প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ সংক্রমণ আতঙ্কে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত দশটি হাসপাতালেই রোগীশূন্য

শাহীন খন্দকার : [২]  হাসপাতালগুলোতে হাঁচি, সর্দি ও কাশির জন্য আলাদা কাউন্টার থাকলেও কাউকে দেখা যায়নি গতকাল শনিবার। কোনো কোনো হাসপাতালের কিছু কিছু কাউন্টারে লোকশুন্য। সেজন্য অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে নিরাপত্তা কর্মীদের।

[৩] অন্য সময়ে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ২৫০ শয্যা অ্যাজমা ও টিবি হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে সরগোল থাকতো।

[৪] কিন্তু ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই কমতে থাকে রোগীর সংখ্যা। সংক্রমণ রোধে সবশেষ ২৬ মার্চ থেকে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান ও সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হলে হাসপাতালগুলো খালি হতে থাকে। আজ শনিবার এসব হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সবগুলো হাসপাতাল যেন শূন্য হয়ে গেছে।

[৫] পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি হচ্ছে না। বেড সব ফাঁকা পড়ে আছে। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক বলেন, করোনার প্রভাব শুধু হাসপাতালে নয়, সারাদেশে পড়েছে। প্রতিদিন সারাদেশ থেকে হাজার হাজার রোগী আসত। কিন্তু লকডাউনে একেবারেই রোগী আসছে না এমন কি ডাক্তাররাও। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকে রোগী নেই। আছেন কয়েকজন আনসার সদস্য। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারাদেশ লকডাউন, আজ কোনো রোগী আসেনি। পাশেই ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতাল, সেখানেও কোনো নতুন রোগী ভর্তি হয়নি বলে জানালেন উপ-পরিচালক ডা. আবু রায়হান।

[৬] ঢাকা শিশু হাসপাতালেও কোনো নতুন রোগী তেমন আসছে না বললেই চলে। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক সফি আহমেদ জানান,করোনাভাইরাস আতঙ্কে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় একেবারেই নতুন করে রোগী ভর্তি হচ্ছে না। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদেরই দেখা যায়। কোনো রোগী আসেনি বলে জানান তারাও।

[৭] ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজিতে দেখা যায়, পুরনো রোগীর স্বজনরা ছাড়া কোনো ভিড় নেই। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অনেককে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের আনসার সদস্য সামাদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রবেশের জন্য আগে থেকেই কড়াকড়ি রয়েছে। এখানে আগে প্রতিদিন সারাদেশ থেকে অনেক রোগী আসত। করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারাদিনে খুব কম রোগী আসছে। আবার কারও মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা গেলে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। উপসর্গ না থাকে তবেই হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন।

[৮] জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ৫ জন রোগী এসেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. শহীদুল আলম জানান, আজ সারাদিনে পাঁচজন রোগী এসেছে, এদের মধ্যে চারজন বলতে পারেন না তাদের কী সমস্যা হয়েছে। অপরজন হার্টের সমস্যা আছে কি-না জানার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

[৯] শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়,একজন কর্মকর্তা টিকিট কাউন্টারে বসে থাকলেও নেই রোগী বা তার স্বজনদের কোনো ভিড়। হাঁচি, সর্দি ও কাশির জন্য আলাদা কাউন্টার থাকলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বরং কাউন্টারে ঝুলছে তালা। জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে গেলে সেখানে কথা বলার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত