প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ‘টেটা’ লড়াই : ফারুকী

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] দেশের গুণী নির্মাতাদের একজন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও নাট্য নির্মাতা। শোবিজ অঙ্গনের পাশাপাশি গুণী এই নির্মাতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও বেশ সরব। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্ট্যাটাস দিয়ে থাকেন। ইতিমধ্যেই ফারুকী করোনাভাইরাস নিয়ে একাধিকবার লিখেছেন ফেসবুকে। এবার আবারও তিনি করোনা প্রসঙ্গে নিজস্ব মন্তব্য তুলে ধরেছেন তার ফেসবুকে।

[৩] ‘এলাহী ভরসা’ শিরোনামে এই নির্মাতা লিখেছেন, ‘আমিও আশাবাদী হতে চাই। আশা করতে চাই প্যানডেমিক-পরবর্তী দুনিয়ায় মানুষ বদলে যাবে। কালকে রাতেও আমি আশাবাদীই ছিলাম। কিন্তু আজকে সকাল থেকে আবার নৈরাশ্যবাদ আমারে ধরছে। এটা অবশ্য পার্মানেন্ট কিছু না। কালকের আগের রাতে আবার নৈরাশ্যবাদী ছিলাম। এইভাবে আল্লাহ তায়ালা আমারে আশা আর নৈরাশ্যের মধ্যে ঝুলাইয়া দিছে। আর আমি পেন্ডুলামের মতো ঝুলতে আছি।’

[৪] করোনাভাইরাসের জন্য একদল অন্য দলকে দায়ী করছে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘আশাবাদী হবো বলে আমি জনতার দিকে তাকাইছিলাম। দেখি বঙ্গদেশে একদল মানুষ, করোনার জন্য দায়ী করতেছে মেয়েদের হিজাব না পড়াকে আর হিন্দুস্তানে আরেক দল মানুষ করোনার মূল কারণ হিসাবে সাব্যস্ত করছে মেয়েদের হিজাব পড়াকে। একইভাবে অন্য দেশে কেউ কেউ চার্চে না যাওয়াকেই করোনার মূল কারণ হিসাবে সাব্যস্ত না করার কোনো কারণ দেখতেছি না।’

মজার ছলে ফারুকী লিখেছেন, ‘একদল বলতেছে, এই ভাইরাস চাইনিজ। আরেকদল বলতেছে, এটা মার্কিন সেনাবাহিনী বানিয়ে নিয়ে এসেছে চীনদেশে। ভাগ্য ভালো, কেউ বলে নাই এটা সাবিলা নুর বানাইছে।’

[৫] এছাড়াও ফারুকী লিখেছেন, ‘কেউ বলছে, এটা আল্লাহর বিচার। কেউ বলছেন, ভগবানের আর কেউবা বলছে গডের। এটা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনটেন করে চলতেছে “টেটা লড়াই”! “টেটা” মানে যদি না বুঝে থাকেন তাহলে খেয়াল করাইয়া দিবো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মারামারির কথা। ওইখানে তারা যে লম্বা লম্বা ধারালো অস্ত্র ইউজ করছিলো ওটার নামই টেটা। এই রকম দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান টেটা লইয়া লাটিমের মতো ঘুরতে আছে যে মানবকুল তাদের লইয়াইতো আমরা নতুন পৃথিবী গড়বো, নাকি?’

[৬] সবশেষে এই নির্মাতা জানান, এই লেখার সূত্রপাত অরুন্ধতী রায়ের প্যানডেমিক নিয়ে আলোচনা থেকে। অরুন্ধতী রায় আমার প্রিয় লেখক এবং অ্যাক্টিভিস্টদের একজন। উনি বলতেছিলেন আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা অতীতের দুনিয়ার অকেজো চিন্তা, ঘৃণা, মৃত নদী, ধোঁয়াচ্ছন্ন আকাশ ইত্যাদি নিয়ে প্যানডেমিক-পরবর্তী নতুন দুনিয়ায় ঢুকবো কিনা। নাকি এগুলো পিছনে ফেলে একেবারে ঝাড়া হাত-পা হয়ে ঢুকে নতুন পৃথিবী বানাবো। ইঙ্গিত এই রকম যে, ওই নতুন দুনিয়ায় থাকবে না প্রকৃতির উপর নিষ্ঠুরতা, লোভী উন্নয়ন, ঘৃণার সংস্কৃতি ইত্যাদি। আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত