প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৯৯ শতাংশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণপন চেষ্টা থাকে বলে বিশ^াস আমার

আব্দুল হাই সঞ্জু : আমি বিশ্বাস করি, চিকিৎসকদের মধ্যে রোগীদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা মাদকাসক্তির মতো কাজ করে। কারণ এই কাজটিই তারা সারাজীবন শিখেন এবং করেন। অন্তত ৯৯ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তারের মধ্যে এই আসক্তি কাজ করে বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। করোনাভাইরাসের মহামারির এই সময়ে রোগীদের পাশে দাঁড়ালে ডাক্তারদের পুরস্কৃত করা হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এমন ঘোষণা না দিলেও ডাক্তাররা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া অব্যাহত রাখবেন। কারণ মানুষকে সুস্থ করে তোলার চেতনা তাদের ডিএনএ-এর বাড়তি বৈশিষ্ট্য। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা যদি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক আর ল্যাবের মালিকদের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তাহলে ঠিক আছে। কারণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যার মৌলিক সমস্যা এখানেই। এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় কেবল কতিপয় মুনাফালোভী ডাক্তার নন, তাদের সঙ্গে থাকেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মানবতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে চিকিৎসা পাওয়ার মতো মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত করেন দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে। তাই দেশের এই দুঃসময়ে চিকিৎসকদের ঢালাওভাবে দোষারোপ না করে তাদের পাশে দাঁড়ান। সমালোচনা করেন ভারসাম্যপূর্ণভাবে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পিপিই যাতে সরবরাহ করা হয়, এই আন্দোলনে সরকারকে চাপে রাখতে ডাক্তারদের/স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে থাকুন।
আর মহামারি চলে গেলে মহামারির বাস্তবতা থেকে লব্ধ শিক্ষা কাজে লাগান। মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন আর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনকে জাতীয় রাজনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ও আইন প্রণয়নে টেবিল চাপড়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরুন। মহামারি-উত্তর সময়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে মানবতার নীতিকে সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রয়োগের আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। আমার বিশ্বাস, এই আন্দোলনে অধিকাংশ ডাক্তার একাত্মতা প্রকাশ করবেন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত