প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রেকর্ড শুধু ভাঙছেই!

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে, মৃত্যুও ঠেকানো যাচ্ছে না। পুরোদেশজুড়েই এখন করোনার হটস্পট। রাজধানী, বিভাগ, শহর ও গ্রামেও ছড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত প্রায় দুইশ’র কাছে। চিন্তিত সরকার। সারাবাংলা নজরদারিতে। ডেঞ্জারজোনে রয়েছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ। ২৪ ঘণ্টায় এ দুই স্থানে ৩৫ জন আক্রান্ত। পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলছে। সামনের দিনগুলোতে যে আরও বড় লড়াই করতে হবে তার বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। মৃত ও আক্রান্তে প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে।

[৩]গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪১ জন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এই সময়ে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। এই নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৬৪ জন রোগী শনাক্ত হলো। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। এর মধ্যে ঢাকায় আক্রান্ত ৮৪ জন আর নারায়াণগঞ্জে ৩৭। তবে ক্রমেই খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে ছড়াচ্ছে করোনা। সাতজনের মৃত্যুর খাবার পাওয়া গেছে। নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ তিনজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

[৪]চিকিৎসকরা বলছেন, প্রবাসীদের মাধ্যমে ভাইরাসটি (কোভিড-১৯) ছড়ালেও এখন আর এতে সংক্রমিত হতে প্রবাসীর প্রয়োজন পড়ছে না। জেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমেই এটি ছড়াচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘নতুন শনাক্ত হওয়া ৪১ জনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২৮ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী।

[৫]বয়স বিভাজন করলে দেখতে পাই ১০ বছরের নিচে একজন। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে চারজন। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছে ১০ জন। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে আছে পাঁচজন। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৯ জন। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন এবং ষাটোর্ধ্ব আছে আরও পাঁচজন। তাদের অবস্থানের তথ্যবিবরণী থেকে দেখা গেছে, ৪১ জনের মধ্যে ২০ জন ঢাকার বিভিন্ন এলাকার। আপনারা জানেন ইতোমধ্যে আমরা করোনার নতুন একটি ক্লাস্টার হিসেবে আইডেন্টিফাই করেছি নারায়ণগঞ্জকে। ৪১ জনের মধ্যে সেখানে ১৫ জন। কুমিল্লায় একজন, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে একজন এবং চট্টগ্রামে একজন।

[৬]গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুবরণকারী পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং একজন নারী। বয়স ভেদে ষাটোর্ধ্ব দুজন। ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে দুজন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছে আরও একজন। এছাড়াও এদের মধ্যে দুজন ঢাকার ও অপর তিনজন দেশের অন্যন্য জেলার বাসিন্দা।’

[৭]সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে মৃত্যু বেড়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পদক্ষেপে মৃত ব্যক্তির এলাকা লকডাউন ও আত্মীয়-স্বজনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পাঠানো হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। এছাড়াও এসব এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

[৮]খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে এমন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গতকাল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্বর, কাশি, গলাব্যথা নিয়ে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বাড়িটি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাড়িতে বসবাসকারী ১২ জনকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

[৯]একই দিন সকালে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আবদুল কাইয়ুম (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সকালে কিশোরগঞ্জে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়ার একদিনের মধ্যেই এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

[১০]এর আগে নেত্রকোনার পূর্বধলায় জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে এক ব্যক্তি (৪০) মারা গেছেন। গতকাল ওই বাড়িসহ আশপাশের সাতটি বাড়ি প্রশাসন লকডাউন (অবরুদ্ধ) করে দেয়। একই দিন (সোমবার) হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক ব্যক্তি (৬০) মারা গেছেন। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

[১১]এছাড়াও গত সোমবার মাঝরাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলার রূপসা উপজেলার দেবীপুর গ্রামের সালেহা বেগম নামের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। কিছুদিন আগে তিনি জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে ঢাকা থেকে খুলনায় ফেরেন। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন গতকাল ওই বাড়ির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বাড়ির সামনে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়েছে।

[১৩]তবে ওই বৃদ্ধার লাশ স্বাভাবিক নিয়মেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পৌর এলাকায় তাবলিগে জামাতে আসা আরও তিনজন মুসল্লি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ। এ নিয়ে সিঙ্গাইরে তাবলিগ জামাতে আসা চার মুসল্লি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে গত শনিবার রাতে এক মুসল্লির করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়া যায়। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ১৯ বছর বয়সি এক তরুণ গত শনিবার জ্বর, কাশি ও গলাব্যথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।

এরপর তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে তরুণ যে ভবনের ভাড়াটে, সেখানকার দুটি ভবন গতরাতে লকডাউন করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পুরো হবিগঞ্জ জেলাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

একই দিন বিকালে টাঙ্গাইল জেলা অবরুদ্ধ করার (লকডাউন) সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। গতকাল জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে টাঙ্গাইল জেলায় ঢোকা ও বের হওয়ার সব রাস্তায় তল্লাশি চৌকি বসানো হবে। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নে কর্মরত এক শ্রমিক বাড়ি ফিরে গিয়ে জ্বরে মারা যাওয়ায় গতকাল একটি ইউনিয়নকে লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে দুই কৃষিশ্রমিক সিঙ্গাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নে কাজ করতে আসেন। গত বুধবার থেকে শ্রমিকদের মধ্যে একজনের (৪৬) সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। গত শনিবার অসুস্থ শ্রমিকসহ দুই শ্রমিক গ্রামের বাড়ি চলে যান। গত সোমবার রাতে অসুস্থ ওই শ্রমিক মারা যান।

এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চার বাড়ির লোকজন পার্শ্ববর্তী রাজনগর উপজেলার লকডাউন এলাকা থেকে আসায় গত সোমবার বিকালে কমলগঞ্জের পতনউষার ইউনিয়নের ওই চার বাড়িকে লকডাউন করে লাল পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বাড়িগুলোতে লাল পতাকা লাগিয়ে লকডাউন ঘোষণা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা ও রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়া জেলায় প্রবেশের তিনটি সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সড়কগুলো হলো, চুয়াডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়া প্রবেশের দুটি সড়ক ও রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ায় ঢোকার একটি। বন্ধ করা হয়েছে কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ির হালশা এলাকা ও মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ সড়ক সীমান্ত।

আর রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ায় প্রবেশের কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা উপজেলার শিয়ালডাঙ্গী এলাকা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ তিন সড়ক দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় কোনো গাড়ি বা মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ অতি জরুরি সেবা এর আওতামুক্ত থাকবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ ই মাহবুব বলেন, দেশে কয়েকটা ক্লাস্টার (যেখানে অল্প দূরত্বে বেশি রোগী শনাক্ত হয় এমন জায়গা) পাওয়া গেছে। আরও নতুন কোনো ক্লাস্টার আছে কিনা সেটা চিহ্নিত করতে হবে।যতদ্রুত সম্ভব এই কাজ করতে হবে।

এক্ষেত্রে হটলাইনের ফোন কলকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। রোগী পাওয়া গেলে সেখানে লকডাউন দিয়ে পরীক্ষা বাড়িয়ে দিতে হবে। সামান্য উপসর্গ থাকলেও ওই ক্লাস্টারে বেশি বেশি পরীক্ষা করালে ভাইরাসের গতিপরিধি সম্পর্কে ধারণা হবে। সেই আলোকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। নয়তো ব্যক্তি নিজের অজান্তে ভাইরাস ছড়াতে থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সবাইকে বলতে চাই আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। করোনাবিষয়ক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। একজন থেকে আরেকজন কমপক্ষে তিনফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। একান্ত প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে যাবেন না। প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। সাবান পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।

বাইরে গেলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন। সামান্য জ্বর, ঠাণ্ডা, হাঁচি-কাশি ও সর্দি হলে বাসায় বসে চিকিৎসা নিন। জরুরি রোগী না হলে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারো জরুরি অবস্থা হলে তাকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশনা দেয়া আছে।

নারায়ণগঞ্জে সাতজনের মৃত্যু, নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ তিনজনের দেহে করোনা : নারায়ণগঞ্জ ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জকে ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছি, সেখানে বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ওখান থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে যেতে না পারে।

যদি কোথাও একই জায়গায় কম দূরত্বের মধ্যে একাধিক রোগী থাকে তখনই আমরা সেটাকে ক্লাস্টার হিসেবে আইডেন্টিফাই করে ইনভেস্টিগেশন করে থাকি।’

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস, ইতোমধ্যেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ তিনজনের দেহে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।

করোনা উপসর্গে গিটারিস্টের মৃত্যু : এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সঙ্গীত জগতের আলোচিত মুখ ‘হিরো লিসান’ ইন্তেকাল করেছেন, যার প্রকৃত নাম খাইরুল আলম হিরো (৩০)। প্রচণ্ড জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগে ৭ এপ্রিল ভোরে তিনি মারা যান।

পরে শহরের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে তার মৃতদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজনের বাধায় সেটা ফেলে রেখেই চলে যান চালক। ওই সময়ে পরিবারের লোকজনও আসেনি ধরতে।

স্থানীয়রা জানান, দেওভোগ কৃষ্ণচূড়া এলাকার বাসিন্দা খাইরুল আলম হিরো মূলত সঙ্গীত জগতে ‘হিরো লিসান’ নামেই পরিচিত। তিনি মূলত বেস গিটারস্টি। সেই সঙ্গে ঝুটের ব্যবসাও করতেন। গত সাত-আটদিন আগে তিনি প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন। সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্টও ছিলো।

পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে শহরের দেওভোগের বাসায় আনা হয়। ৭ এপ্রিল ভোরে মারা যান। ওই সময়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন এসে বাধা দেয়। ফলে মৃতদেহ পড়ে থাকে বাড়ির গেটের ভেতরেই।

করোনা উপসর্গে ব্যবসায়ীর মৃত্যু : নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মাসুদা প্লাজার মালিক চৌধুরী মুহাম্মদ হাসান করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। ৬ এপ্রিল সোমবার দিনগত রাত ১২টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থার মারা যান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ছয়-সাতদিন ধরেই জ্বর, সর্দিসহ আরও কিছু রোগে ভুগছিলেন হাসান। পরে তাকে রোববার রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইতোমধ্যে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

হাসানের বেয়াই মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে করোনা উপসর্গ জানানো হয়েছে।

ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ : ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া হিসেবে পরিচিত) একজন ওয়ার্ডবয় ও দুইজন নার্সের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়ায় জরুরি বিভাগ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ওই তিনজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ৬ এপ্রিল রাতে পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর ১০টা থেকে জরুরি বিভাগ সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা আসে। জরুরি বিভাগ জীবাণুমুক্ত করার পর ফের খুলে দেয়া হবে। আর এ সময়টাতে এ হাসপাতালে না এসে শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের রসুলবাগ এলাকায় একজন নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মারা যাওয়ার আগে ওই নারীকে ১০০ শয্যা হাসপাতালে আনা হয় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য।

এছাড়াও পরবর্তীতে আরও দুইজন আক্রান্ত রোগী রোগ গোপন করে ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব কারণে জরুরি বিভাগের কয়েকজনকে এর আগেই হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়। তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

সোমবার প্রদত্ত রিপোর্টে নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ তিনজনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। ওই তিনজনকে ইতোমধ্যে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সে কারণেই আপাতত জরুরি বিভাগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

৫ জনের মৃত্যু : জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮নং ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ফারুক আহমেদ (৫০)। সে নারায়ণগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যায় বসবাস করেন। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তফা আলী শেখ জানান, দুই সপ্তাহ ধরে ফারুকের জ্বর ছিলো। পরে রাজধানীতে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তার নমুনা পরীক্ষা করা হলে পজেটিভ রিপোর্ট আসে।

৬ এপ্রিল দুপুরে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা এলাকায় ফারুকের বাড়ি ও আশপাশ লকডাউন করে দেয়া হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলায় ব্রাদার্স রোড এলাকায় গিয়াসউদ্দিন (৬০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন।৫ এপ্রিল রোববার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তাফা আলী, স্থানীয় ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়িটি অঘোষিত লকডাউন করে দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তাফা আলী জানান, গিয়াসউদ্দিন ৪ এপ্রিল অসুস্থবোধ করেন। পরে তাকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়।সেখান থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৫ এপ্রিল বিকেলে জানানো হয় মারা গেছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি ছিলাম। আপাতত ব্রাদার্স রোডের ৫ তলা ভবনের আটটি পরিবারসহ পুরো বাড়ির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

এর আগে শহরের দেওভোগ আখড়া রথবাড়ি এলাকায় চিত্তরঞ্জন ঘোষ নামের একজনের মৃত্যু ঘটে। তিনি শহরের সোনারবাংলা মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আবু সাইদ মাতবর (৫৫) নামের হোসিয়ারি ব্যবসায়ী মারা গেছেন।

গত ৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু সাইদ মাতবর মারা যান। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুচিন্তানগর এলাকার বাসিন্দা। মৃতের বাড়ি বাংলাবাজার আমবাজার আম্মাজান মঞ্জিলে। তিনি মৃত আলী হোসেন চেয়ারম্যানের ছেলে। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। আর এই ঘটনায় ‘বড় আমবাগান’ এলাকার দুই শতাধিক পরিবারকে লকডাউন করে দিয়েছে প্রশাসন।

গত শনিবার রাত ১টায় উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ‘বড় আমবাগান’ এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেন সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি জেলা করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসন ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জায়েদুল ইসলাম।

এসময় তিনি উত্তরে হেয়ায়েতুল্লাহ খোকনের বাড়ি থেকে দক্ষিণে বাংলাবাজার ব্যাংকের মোড় পর্যন্ত এবং পূর্বে হাসেমবাগ লেন মোড় থেকে পশ্চিমে প্রধান বাড়ির মেইন রোড পর্যন্ত লকডাউন এলাকা চিহ্নিত করে দেন।

সেখানে পাহারায় পুলিশ বাসানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু সাইদ মাতবর মারা যান।

পরে লাশ আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধানে খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে শিউলী ওরফে পুতুল নামে ৪৫ বছর বয়সি এক নারীর প্রচণ্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। গত ২৯ মার্চ তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ডাক্তার তাকে ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কিন্তু সেটা না করে বন্দরে তার বাসায় নিয়ে আসে। পরদিন গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সেদিনই তাকে বন্দর নিয়ে এসে দাফন করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা শেষে গত ২ এপ্রিল করোনার পজেটিভ রিপোর্ট ধরা পড়ে। এ ঘটনা জানার পর রাতেই প্রশাসন ও পুলিশ সেখানে উপস্থিত হন।

রাতেই বন্দরের রসুলবাগ এলাকার জামাল সোপ কারখানা থেকে রসুলবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কটি লকডাউন করে দেয়া হয়। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে ছড়াচ্ছে করোনা : নারায়ণগঞ্জে করোনার লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। আগে প্রবাসীদের মাধ্যমে ভাইরাসটি (কোভিড-১৯) ছড়ালেও এখন আর এতে সংক্রমিত হতে প্রবাসীর প্রয়োজন পড়ছে না।

জেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমেই এটি ছড়াচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, আক্রান্তদের মধ্যে যাদের সাথে কথা হয়েছে তাদের প্রবাসীদের সংস্পর্শে আসার তথ্য আমরা তেমন একটা পাইনি। এখন এটি লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে।

এখন আর এ রোগ বিস্তারের জন্য প্রবাসীদের প্রয়োজন হচ্ছে না। তাই সবাইকে এখনই সচেতন হতে হবে, ঘরে অবস্থান করতে হবে। কোনোভাবেই বাইরে বের হওয়া যাবে না।

নাসিক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, এখন প্রবাসী নয় আমাদের মাধ্যমেই এ ভাইরাস ছড়াচ্ছে। কোনো কারণ ব্যতিত কেউই যেন ঘর থেকে বের না হয় সেজন্য সবার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা। নয়তো নারায়ণগঞ্জে যেভাবে বিস্তার হচ্ছে এ রোগের তা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

ঢাকায় নতুন করে ১২ এলাকা লকড ডাউন : করোনা ভাইরাসে ঢাকায় নতুন রোগী পাওয়ায় ১২টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। ওই এলাকার কেউ এখন বাইরে বের হতে পারবেন না, কেউ ঢুকতেও পারবেন না।

কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে যে এলাকায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে, সে এলাকা পুরোপুরি লকডাউন করার নির্দেশনা ইতোমধ্যে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যাতে ছোঁয়াচে রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে। সংক্রমণের শুরুর দিকে ঢাকায় মিরপুরের টোলারবাগে রোগী পাওয়ার পর ওই এলাকাটি আগেই লকডাউন করা হয়েছিল।

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪১ জনের মধ্যে ২০ জনই ঢাকার বলে নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, আদাবর, বছিলা, বাড্ডা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ভবন লকডাউন করার ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

পুরান ঢাকায় খাজে দেওয়ান লেনে একটি মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি ও এক নারীর নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ায় ওই এলাকার দুইশ ভবন লকডাউন করা হয়েছে।

চকবাজার থানার ওসি মওদুত হাওলাদার গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গণমাধ্যমকে বলেন, যে মসজিদ কমিটির সহসভাপতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তিনি সমাজের চলাচল করেছেন এবং বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন।

ওই লেনের এক নারী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই নারী বাইরে যেতেন না। তাহলে নিশ্চয়ই তার স্বামী-সন্তান বাইরে থেকে এই ভাইরাস বাসায় এনেছেন। এই দুটি ঘটনায় খাজে দেওয়ান লেনে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে ধারণা করে ওই লেনের এক ও দুই নম্বর গলি লকডাউন করা হয়েছে।

এই দুটি গলিতে আনুমানিক দুইশ ভবন রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকাল ৫টার পর থেকে কাউকে ঢুকতে এবং বের হতে দেয়া হচ্ছে না। কারো কিছু প্রয়োজন হলে পুলিশের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।’

পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার রোজ মেরিনার্স নামে একটি ভবন লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান বংশাল থানার ওসি শাহীন ফকির।

তিনি বলেন, ‘রোজ মেরিনার্স একটি মার্কেট, কিন্তু ওই মার্কেটের ওপর ৪০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ওই ফ্ল্যাটের ৫৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্য ওই ভবনটি লকডাউন করা হয়েছে।’

লালবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসলাম হোসেন বলেন, লালবাগের বড় ভাট মসজিদ রোডে একজন এবং নবাবগঞ্জ রোডে একজন নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্য বড় ভাট মসজিদ এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং নবাবগঞ্জ এলাকার ক্রিসেন্ট ক্লাব গলি লকডাউন করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর এবং আদাবরের ৬টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার রৌশনুল হক সৈকত।

তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআর মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার কয়েকজনের করোনা ভাইরাস পজেটিভ পায়। এরপরই বাসাগুলো চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়।’

এরমধ্যে কৃষি মার্কেটের সামনে, তাজমহল রোড মিনার মসজিদ এলাকা, রাজিয়া সুলতানা রোড, বাবর রোড, বছিলা ও আদাবর এলাকার কয়েকটি বাড়ি ও রাস্তা এখন লকডাউন।

এসব এলাকা ঘিরে লাল ফিতা, পতাকা লাগিয়ে চলাচলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ঘনঘন মাইকিং করা হচ্ছে। এসব এলাকায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর বাড়ি ছাড়াও বাড়ির সামনের রাস্তা ও আশপাশের রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান সহকারী কমিশনার সৈকত।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, উত্তর বাড্ডার খানবাগ রোডের এক ব্যক্তির শরীরে নভেল করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওই ভবনটি লকডাউন করা হয়েছে।

এছাড়াও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক নারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। সুদীপ বলেন, ওই নারী যে ভবনে থাকতেন, সেটি লকডাউন করা হয়েছে। ওই ভবনে ৮টি পরিবার বসবাস করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত