প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তারা কোনটাকে ‘অপপ্রচার’ আর কোনটাকে ‘গুজব’ মনে করে কে জানে

ইমতিয়াজ মাহমুদ : বিডিনিউজের দুইটা খবর। একটার শিরোনাম, ‘করোনাভাইরাস : ফেসবুকে লিখে দুই শিক্ষক বরখাস্ত’ আরেকটার শিরোনাম ‘করোনাভাইরাস : গণমাধ্যমে ‘গুজব’ নজরদারিতে কর্মকর্তা বসালো সরকার’। মাস্টার মশাইরা কী লিখেছেন সেটা আপনারা দেখেছেন কিনা জানি না। আমি দেখেছি। কয়েকজন সেগুলোকে কপি করে নিজেদের ওয়ালে পোস্ট করেছে যেখান থেকে দেখেছি। টেলিভিশন চ্যানেলের উপর নজরদারির জন্য কর্মকর্তা নিয়োগের আদেশটা দেখেছি। সেখানে বলা হয়েছে যে, এ সব কর্মকর্তাদের কাজ হবে টেলিভিশনে করোনাভাইরাস নিয়ে ‘অপপ্রচার বা গুজব ছড়াচ্ছে কিনা’ সেটা মনিটর করা। এর মানে হচ্ছে যে করোনা ভাইরাস নিয়ে বা করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত কর্মকা- নিয়ে বা এই সংক্রান্ত নানা বিষয়ে ফটাফট মতামত দেওয়া যাবে না। এগুলো খবর পড়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে না করোনা নিয়ে ফেসবুকে আর কোনো পোস্টই লিখবো না। কেননা তারা কোনটাকে ‘অপপ্রচার’ আর কোনটাকে ‘গুজব’ মনে করে কে জানে। এ নিয়ে তো আর কোনো প্রকার সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণযোগ্য নৈর্ব্যক্তিক মাপকাঠি নেই। ধরেন আপনি লিখলেন যে, শুক্রবারে রিলিজিয়াস গেদারিংগুলো বন্ধ না করলে সেগুলো থেকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে। এটাকে যদি ওই রকম কোনো কর্মকর্তা ‘অপপ্রচার’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাহলে কী হবে? এখানে কিছু ছোট ছোট আইনি ব্যাপার বা সাংবিধানিক ইস্যু আছে। যেমন অফিসিয়ালি কারফিউ ঘোষণা হয়নি, জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি বা মহামারী ইত্যাদি সংক্রান্ত যে আইনটা আছে, সেই আইনে এই নয়া ব্যাধিটা গেজেট নোটিফিকেশন দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা জানি না। না হয়ে থাকলে সেই আইন প্রযোজ্য হবে কিনা? মৌলিক অধিকারগুলো তো বলবৎ আছেÑ এই অবস্থায় সরকার মানুষের কথাবার্তা, চলাফেরা কতোটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ইত্যাদি।
কেউ বলতে পারেন যে এ রকম একটা বাস্তব জরুরি অবস্থায় এ সব লিগ্যাল টেকনিকালিটিজ দেখা কতোটা জরুরি। উত্তরে বিনয়ের সঙ্গে বলবো, খুবই জরুরি। আইনগত দিকগুলো ঠিকমতো অনুসরণ করাটা জরুরি কেননা নাগরিকদের অধিকার, সরকারের পদক্ষেপের সীমা ও নাগরিকদের অধিকার ইত্যাদি সুস্পষ্ট থাকা দরকার। সুস্পষ্ট থাকলে নাগরিকরা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে। সরকারকেও কোনো বেআইনি পদক্ষেপ নিতে হয় না। কোনো নাগরিক বা সরকার যেই কোনো অন্যায় করে তার আইনগত প্রতিকার স্পষ্ট থাকে। আর আইনগত বিধিবিধানগুলো ঠিকঠাক অনুসরণ করা সে রকম কঠিন কিছু নয়। সরকারের আইন মন্ত্রণালয় আছে, তারা প্রয়োজনীয় গেজেট নোটিফিকেশন বা ঘোষণা বা পদক্ষেপ এ সবের আইনগত দিকগুলো ঠিকঠাক করে দিতে পারে। এ সবে খুব বেশি যে সময় লাগে তাও নয়। যা হোক, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ সময় না হয় বেশি কথা নাই-ই বললাম। শুধু এটুকু কামনা করি যেন এই বিদ্যমান বিপদগুলো থেকে উত্তরণের জন্য সরকার আন্তরিকভাবে সৎভাবে কাজ করবে। কামনা করা ছাড়া আর কী করতে পারি? ঘরে থাকুন সবাই, সাবধানে থাকুন, সতর্ক থাকুন। সরকারের নির্দেশাবলী মেনে চলুন। সমাবেশ ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। ধর্মীয় প্রার্থনা ইত্যাদি ঘরে বসেই পালন করুন। সরকারের পক্ষে সম্ভবত মসজিদ, মন্দির, গির্জা এ সব বন্ধ করা সম্ভব হবে নাÑ নিজেরাই নিজ দায়িত্বে এগুলো থেকে এই কয়েকটা দিন দূরে থাকুন। খুব বেশিদিনের ব্যাপার তো নয়। এই আপদ বেশিদিন থাকবে না। অতীতে দেখা গেছে যে ভাইরাস ঘটিত এ রকম মহামারী খুব বেশিদিন থাকে নাÑ আশা করি এটাও একসময় চলে যাবে। ওষুধফষুধও বের হয়ে যাবে। মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিয়াংয়ে গিয়ে প্রার্থনা না হয় পরিস্থিতি ঠিক হলেই করবেন। ভালো থাকুন, ঘরে থাকুন। হাত ধোয়া ইত্যাদি মেনে চলুন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত