প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হয় কঠোর লকডাউন, অথবা কাজের সুযোগ দিন

মঞ্জুরুল আলম পান্না : লকডাউন আর কতোদিন? এ প্রশ্ন ভাবিয়ে তুলেছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধানকে। মার্কিন এক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, কোনো দেশ যদি টানা তিন সপ্তাহ কঠোর লকডাউনের মধ্যে থাকে তবে করোনা মহামারিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চার সপ্তাহ লকডাউনে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব অনেকখানি। আর ছয় সপ্তাহর কঠোর লকডাউনে রাখা গেলে করোনা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তায় থাকা যেতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতালি, স্পেনের অবস্থা ভয়াবহ হলেও গত কয়েকদিনে মৃত্যুর হার নামতে শুরু করায় লকডাউন আংশিক তুলে নেওয়া হয়েছে। কারণ থুবই স্বাভাবিকÑ আর্থিক বিপর্যয় সামাল দিতে না পারার আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুর পরও অর্থনৈতিক ধসের কথা চিন্তা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা বলছেন বারবার, যদিও তা নির্ভর করছে রাজ্য গভর্নরদের উপর। সবচেয়ে বড় কথা তারা যে কদিনই লকডাউন বহাল রাখুক না কেন তা ছিলো অত্যন্ত কঠোরভাবে।
বাংলাদেশে ২৬ মার্চ থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় লকডাউন। তারপর তা কয়েক দফায় বাড়ানো হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে শুরু থেকেই। একবাক্যে বলা যায় যে লকডাউন বলতে যা বোঝায় তার কিছুই এখানে কার্যকর হয়নি। সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে এক্ষেত্রে যেমন দায়ী করা যায়, একইসঙ্গে বলতে হবে প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা। কিছু শহরাঞ্চল ছাড়া অন্যান্য স্থানে মানুষকে আটকে রাখা যায়নি ঘরে। করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে তার নিজ গতিতে। উল্টো অফিস-আদালত-ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভর করেছে সর্বত্র। নি¤œ আয়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে বিভীষিকা। বাইরে কাজ থাকুক আর না থাকুক রোজগারের আশায় তারা নেমে আসতে শুরু করেছেন পথে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বিভিন্নস্থানে। মানুষের জন্য তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করা গেলেই কেবল লকডাউন সফল হবে। এ কথা অর্থনীতিবিদরা বলে এলেও সরকার তা নিশ্চিত করতে পারেনি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসি এবং বিআইডিজি’এর যৌথ জরিপ বলছে, শহরে এরই মধ্যে ৭১ শতাংশ এবং গ্রামের ৫৫ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ব্রাকের গবেষণায় উঠে আসে নি¤œ আয়ের ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে খাওয়ার না থাকার কথা। পিপিআরসি এবং বিআইডিজি বলছে, সরকারের প্রথাগত ত্রাণসহায়তার বাইরে এসে এসব মানুষের জন্য জরুরি সহায়তার কথা। তার জন্য এক মাসে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার হিসাব দিয়েছে সংস্থা দুটি। এ হিসাবে তিন মাসের বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা কি সরকারের জন্য অসম্ভব কিছু? খোলাবাজারে ১০ টাকা মূল্যের চাল আর ত্রাণের ব্যবস্থা সরকার করেছে ঠিকই, কিন্তু তাও কপালে জুটছে না সবার। অপর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে চরম অব্যবস্থাপনায়। এই দুর্যোগের মধ্যেও অনেক স্থানে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে দলীয় পরিচয় দেখে। ওএমএস আর টিসিবির চাল, ডাল, তেল চুরির একের পর এক ঘটনায় বিস্মিত প্রতিটি মানুষ। এ অবস্থায় নিরন্ন মানুষ ঘরে বসে থাকবেন কেমন করে? লকডাউনওবা সফল হবে কীভাবে? ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে লকডাউন শব্দটাই হয়ে উঠেছে অর্থহীন। উল্টো ভয়ানক ক্ষতিটা নেমে আসছে অর্থনীতিতে। আধাআধি করে কোনো কিছুতে লাভ নেই। সরকারি হিসেবে করোনা আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান প্রতিদিনের, তাতে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কঠোর বিধি নিষেধে লকডাউন দীর্ঘায়িত করার বিকল্প নেই। আর তা না করা সম্ভব হলে লকডাউন তুলে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে দৈনন্দিন জীবনে। মানুষকে খেটে খাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। সচল করা হোক অর্থনীতির চাকা। বেছে নিতে হবে যেকোনো একটি। লেখক : সাংবাদিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত