প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় ঘর পেলেন কাচুয়ানী বেওয়া নি:সন্তান ৭০ বছরের সেই বৃদ্ধা

বিপ্লব বিশ্বাস : [২] হতদরিদ্র নিঃসন্তান গৃহহীন কাচুয়ানী বেওয়াকে (৮২) ঘর নির্মাণ করে দিয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখালেন পুলিশ কর্মকর্তা আহসান খান।

[৩] বিগত ২৩ বছর আগে ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে ভিটে মাটি হারিয়ে ভিক্ষা করে জীবন চলতো কাচুয়ানী বেওয়ার। শেষ আশ্রয় হয় জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বালারচর গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর ভাগ্নে আব্দুস সামাদের দেওয়া একটি ঝুপড়ি ঘরে।

[৪] ভিক্ষা করার সময় গত ৪ বছর আগে আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় হাঁটা-চলার শক্তি হারিয়ে ফেললে ভিক্ষা করাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অসুস্থ অবস্থায় ঝুপড়ি ঘরে বসে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম জীবন কাটছিল তার। চিকিৎসা ও খাবার সংকটে নির্ঘুম রাত কেটেছে। গরমের দিনে ঝুপড়ি ঘরের বেড়ার ফাঁক গলিয়ে হালকা বাতাস পেলেও শীতের দিনে ছিল না শীতবস্ত্র। বৃষ্টির সময় ঝুপড়ির চাল দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যেত সবকিছু। এ ছাড়া সরকারের দেওয়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতাও জোটেনি তার কপালে।

[৫] অসহায় বৃদ্ধা কাচুয়ানী বেওয়ার এমন দুর্বিসহ জীবন কাহিনি গত ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সামাজিক যোগাযোগ এর মাধ্যম ও কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রচারে। সমালোচনার পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন অনেকে।

[৬] খবরটি পুলিশ কর্মকতা ডিবি ডিমপির এডিসি মো. আহসান খানের নজরে আসেলে তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের উলিপুর প্রতিনিধি এর মাধ্যমে প্রথমে ১৫ দিনের খাবার পৌঁছে দেন। এরপর ওই কর্মকর্তা গত শুক্রবার একই প্রতিবেদকের মাধ্যমে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা দিয়ে একটি টিনসেড ঘর ও থাকার বিছানাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাচুয়ানী বেওয়ার কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

[৭] সেখানে উপস্থিত অনেকেই বলেন, মানবিকতার এমন দৃষ্টান্ত খুবই কম। সমাজের বিত্তবান মানুষেরা যদি এমন একটি করে গৃহহীন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে আর গৃহহীন কোনো মানুষ থাকবে না।

[৮] নতুন ঘর পেয়ে কাচুয়ানী বেওয়া আবেগ্লাপুত হয়ে বলেন, আল্লাহ তোমার ভালো করবে।
আব্দুস সামাদ বলেন, স্যার (ডিবির কর্মকর্তা) আমার মতো গরিব মানুষের উপকার করলেন। আমি সারাজীবন তার জন্য দোয়া করব আল্লাহ যেন তাকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে তাদের।

সর্বাধিক পঠিত