প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনার ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসক বদলিতে শরণখোলায় ক্ষোভ

নইন আবু নাঈম : বাগেরহাটের শরণখোলা র ৫০শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক সংকট চলছে দীর্ঘদিন থেকেই। ১৩জনের স্থলে রয়েছে মাত্র পাঁচ জন চিকিৎসক। তার ওপর এলাকাজুড়ে করোনা আতঙ্ক। এমন সংকটময় মুহূর্তে বদলি করা হলো এক চিকিৎসককে। বুধবার জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে জরুরী বদলির আদেশ আসার খবরে চরম খেপেছে এলাকাবাসী। এমনকি কর্মবিরতির ঘোষনা দিয়েছেন হাসপাতালের নার্সরাও (সেবিকা)। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সিরাজুল ইসলাম নামের ওই চিকিৎসককে বদলি করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
করোনা ঝুঁকির এমন জরুরী মুহূর্তে চিকিৎসককে বদলি করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহস্পিতিবার মানববন্ধন কর্মসূচী ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর অন্দোলনে নাববেন তারা ।

জানা যায়, ডা. ফরিদা ইয়াসমিন শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকে সাধারণ রোগী, স্টাফ, জনপ্রতিনিধিদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ করে আসছেন। এছাড়া রোগী দেখা তার দায়িত্ব নয়, তিনি শুধু প্রসাশনিক কাজ করবেন বলে সবাইকে জানিয়ে দেন। তার এমন সেচ্ছাচারীতায় ক্ষুব্দ হয়ে অন্যান্য ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীরা মিলে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অপরদিকে, দেশব্যাপী করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চারজন চিকিৎসককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন ষড়যন্ত্র করে ডা. সিরাজুল ইসলামকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে বদলি করায় সব মহলেই সমালোচনা চলছে।

এব্যাপারে আদর্শ মানবকল্যাণ সোসাইটির শরণখোলা শাখার সদস্য সচিব সুরাইয়া আক্তার জানান, এমনিতেই দীর্ঘদিন থেকে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট চলছে। একারণে রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। তার ওপর করোনার বাড়তি চাপ। এই মুহূর্তে একজন ডাক্তারকে বদলি করা হলে এলাকার মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। তাই এ বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচীর ঘোষনা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স (সেবিকা) জোহরা খাতুন, মরিয়ম বেগম, শিখা রাণী, শাহিদা আফরিন, মমতা রাণী, প্রীতি রাণী সাধন জানান, ডা. সিরাজুল ইসলামের বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করবেন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বহু মানুষ বাড়ি ফিরেছেন। তাদের অনেকেই হোম কোয়ারিন্টেনে রয়েছে। হাসপাতালের আইসোলেশনেও রোগী রয়েছে। এসময় ডাক্তারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া হাসপাতালে ডাক্তার সংকট রয়েছে। এই মুহূর্তে একজন ডাক্তারের বদলি বা অন্যত্র চলে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

জানতে চাইলে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন তার বিরুদ্ধের আনিত বদলির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা কোন বদলি নয়, ডেপুটেশনে তাকে জেলায় আপাতত নেওয়া হয়েছে। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় তাকে সাময়িক আদেশে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত