প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গুজবের শহর শ্রীমঙ্গল: মধ্যরাতে আজান, মিছিল ও উলুধ্বনি

স্বপন দেব ও রাহাত আহমদ, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : [২] করোনা আতঙ্কে বিপর্যস্ত মানুষ যখন মধ্যরাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঠিক তখনই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল আর হবিগঞ্জের বাহুবল ও নবীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একটি মহল করোনাভাইরাস ও ভূমিকম্পের গুজব রটায়।

[৩] আর এ গুজবকে বিশ্বাস করে কিছু মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে কেউ আজান দিয়েছেন, সাথে আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মিছিল করেছেন। আবার হিন্দুধর্মের কিছু মানুষ উলুধ্বনি ও কীর্তন শুরু করেন।

[৪] করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে সরকার যখন মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার কথা বলছেন আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছেন। তখন এধরনের গুজবের কারণে মিছিলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

[৫] হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের গনজাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের মাইক থেকে প্রচার করা হয় ‘এলাকাবাসী আপনারা ওঠেন, রাত দুইটায় ভূমিকম্প হবে’। সেসময় দেয়া হয় আজান। যার কারণে মানুষ ভয়ে একত্রিত হতে থাকে।

[৬] অন্যদিকে শ্রীমঙ্গলে মধ্যরাত থেকে ভূমিকম্পের গুজব প্রচার করা হলে শুরু হয় হরিনাম কীর্তন ও উলুধ্বনি সেই সাথে আজান এবং আজানের পরপর অনেকে মিলে মিছিলও দিয়েছেন কিছু এলাকায়।

[৭] মিরপুরের মুন্না বনিক বলেন, রাত ১২টার ভূমিকম্পের গুজবে হিন্দু ধর্মের মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে ভয়ে সবাই এক হয়ে কীর্তন শুরু করেন। অন্যদিকে মুসলিম ধর্মের মানুষ আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মিছিল শুরু করেন। যা করোনা সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

[৮] শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকার শামছুল হক এবং শিপন পাল বলেন, মধ্যরাতে ক্লান্ত মানুষের ঘুম নষ্ট করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আজান দেয়া হচ্ছে, সেই সাথে উলুধ্বনি কীর্তণ। এটা কিধরণের কান্ডঞ্জানহীন কাজ? আমরা সচেতন হবো কবে? শামছুল হক বলেন,আমি নিজ উদ্যোগে কয়েকটি মসজিদ কমিটিকে বলে গুজব বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছি।

[৯] এসব গুজবের বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালেক বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। যারা গুজব রটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত