প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]রিকশায় ঘুরে রাজধানী দেখছিলেন খুনি মাজেদ

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কলকাতা থেকে দেশে ফিরেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন বঙ্গবন্ধু খুনের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ। গত সোমবার সন্ধ্যায় ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় রাজধানী ঘুরে দেখছিলেন তিনি। গাবতলী চেকপোস্টে পুলিশের জেরার মুখে আটকে যান। একপর্যায়ে সে নিজেকে ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ বলে পরিচয় দিয়েই ফেঁসে যান। এতে বেরিয়ে আসে তার আসল পরিচয়। খবর পেয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। সূত্র- আমার সংবাদ

[৩]তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডের ১০/এ নম্বর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। গোয়েন্দাদের কাছে তার ফিরে আসার তথ্য ছিলো। তারপর থেকেই গ্রেপ্তার করতে তৎপর ছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে বাংলাদেশে ফিরেও তার শেষ রক্ষা হলো না। ফিরে এসে এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেপ্তার হলেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সিএমএম আদালতে হাজির করে।

[৪]ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এ এম জুলফিকার তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পরপরই মাজেদকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের বাড়ি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিনের বোরহানগঞ্জ এলাকায়। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন তার গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি জব্দ করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যামামলায় আবদুল মাজেদসহ ১২ আসামিকে ২০০৯ সালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়। ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা। আবদুল মাজেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখনো ১২ জনের মধ্যে পাঁচজন বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন। পলাতকরা হলেন— কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশিদ, লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল এ এম রাশেদ চৌধুরী, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, লে. কর্নেল এস এইচ নূর চৌধুরী।

[৫]১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনা সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে শিশুসন্তান রাসেল, স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মামলা হয়। বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আপিল বিভাগ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ১৯৭৫ সালের ন্যক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৯৬ সালে প্রথম মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে আসামি করা হয় ২৪ জনকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

[৬]ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, গোয়েন্দার কাছে খবর ছিলো বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। কিন্তু গোয়েন্দারা বাসা ট্রেজ করতে পারছিলেন না। গত সোমবার রাতে সে নিজেই ফাঁকা রাজধানীতে ঘুরতে বেরিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাকে আদালতের মাধ্যামে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা বলেন, করোনা আতঙ্কে রাজধানীতে ফিরেছেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ। তবে জীবন বাঁচাতে এসেও শেষ রক্ষা হলো না। তাকে গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা তৎপর ছিলো। ফাঁকা রাস্তায় গত সোমবার সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘুরতে বের হয়েই পুলিশের জেরার মধ্যে পড়েন। একপর্যায়ে সে নিজেকে ক্যাপ্টেন (অব.) মাজেদ বলে পরিচয় দিয়েই ফেঁসে যান। এতে বেরিয়ে আসে তার আসল পরিচয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৭]গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক ভিডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু হত্যামামলার আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের প্রত্যাশা করছি। আমরা দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ডাদেশ কার্যকরের অপেক্ষায় ছিলাম। তাদেরই একজন ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। আদালতের মাধ্যামে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় আসামি ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ, নূর ও রিসালদার মুসলেমউদ্দিন এই তিনজন সেখানে ছিলেন। এই খুনি শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনে অংশগ্রহণ করেননি, তিনি জেলহত্যায়ও অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে আমাদের জানা রয়েছে। খুনের পর তিনি জিয়াউর রহমানের নির্দেশ মোতাবেক বঙ্গভবনে এবং অন্যান্য জায়গায় কাজ করেছেন।

[৮]মন্ত্রী আরও বলেন, আশা করি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তার দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে পারবো। যারা এই কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের ধন্যবাদ দিয়ে আমি মনে করি, মুজিববর্ষের একটি শ্রেষ্ঠ উপহার আমরা দেশবাসীকে দিতে পেরেছি। তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের বদলে তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করেছে এবং ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে তাদের যাতে বিচার না হয় সে ব্যবস্থাটি পাকাপোক্ত করে।

[৯]তিনি আরও বলেন, ‘এই খুনিকে আমরা দেখেছি সেই সরকারের আশীর্বাদে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরিরত ছিলেন। এরপর যখন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তিনি আত্মগোপন করেন। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ছিলো তাকে ধরার জন্য। আমাদের গোয়েন্দারা এবং পুলিশ বাহিনী যারা কাজে ছিলো তারা ভালো করেছে বলে আমি পূর্বেই বলেছি।’ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কমিটমেন্ট ছিলো— খুনিরা যেখানেই আছে আমরা সবাইকে ফিরিয়ে আনবো। যেখানেই থাকুক তাদের আনার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মাঝে মাঝে বিস্ময়ে হতবাক হই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি দেশে না ফিরতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার কোন পর্যায়ে যেতো।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত