প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গত একমাসে বিদেশফেরত প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার, কোয়ারেন্টাইনে ১৫৬৮ জন

যশোর প্রতিনিধি : [২] করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যশোরে বিদেশ ফেরত প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার জনকে খুঁজছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। এই ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইনে (বাড়িতে পৃথকবাস) থাকার কথা। কিন্তু তারা সে নির্দেশনা মানছেন না। তাদের খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। যশোর জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১ হাজার ৬৬৭ জন। এর মধ্যে ৯৯ জনের শরীরে করোনার জীবানু না পাওয়ায় ইতিমধ্যে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকী বিদেশ ফেরত প্রায় ২০ হাজার জন কোথায় ? এই প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র।
[৩] গত একমাসে যশোরে প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে যশোরে ফিরেছেন। এদের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৫৬৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বাকিদের অবস্থানের তথ্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। তবে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে যশোরের আট উপজেলায় বিদেশ ফেরতদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলার সব ইউপি সদস্যদেরকে প্রধান করে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। কদিনধরে বিদেশ ফেরত ব্যক্তির বাড়িতে লাল নিশানা (পতাকা) টাঙানো শুরু হয়েছে। লাল নিশানা টাঙানোর উদ্দেশ্য বিদেশ ফেরত ও তাদের পরিবারের মাধ্যমে যাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ছড়ানো ঠেকানো যায়। বিদেশ ফেরতসহ তাদের পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতেই লাল নিশানা টাঙাচ্ছে প্রশাসন। তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন জনপ্রতিনিধি এবং জনসাধারণ। করোনার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি-পরিবার থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সচেতন করা হচ্ছে সকলকে।
যশোর জেলা প্রশাসক ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, গত এক মাসে ২৩ হাজার মানুষ বিদেশ থেকে যশোরে ফেরত এলেও সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে নেই। বাকীরা কোথায় আছেন, কিভাবে আছেন তার কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। আমাদের কাছে ২৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। যাদের পাসপোর্টে যশোরের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তারা সবাই যশোরে অবস্থান করছেন কিনা তা আমাদের জানা নেই। তালিকাটি সব উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। যশোরে অবস্থান করলে সব বিদেশফেরত ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে আনতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। আবার অনেকেই যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে বলা হচ্ছে তারাও সঠিকভাবে নিয়ম মানছেন না। সংগত কারণে যশোরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই কাজের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য দিয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি ওয়ার্ডের বিদেশফেরত ব্যক্তির হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করছেন। কোনো ব্যক্তি কমিটির নির্দেশনা না মানলে জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করবেন। সবাইকে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে গত ১ মার্চ থেকে যশোরে ফেরা প্রবাসীদের মধ্যে যারা পাসপোর্টের ঠিকানার বাইরে অন্য ঠিকানায় অবস্থান করছেন তাদের শিগগিরই নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ। সেই সঙ্গে বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য যশোর জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে।

যশোরে হোম কোয়ারেন্টাইনে আরো ২৭৮ জন
যশোর জেলায় বুধবার ২৫ মার্চ করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আরো ২৭৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার ২৪ মার্চ কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ১ হাজার ২৯০ জন। তা বেড়ে দাড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬৭ জনে। এর মধ্যে ৯৯ জনের শরীরে করোনার জীবানু না পাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকির সময় পার হওয়ায় তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ২৫ মার্চ রাতে যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, যশোর জেলায় ১ হাজার ৬৬৭ জনকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে নির্দেশ অমান্য করবে তাদের ব্যাপারে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্দেশ অমান্যকারীদের জেল-জরিমানা করবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তারা বেশীর ভাগই প্রবাসী ও তাদের স্বজন। বাড়িতে আসার পরই তাদের জ্বর, সর্দি ও কাশি হয়। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার শরীরে করোনার সন্দেহ বা জ্বর, সর্দি ও কাশির উপস্থিত পাওয়া যায়। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে তাদের সংস্পর্শে আসা সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যশোরে সদর হাসপাতালে ১০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে ৫ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট বা পাচটি করে বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। যশোরে প্রবাসীদের অনেকে বাড়ি আসছেন। এতে করে যশোরের ঝুঁকিটা স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস নিয়ে সর্বাত্মকভাবে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রবাসী যারা বাড়িতে আসছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হচ্ছে। তবে যারা এটা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ড. শেখ আবু শাহীন বলেন, সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বর ও গলাব্যথার সমস্যা হলে হাসপাতালে ভিড় না করে ঘরে বসেই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শের ব্যবস্থা করেছি। ১২ জন চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা সেবা দেবেন। সেবা পেতে যেকোনো মানুষ নি¤েœাক্ত মোবাইল নম্বরে কল করতে পারেন : ০১৭৪০-২৩৪০৩৪ (চৌগাছা), ০১৭৫৬-৮০০৪৯৬ (বাঘারপাড়া), ০১৭১৮-২৮৬৭৬৭ (আভয়নগর), ০১৭৯৫-২২৪৭৮১ (সুন্দরী ইউনিয়ন), ০১৮২৮-৮৫৮৩১৯ (কেশবপুর ইউনিয়ন), ০১৭২৩-৮৭৪০০০ (কেশবপুর), ০১৮১৮-৪০০৭৬৭ (রোহিতা ইউনিয়ন), ০১৭৮১-৯১৬১৯৮ (চালুয়াহাটি ইউনিয়ন), ০১৬৭০-৬৬৫০২৩ (ঝিকরগাছা ইউনিয়ন), ০১৭১২-৩৮১৩৩৯ (শার্শা, উলশী ইউনিয়ন), ০১৯১৩-৯৫০৪০৩ (যশোর), ০১৭১৭-৮৬৪০৬০ (যশোর)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত