প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাভাইরাসের জবানবন্দি

প্রিয় মানুষজাতি, মনে হয় না আমার পরিচয় দেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে। সবাই আমাকে নিয়ে কথা বলছে। এই যে ঘরের মধ্যে তোমাদের বন্দি জীবন কাটিয়ে সময় নষ্ট করা লাগছে তা তো আমার জন্যই। তবে আমি কিন্তু তোমাদের মতো নইÑ আমার নষ্ট করার মতো একটি মুহূর্তও নেই। তাই যা বলার তা সরাসরিই বলে ফেলছি। আমি এমন কিছু কথা বলবো যা মিডিয়া তোমাদের কখনোই বলবে না। সব মানুষই আমার কাছে সমান। চাই সে যুবক হোক কিংবা বৃদ্ধ, রোগী কিংবা রোগহীন, ধার্মিক কিংবা পাপী। আমাকে নিষ্ঠুর বলে অপবাদ দিয়ো না। আমি তো কেবল আমার সেই রবের কথা মেনে চলছি যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি হচ্ছি সে, যে সব জালিম শাসকদের মুসলিম সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করতে দিচ্ছি না। আমি হচ্ছি সে, যে এই একুশ শতকের সব ফেরাউনকে নত করেছি, তাদের দম্ভ চূর্ণ করেছি। আমি হচ্ছি সে, যে সব নাইটক্লাব, মদের বার, পতিতালয়, জুয়া-মদ-সিগারেটের আসর বন্ধ করেছি। সব সুদখোরের মনে ভয় সৃষ্টি করেছি। সব কাফেরকে এখন বন্ধ দরজার পেছনে ভয় দেখিয়ে চলছি। আমি হচ্ছি সে, যে প্রত্যেক গুনাহগারের মনে ভয় সৃষ্টি করেছি, তাকে তাওবা করতে বাধ্য করেছি। খারাপ কাজ করলে তার প্রতিফল পেতে হবেÑ এটা আমিই তোমাদের বুঝতে বাধ্য করেছি। আর আমি এসব করেছি বলে আমার গর্ব হয়। ক্ষমা চাওয়ার কিংবা লজ্জা পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। লজ্জা তো সে সব পাথর-দিল মানুষের পাওয়া উচিত যে তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমার আসার প্রয়োজন হলো। আমি জানি, তোমরা এখন অনেকে মনে মনে কী ভাবছো। হ্যাঁ ঠিকই ভাবছো। আমিই মসজিদের দরজাগুলো বন্ধ করে দিয়েছি। সত্যি বলতে, শুধু এই কাজটা করতেই আমার কষ্ট হয়েছে। কিন্তু কী করবো। আল্লাহতায়লার ফয়সালাও যে এটাই। আল্লাহর ঘর মসজিদে যেতে পারা, মসজিদে ফেরেশতাদের সানিধ্যে থাকতে পারা যে কতো সম্মানের ব্যাপার সেটা হয়তো এতোদিন বুঝতে পারোনি। এখন পারছো। আশ্চর্য এতো অসাধারণ সম্মানটাকে বুঝতে পারার জন্যও তোমাদের আমাকে প্রয়োজন হলো?
আজ তোমাদের পুরো জীবন স্থবির হয়ে গেছে আমার জন্য। আমার জন্য, যে কিনা আল্লাহর খুবই ক্ষুদ্র সৃষ্টি। আচ্ছা ভাবতে পারো যদি তিনি আমার আরও ভাইকে তোমাদের উপর পাঠান তখন কী হবে? কিংবা কওমে লুতের মতো তোমাদের দেশগুলোকে উল্টিয়ে দেন তখন তোমরা কোথায় থাকবে? কোথায় থাকবে তোমাদের এই সম্পদ যদি তিনি শুয়াইবের (আ.) লোকদের মতো তোমাদের উপর আগুন বর্ষণ করেন? কোথায় যাবে তোমাদের নিজেকে বড় ভাবার অহম, যদি তিনি পৃথিবী দিয়ে কারুনের মতো তোমাদের মতো গিলে ফেলেন? আমাকে দোষ দিও না। আমার কোনো দোষ নেই। ওয়াল্লাহি, দোষ তোমাদের। আমার রব বলেছেন, দোষ তোমাদের। ‘তাদের প্রত্যেককেই আমি তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছিলাম। তাদের কারও উপর আমি পাথরকুচির ঝড় পাঠিয়েছি, কাউকে পাকড়াও করেছে বিকট আওয়াজ, কাউকে আবার মাটিতে দাবিয়ে দিয়েছি আর কাউকে পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছি। আল্লাহ এমন নন যে, তাদের উপর জুলুম করবেন বরং তারা নিজেরা নিজেদের উপর জুলুম করতো’। (সূরা আনকাবুত, ২৯:৪০)
আমাকে ভয় করো না, ভয় তাঁকে করো যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। কীভাবে আমার থেকে দূরে থাকবে এটা ভেবে নিজেকে ব্যস্ত রেখো না। বরং তোমাদের রবের কাছে ফিরে যাও। তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। তিনিই তো আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি-তুমি, আমরা সবাই তাঁর দয়ার উপর নির্ভরশীল। আমাদের কপাল যে তাঁর হাতে। তাঁর ইচ্ছাই আমার আদেশ। আর আমি কেবল তাঁকেই সিজদা করি। আমার দ্বারা কিংবা অন্য কিছুর দ্বারা কখনো নিজেকে ব্যস্ত রেখো না। আল্লাহর প্রশংসা করো। তার প্রতি ভালো ধারণা রাখো। আমি নিজের সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে ভালো জানি। তাই বলছি, তোমরা অনেকেই আমার কারণে মারা যাবে। যারা নেককার অবস্থায় মারা যাবে, তারা ভালোভাবেই আল্লাহর সঙ্গে দেখা করবে। আর শহীদের মর্যাদা পাওয়ার আশা করবে। কিন্তু যারা নিজের ঈমানকে গুরুত্ব দেয়নি, কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এ জীবন বাঁচেনি, তওবা করেনিÑ তারা খুব দ্রুতই বুঝবে তাদের আসল ক্ষতি কীসে হয়েছে? মৃত্যুতে নাকি তাদের নোংরা জীবনে। আমি জানি না আর কতোক্ষণ আমার রব আমাকে তোমাদের কাছে রাখবেন। কখনো প্রচ- ঝড় হওয়ার আগের পরিবেশটা দেখেছো? কেমন নিস্তব্ধ। শান্ত। আমি সেই শান্ত প্রকৃতি যে তোমাদের আরও বড় ঝড়ের খবর দিচ্ছে। যখন সে ঝড় আসবে হয়তো তখন তোমরা বুঝতে পারবে আমি অভিশাপ না বরং আশীর্বাদই ছিলাম। আরেকবার তোমাদের মমতার স্বরে ডাকছি। কেবল আরেকটিবার বলছি : ক্ষমা কি চাবে তোমাদের রবের নিকট? কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কি বাঁচবে এ জীবন? তোমাদের সব গুনাহ কি আজ থেকেই তওবা করে ছেড়ে দেবে? ইতি, তোমার অস্থায়ী অতিথি, শুভাকাক্সক্ষী ও আল্লাহর নগণ্য বান্দা, করোনা। (উস্তাদ আলি হাম্মুদার মূল লেখা থেকে অনুবাদকৃত। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত