প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের তরুণেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাঠে

মোহাম্মদ বাছিত : ২০১১ সালের শেষদিকে আমি ইউকে থেকে মাত্র দেশে ফিরে এসেছি। বুয়েটে তখন বাসা পাইনি, আমার পরিবার সিলেটে থাকতো। আমি ব্যাচেলর টিচারদের সঙ্গে বুয়েটের টিচার্স ডরমিটরিতে থাকি। ওইখানে মমিন নামের ২০-২২ বছর বয়সের একটি ছেলে ছিলো। সে আমাদের নানা কাজে সাহায্য করতো। তাকে আমার খুব ভালো লাগতো, প্রায় সময় তার সঙ্গে গল্প করতাম। একদিন রাত ১২টার দিকে মমিনকে বললাম, আমাকে এক কাপ চা খাওয়াতে পারবে? তার মুখে কখনো না শুনিনি। বললো ‘স্যার, একটু দেরি হলে অসুবিধা হবে’? বললাম না অসুবিধা নেই। জানতে চাইলাম, কী করছো তুমি? বললো, ‘নীলক্ষেত থেকে অনেকগুলো পুরনো বই কিনে এনেছি, ওইগুলো বাঁধাই করছি’। জানতে চাইলাম, তুমি কি পড়ো? বললো, আমি বেশি পড়িনি স্যার, প্রাইমারি স্কুল পাস করেই পড়া শেষ করে দিয়েছি। এগুলো নাইন টেনের বই, আমার গ্রামের কয়েকজনের জন্য কিনে এনেছি। আমি একটু হা করে তার দিকে তাকিয়ে তাকলাম। একদিন ফুলার রোড দিয়ে রিকশা করে আসছিলাম। রিকশাওয়ালা যদি বয়সে একটু তরুণ হয় তবে তার সঙ্গে গল্প করার আমার খুব বাতিক রয়েছে (মুরব্বি হলে কথা বলি না কারণ তারা রিকশা টেনেই খুব ক্লান্ত থাকেন)। যাই হোক ওইদিন গল্প করার মাঝখানে তরুণ রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম, বিয়ে করেছো? বললো, জি করেছি। জানতে চাইলাম, বাচ্চা আছে? ‘না স্যার, আমার নিজের বাচ্চা নেই, তবে আমার বড় ভাই মারা গেছেন, তার তিন বাচ্চা বাড়িতে আমার কাছে রয়েছে’। বললাম, বাড়ি যাওয়ার সময় তাদের জন্য কী নিয়ে যান? ‘স্যার গরিবের বাচ্চা, পেটভরে এক বেলা খেতে পারলেই তারা খুশি, আর কিছু লাগে না, চাল, ডাল নিয়ে যাই’।
বেশ কয়েক বছর পূর্বে নিউইয়র্ক থেকে আমার ফ্লাইট ছিলো দুবাই হয়ে। দুবাই আসার পর তরুণ বয়সের একজন আমার হাত খালি দেখে জানতে চাইলেন তার একটি ব্যাগ ক্যারি করতে পারবো কিনা। বললাম দেন। বিমান মোটামুটি খালিই ছিলো, তিনি আমার পাশের সিটেই বসলেন। অভ্যাসমতো গল্প করা শুরু করলাম। তরুণ ভদ্রলোক জানালেন, এবার কোরবানির ঈদে খুব ভালো আয় রোজগার করেছেন। বাড়ি যাচ্ছেন প্রায় ৭০ কেজি মালামাল নিয়ে, বেশিরভাগই জামা কাপড়। বললাম, এতো কাপড় কার জন্য? জানালেন, আত্মীয়-স্বজন পাড়াপ্রতিবেশী সবার জন্যই সাধ্যমতো কিনেছেন। আমার ল্যাবের ছাত্রদের জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য টাকা প্রদান করি। কেনা কাটা শেষে তারা নিজ দায়িত্বে আমাকে হিসাব দেয়, কখনোই আমাকে দেখতে হয় না কতো খরচ করেছে, কতো ফেরত দিয়েছে, এতোই বিশ্বস্ত এই বয়সের ছেলেমেয়েগুলো। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে মানুষের বয়স বাড়লেই হয়তো অন্তর্বাসের ইলাস্টিকের মতো তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা কমতে থাকে, জিহ্বা লম্বা হতে থাকে, নতুন নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তোলে, অসাধু ব্যবসায়ী হয়ে উঠে, দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠে। কিছু পথভ্রষ্টদের কথা বাদ দিলে তরুণরা সবসময় এসবের ঊর্ধ্বে, তারা যা করে অন্তর দিয়েই করে, শতভাগ সততার সঙ্গেই করে। তারা যখন মাঠে নামে তখন অসাধ্য সাধন সময়ের ব্যাপার মাত্র। করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষদের সর্বাত্মক সাহায্যের জন্য আমাদের তরুণরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাঠে নেমেছে। আমাদের উচিত তাদের সর্বাত্মক সাপোর্ট দেওয়া। প্রতিটি পয়সা তারা যথাযথ ব্যবহার করবে এটি নিশ্চিন্তে বলা যায়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত