প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রুডোর ভাষণ কানাডার মানুষের আস্থা ও নির্ভরতা তার কথায় মানুষ স্বস্তি পায়, আনন্দিত হয়

মঞ্জুরে খোদা টোরিক : করোনায় আমেরিকাতে ২৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যুতে কয়েকজন বন্ধু ইনবক্স জানতে চেয়েছেন আমরা কেমন আছি? কানাডার কী খবর? আমরা এখানে কিছুটা স্বস্তিকর, নিরাপদ থাকলেও দেশের জন্য উৎকণ্ঠা তো আছেই। কানাডার সরকার করোনার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রথম থেকেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দু’টা ফর্মুলা আছে। একটি হচ্ছে সাপ্রেশন, অন্যটি মিটিগেশন। সাপ্রেশন হচ্ছে লকডাউন করে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের মাধ্যমে করোনার বিস্তারকে ঠেকানো, নিয়ন্ত্রণ করা। এভাবে এক/দেড় বছর পার করলে, করোনার ভ্যাকসিন চলে আসবে এ মহামারী দূর হবে। লকডাউন কার্যকর হওয়ার পরই চিত্র পাল্টে যায়। সব কিছু অচল হয়ে যায়, চেনা শহর অচেনা হয়। এখন পর্যন্ত কানাডায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৮৫৪৮, মারা গেছেন ৯৬ জন। মৃতের হার ১ শতাংশ। আর বাংলাদেশে সরকারি হিসেবে মৃতের হার ১০.৩ শতাংশ। টরেন্টোতে দু’জন বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তাদের চিকিৎসা চলছে। কানাডা সরকার শুধু লকডাউন করে বসে নেই, করোনা মোকাবেলায় যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি।
১. প্রথমেই কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার আবশ্যকীয় নয় এমন সব কিছু বন্ধ ঘোষণা করেছেন এবং নাগরিকদের বাসবাড়িতে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। ২. সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা-প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য তৈরি আছেন। টেলিভিশনের স্ক্রিনে সে নম্বরগুলো ভেসে উঠছে। শুধু তাই নয়, আপনি অনলাইনে কোভিড-১৯ লিখে সার্চ করা মাত্রই আলাদ্দিনের চেরাগের মতো কোথা চ্যাটিং অপশন এসে আপনাকে বলবে, কী চাই? কীভাবে সাহায্য করতে পারি? ৩। করোনায় আপনি চাকরি/কাজ হারিয়েছেন? ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে? সরকার ইতোমধ্যেই যারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার জন্যই আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছেন। তার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ৮২ বিলিয়ন ডলারের কেন্দ্রীয় প্রণোদনা বাজেট ঘোষণা করেছেন। এর সঙ্গে প্রাদেশিক সরকারের আলাদা বাজেট তো আছেই। ৪. প্রতিদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। কানাডার সব নাগরিকেরই সে ভাষণ শোনা একটি রুটিন কাজ। ট্রুডোর ভাষণ মানে তাদের আস্থা-নির্ভরতা। তার কথায় মানুষ স্বস্তি পায়, আনন্দিত হয়। প্রতিমুহূর্তে তারা বুঝতে পারে সে/তারা একা নয়, সরকার তাদের পাশে সহযোগিতার হাত নিয়ে সার্বক্ষণিক আছে। ৫. এই দুর্যোগকালীন সময়ে প্রাদেশিক সরকার ঘোষণা করেছে, কোনো পণ্যের দাম বাড়ালে এক লাখ ডলার জরিমানা ও এক বছর জেল, ডিরেক্টরদের হলে পাঁচ লাখ ডলার ও এক বছরের জেল।
করপোরেশন হলে দশ মিলিয়ন ডলার জরিমানা। অনেক দোকানি দরকারি জিনিস কেনাকাটার সিলিং নির্ধারণ করে দিয়েছে আপনি ইচ্ছা করলেই বাড়তি কিনে স্টক করতে পারবেন না। ৬. এ দুর্যোগকালীন সময়ে সব দল পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের নির্দেশনা নাগরিকরা আস্থায় সঙ্গে অনুসরণ করছেন। টিভিতে প্রতিবেলায় করোনা বিষয়ে আপডেট থাকছে। বন্ধের সময় ঘরে কী করবেন, সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন তারও নানা পরামর্শ/উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। ৭. এই দুঃসময়ে কানাডার প্রবাসী বাংলাদেশিরা বসে নেই। তারাও একটা অনলাইন সার্ভিস খুলে করোনায় বিপদগ্রস্ত মানুষদের নানাভাবে সেবা-সহযোগিতা করছেন। যে উদ্যোগ ও কর্মকা- প্রশংসিত হয়েছে। যে সব বন্ধুরা ইনবক্স করেছেন, ফোন করেছেন, উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনারাও সতর্ক থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আপনার সুস্থতাই অন্যের সেবা, সাহস ও বেঁচে থাকা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত