প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সৈকতে কুকুরের সঙ্গে ঘুমানো শিশুটির জায়গা হলো ডিসির বাংলোতে

ডেস্ক রিপোর্ট  : [২]  করোনার সংক্রমণ রোধে ৫দিন ধরে কক্সবাজার সৈকতসহ পর্যটন স্পটে বেড়ানো নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে সবধরনের পরিবহন এবং দোকানপাট। ফলে একপ্রকার লকডাউন অবস্থায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার।জাগোনিউজ, ফেসবুক, প্রিয়ডটকম, খবর২৪

[৩] আর তাতেই বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত, দিনজীবী ও পর্যটক কিংবা খাবার হোটেলের উচ্ছিষ্ট বা চেয়ে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষগুলো। তাদেরই একজন অসহায় শিশু ইমন। লকডাইন অবস্থায় অন্য কোথাও না গিয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে কুকুরের সঙ্গে অভুক্ত ঘুমিয়ে দিন পার করছিল সে।

[৪] টহলে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে ছালা মুড়িয়ে কুকুরের সঙ্গে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে দেখে তার মুঠোফোনে ওই ছবি তোলেন করেন কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া।  ২৬ মার্চ রাত ১১টার দিকে ওই ছবি ফেসবুকে আপলোড করে তিনি লেখেন, সুগন্ধার মোড়ে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটি কোথায় যাবে।

[৫] এরপর ওই ছবি দেখে অনেকে কমেন্ট করলেও, ইমনের সহায়তায় জন্য কারো কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। কিন্তু ২৭ মার্চ রাত ১১টায় টহলে গিয়ে আবারও একইভাবে ইমনকে আবিষ্কার করেন গোয়েন্দা পুলিশের ওই সদস্য। তারপর আরেকটি ছবি তুলে আবারও আপলোড করে লেখেন, ইমন আজও ঘুমিয়ে আছে।

[৬] এর পর পরই জেলা প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। গত শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টায় শিশুটিকে ডিসির ডাকবাংলোতে নিয়ে পরিচ্ছন্ন করে নতুন জামা পড়িয়ে পছন্দের খাবার খাওয়ান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। যা কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট ও এডিসির ফেসবুক আইডিতে প্রচার করা হয়। আর তখন সব শ্রেণির মানুষের প্রশংসায় ভাসেন এই জেলা প্রশাসক ।

[৭] মানস বড়ুয়া জানান, ঘুম ভাঙিয়ে শিশুটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, তার নাম ইমন। বাড়ি মহেশখালী দ্বীপে। একটি মাদরাসায় পড়তো সে। মাদরাসার মৌলভী তাকে পিটুনি দেয়ায় সে পালিয়ে কক্সবাজার এসে সাগরপারে আশ্রয় নেয়। গত ১০/১২ দিন ধরে সে নানাজনের কাছে চেয়ে খেয়ে না খেয়ে সেখানেই থাকছে। এটা জানার পর শুকনো খাবার দিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চাইলেও সে রাজি হয়নি। আবার শহরজুড়ে লকডাউন অবস্থা এবং চারপাশে আতংক থাকায় তাকে জোরও করা হয়নি। তার জন্য মন খারাপ লাগছিল বলেই ফেসবুকে ছবি আপলোড করেছিলাম।

[৮] এদিকে শিশু ইমনকে নিয়ে আসার সবিস্তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (প্রটোকল শাখা, পর্যটন) মো. ইমরান জাহিদ খান লিখেছেন, পর্যটনের দায়িত্ব পাওয়ার পর কক্সবাজারের স্থানীয় গোষ্ঠীর নানা শ্রেণির লোকের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। পর্যটননির্ভর খেটে খাওয়া এ লোকগুলোর কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে গেছে করোনাভাইরাসের আক্রমণে। সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার বিচে ঘুরে বেড়ানো ছোট ছোট বাচ্চাগুলো। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত