প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আল-গাফুর, আল্লাহর মহান এক নাম

যুগান্তর : [২] মহান আল্লাহর সুমহান যেসব নাম রয়েছে, তন্মধ্যে আল-গাফুর, আল-গাফফার ও আল-আফূ অন্যতম। তিনি বান্দার কৃত গুনাহকে ক্ষমা করেন, মাফ করেন। ক্ষমা করা তার মহান গুণাবলীর একটি।

[৩] আজ আমাদের মাঝে আপতিত অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা কিংবা কষ্ট-যাতনা, এসব কিছু আমাদের গুণাহ কিংবা কৃত আমলের ত্রুটির কারণে।

[৪] আমরা যদি আমাদের জীবন্ত হৃদয় দিয়ে, অন্তরকে তাওবার চাদরে আবৃত করে, কায়মনোবাক্যে তার কাছে ক্ষমা চাই, অবশ্যই তিনি আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। নিজের হৃদয়, অন্তর ও জবানকে এক করে বান্দাহ যখন ক্ষমা চায়, নিঃসন্দেহে তিনি বান্দাকে মাফ করে দেন।

[৫] দেখুন না! তিনি কতোভাবে, কতো উপায়ে তার বান্দাহকে ক্ষমা করেন। ইস্তেগফার, তওবা এবং নেক আমলের মাধ্যমে তিনি তার বান্দাহর গুণাহ মার্জনা করেন। তিনি আল্লাহ! তিনি গফুর! তিনি ক্ষমা করেন। ক্ষমা তার মহৎ গুণ।

[৬] দুই ফরজ নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে, দুই ওমরার মাঝের সময়টুকু, এক রমজান হতে অন্য রমজান পর্যন্ত সময় এবং এক হজ শেষে আগত অন্য হজের মধ্যকার পুরো সময়ের গুণাহকে তিনি মুছে দেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সে কবীরা গুনাহ হতে বেঁচে থাকে। আর এভাবেই বান্দার জীবন ক্ষমা থেকে ক্ষমা এবং মার্জনা হতে মার্জনার শীতল আবহে কাটতে থাকে।

[৭] আমরা যতো বড় গুনাহ-ই করি না কেন, যত অন্যায়-ই হোক না কেন, হোক না পাহাড়সম। এসব টপকে যদি আসমান পর্যন্ত ভরে যায়, নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের ক্ষমা করে দিবেন।

[৮] আল্লাহ ইরশাদ করেন, এবং (হে নবী) আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সুরা নিসা-১০৬)

[৯] অন্যত্র আল্লাহ বলেন, যে গুণাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়। (সুরা নিসা-১১০)

[১০] দয়াময় আল্লাহ তায়ালা বড় হতে বড় এবং সবচেয়ে অবাধ্য ও নাফরমান বান্দাকেও ক্ষমার সাগরে ডুবিয়ে রাখেন। তিনি আল্লাহ! এক আল্লাহ! বড়-ছোট যে কোন বিষয়ে তিনি একাই সিদ্ধান্ত নেন। ক্ষমা করতে তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।

[১১] হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, হে আদম সন্তান! যদি তুমি আমাকে ডাক এবং আমরা প্রতি আশা রাখো; তাহলে আমি তোমার যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দিব, আর এতে আমি কারো পরোয়া করি না।

[১২] হে আদম সন্তান! যদি তোমার গুনাহ উর্ধ্বাকাশ পরিমাণ হয়, তারপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলে কারো পরোয়া ছাড়াই আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব।

[১৩] হে আদম সন্তান! যদি তুমি আমার কাছে ভূপৃষ্ঠ পরিমাণ গুনাহ নিয়ে হাজির হও, আর আমার সঙ্গে এইরূপে সাক্ষাত করো যে, তুমি আমার সাথে কাওকে শরীক করো নি, তাহলে আমি তোমার প্রতি সে পরিমাণ ক্ষমার আচরণ করবো। (তিরমীযি-৩৫৪০ নং হাদিস)

[১৪] আজ আমাদের এই রাতটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত, মহিমান্বিত রাত। মুক্তির রাত এটি। দরবারে এলাহিতে নিজেকে সোপর্দ করার রজনী। একে তো হলো শবে বরাত। অপরদিকে এটি জুমার রাত। তাই এ রাতকে অপূর্ব সুযোগ মনে করে আল্লাহর তরে কাটিয়ে দেই।

[১৫] নিজের যত চাওয়া পাওয়া আছে, বড় ছোট যতো প্রয়োজন আছে, তার কাছে চাই। তিনি কাউকে বঞ্চিত করেন না। বিশেষ করে, নিজেদের গুনাহের জন্য হাত তুলে দোয়া করি, মাফ চাই সব ভুলের জন্য। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল।

লেখক: শিক্ষার্থী, উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররমা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত