারী মোকাবেলায় এগিয়ে আসছেন তাদের কোনো রকম দায়িত্ব সরকার নিতে রাজি নয় এই ধরনের প্রস্তাব মোটেই তাদের অনুপ্রাণিত করবে না। এর প্রতিক্রিয়া একধরনের বিভক্তি তৈরি করবে। যেখানে বিভিন্ন দেশে এই মহামারী মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টাকে এক সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে এমন কি অবসর প্রাপ্তদের ডেকে নিয়ে, ক্ষেত্রে বিশেষে স্বেচ্ছাসেবীদেরকে সাথে নিয়েই সবাই এগোচ্ছেন। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত যথাযথ নয়; যেখানে দরকার সব স্বাস্থ্যকর্মীকেই আশ্বস্ত করা যে তাদের পাশে সবাই আছেন, সেখানে সরকারের এই প্রস্তাব খুব ভালো বার্তা দেয় না। এখন ফ্রন্ট লাইন কর্মী সরকারি বা বেসরকারিতে কোনো ভেদাভেদ নেই সেটাই বরঞ্চ বলা দরকার। এই ধরনের সিদ্ধান্ত খুব বিবেচনাপ্রসূত মনে করার কারণ দেখি না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত