প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা আতঙ্কে জেলখানা থেকে বন্দীদের ছেড়ে দিচ্ছে বহু দেশ

ইয়াসিন আরাফাত : [২] জেলখানাগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি বন্দী থাকায় সেখানে ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখা কঠিন। এর ফলে সেখানে মানুষ থেকে মানুষে কোভিড-১৯ রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি।পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, এমনকি ভারতেও কিছু বন্দীকে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, দ্য হিন্দু

[৩] করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবেলায় ইরানের কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৮৫ হাজারের মতো বন্দীকে মুক্ত করে দিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক বন্দীও রয়েছেন।

[৪] যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের জেলখানা থেকে বন্দীদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনও করেছে। নিউ জার্সির কারাগার থেকে এক হাজারের মতো বন্দীকে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।

[৫] সারা বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জেলখানাগুলোতে সবচেয়ে সংখ্যক বন্দী আটক রয়েছে। ধারণা করা হয় কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের কারাগারগুলোতে ২৩ লাখের মতো বন্দী রয়েছেন।ইতোমধ্যে নিউ ইয়র্কের জেলখানাতে কমপক্ষে ২৯ জন বন্দী এবং ১৭ জন কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে
এর পরই শহরের মেয়র বিল ডে ব্ল্যাসিও কিছু বন্দীকে খুব দ্রুত ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছেন।

[৬] ব্রিটেন সরকারও এই মহামারির কারণে জেল থেকে কিছু বন্দীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।দেশটির বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড বলেছেন, জেলখানায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের বড়ো ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। কেননা অনেক জেলখানাতেই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি সংখ্যক বন্দী আটক রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনাভাইরাসের কারণে ব্রিটেনের জেলগুলোতে আটশোর মতো বন্দীর মৃত্যু হতে পারে।

[৭] ব্রিটেনের কয়েকটি কারাগারে ইতোমধ্যেই বন্দীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ৯টি কারাগারে ১৩ জন বন্দীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছো। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে আরও কিছু জেলখানাতেও এধরনের সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।

[৮] বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারতের কেন্দ্রীয় তিহার জেল থেকেও তিন হাজারের মতো বন্দীকে জরুরি ভিত্তিতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ইন্দোনেশিয়ার একটি জেলখানায় জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।

[৯] আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও আটক বন্দীদের মধ্যে যারা বয়স্ক এবং যাদের নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা আছে তাদেরকে “তাৎক্ষণিকভাবে” মুক্তি দেওয়ার আহবান জানিয়েছে।

[১০] এই পরিস্থিতিতে কারাগার বন্দীদের জন্যে কেন ঝুঁকি এই প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে দেশের কারাগারেই বন্দীদের গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। একটি সেলে যতো বন্দী থাকার কথা, তারচেয়েও বেশি সংখ্যক বন্দী সেখানে বসবাস করছে। ফলে একজন আরেকজনের কাছ থেকে যতোটা দূরত্বে থাকা দরকার ঠিক ততো দূরে তারা থাকতে পারছে না।

[১১] এছাড়াও জেলখানায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। সেখানে টয়লেট নোংরা থাকে এবং যথেষ্ট পরিমাণে সাবান থাকে না। অ্যালকোহলের কারণে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও কারাগারে নিষিদ্ধ।পাশাপাশি যারা হাতকড়া পরেন তারা হাঁচি কাশির সময় মুখ ঢাকতে পারেন না, সেকারণে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত