প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজধানীর সড়কে বেড়েছে যানবাহন ও মানুষের চলাচল

সুজন কৈরী : [২] রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গত কয়েকদিনের তুলনায় যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে জনসাধারণের চলাচলও। তবে বেশিরভাগ লোকজনকেই সুরক্ষা সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস দেখা গেছে। এছাড়া কেউ কেউ গড়ি ব্যবহার করলেও তাদেরকেউ মাস্ক ও গ্লাভস পড়তে দেখা গেছে। তবে হোটেল ও বেকারি খুব কম খোলা রয়েছে।

[৩] করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানায়। এরপর গত তিনদিন সড়কে বিভিন্ন যানবাহন ও মানুষের চলাচল একেবারেই কম ছিল। তবে কিছু যানবাহন ও লোকজন বিভিন্ন কারণে রাস্তায় বের হলেও আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটকিয়ে আবারো বাসায় ফেরত পাঠায়। কোনো ক্ষেত্রে লাঠিপেটা ও কান ধরে উঠবসের ঘটনাও ঘটেছে।

[৪] জনসাধারণের অবাধে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োগ করা কিছু পদক্ষেপের কারণে সমালোচিতও হয়েছে পুলিশ। এ অবস্থায় নাগরিকদের সমস্যা বিবেচনায় হোটেল-বেকারি খুলে দেওয়াসহ শনিবার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ১০টি নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। মূলত এরপরই ঘোষণাকৃত ১০দিনের ছুটির চতুর্থ দিন অনেকেই নিজ নিজ প্রয়োজনে ব্যক্তিগত পরিবহন নিয়ে বেরিয়েছেন। সড়কগুলোতে বেড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং প্যাডেলচালিত রিকশার চলাচলও। সেসব বাহনে চড়ে গন্তব্যে ছুটছে লোকজন। আবার কেউ বা অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহনে চড়েও বের হয়েছেন।

[৫] রোববার রাজধানীর মগবাজার, মৌচাক, শান্তিনগর, কাকরাইল, গাবতলী, কাজীপাড়া, শ্যামলী, আসাদগেট, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, গত তিনদিনের তুলনায় রোববার সরকারি ছুটির চতুর্থ দিন সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত পরিবহনের সংখ্যা বেশি। বিশেষ ছুটির মধ্যেও জীবিকা অর্জনের জন্য মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বা হেঁটে চলাচল করছেন। বিভিন্ন প্রধান প্রধান বাসস্ট্যান্ডে ভাড়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, রিকশা ও প্রাইভেটকার দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে।

[৬] মগবাজার ওয়ারলেছ রেলগেইট এলাকায় সোহেল নামের একজন পথচারী বলেন, তিনি একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। হোটেল ও বেকারি খোলা রাখার খবর টেলিভিশনে দেখে তিনি রোববার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন।

[৭] গাবতলীতে ইব্রাহিম মিয়া নামের একজন সিএনজি চালক বলেন, গত কয়েকদিন বাসায় বসে ছিলাম। জমানো টাকা তো বাজার করেই শেষ। এছাড়া মাসটা শেষ হলেই বাড়ি ভাড়া দিতে হবে। সাংসারিক খরচ লাগবেই। এজন্য সকাল ৭টায় সিএনজি নিয়ে বের হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত ৪০০ টাকা আয় করেছি। রাত পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে যা আয় হয় তা থেকে সিএনজি ভাড়া ও বাসার বাজার করবো।

[৮] হাতিরঝিলের নয়াটোলা অংশে দেখা মিলে সজীব নামের একজন সবজি বিক্রেতার। তিনি বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। ঘরে কতদিন বসে থাকা যায়। সংসারে স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে আছে। তাদেরকে তো খাবার দিতে হবে। তাই পেটের তাগিদেই বাধ্য হয়ে ভোর রাতে কাওরানবাজারে গিয়ে কিছু টাকার সবজি কিনে এনে বিক্রি করছি। বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ঘুরে যা বিক্রি তা নিয়ে বাসায় ফিরবো।

[৯] এদিকে হোটেল ও বেকারি খোলা রাখার কথা বলা হলেও অধিকাংশই খোলা হয়নি। মগবাজারের সোনালীবাগের চাঁন বেকারির মালিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সরকার ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কর্মচারীদের ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে বাড়িতে রয়েছে। তারা না আসলে মালামাল বানানো সম্ভব না। এজন্য শিথিল করা হলেও বেকারি খোলা সম্ভব হয়নি। একই অবস্থা বিভিন্ন হোটেলেরও। তবে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারে কিছু হোটেল খোলা রয়েচে। সেখান থেকে পার্সেল বিক্রি করা হচ্ছে।

[১০] ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় রোববার জনসাধারণ ও যানবাহনের চলাচল বেড়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে এবং বোঝানো হচ্ছে অপ্রয়োজনের যেন কেউ বের না হন। কোনো কারণ ছাড়াই সড়কে বের হওয়ায় রোববারও বেশ কয়েকজনকে বুঝিয়ে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। সড়কে সড়কে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সড়কে চলাচলরতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিচয়পত্র দেখানো ছাড়াও যৌক্তিক কারণ বলতে পারলে গন্তব্যে যেতে দেয়া হচ্ছে। নইলে বাসায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত