প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঝিনাইদহে কিস্তি আদায়ে থেমে নেই সুদখোর ও এনজিওগুলো

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : [২] করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে ঝিনাইদহের নি¤œ আয়ের ঘরবন্দি মানুষ যখন জীবন যাপনে হাসফাস করছে তখন সুদখোর ও কতিপয় এনজিও ঋন আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা জেলা প্রশাসকের অনুরোধ উপেক্ষা করে গায়ের জোরে গ্রামে গ্রামে পাড়া মহল্লায় গিয়ে জোর পুর্বক কিস্তি আদায় করতে দেখা গেছে।

[৩] বুধবার সিও এবং সৃজনীসহ প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান কিস্তি আদায় করেছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা শহরে বিভিন্ন সুদখোররা বিশেষ কৌশলে তাদের টাকা আদায় অব্যাহত রেখেছে। অনেকে সুদখোরদের অত্যাচারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। শহরের একজন সুদখোর মিষ্টি ব্যবসায়ী গাঢাকা দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলায় ব্র্যাক, আশা, গ্রামীন, সিও, সৃজনী, এইড, এডাব, সাঁকো, পল্লী মঙ্গল ও ব্যুরোসহ বিভিন্ন এনজিও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের ঋণ দিয়ে থাকেন।

[৪] দেশের এই দুর্যোগ মুহুর্তে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ৪ দিন আগেই এনজিওদের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। ডিসির এই অনুরোধে অনেকে বিলম্বে সাড়া দিয়ে কিস্তি আদায় বন্ধ রাখলেও ঝিনাইদহের সিও এবং সৃজনী বুধবার পর্যন্ত কিস্তি আদায় করেছে। হলিধানী এলাকার এক প্রবাসি জানান, তার কাছে এনজিওরা ঘন ঘন ফোন করে কিস্তি প্রদানের জন্য। এক পর্যায়ে তিনি আত্মহত্যার হুমকী দেন। এরপর দুটি এনজিও চিঠি দিয়ে হলিধানী এলাকায় কিস্তি আদায় বন্ধ করেন। তবে সিও এনজিও বুধবার কিস্তির টাকা তুলেছেন বলেও ওই প্রবাসি অভিযোগ করেন।

[৫] মঙ্গলবার পৌরসভার শিকারপুর গ্রামে কিস্তি তুলতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন সিও এনজিও কর্মীরা। এ সময় সংবাদ কর্মীরা তাদের কাছে জেলা প্রশাসকের অনুরোধের কথা জানতে চাইলে মহিলা ওই মাঠকর্মী জানান, সিও অফিসে আমরা যুদ্ধ করেছি ফিল্ডে না আসার জন্য। কিন্তু আমাদের জোর করে পাঠানো হয়েছে। সৃজনীর কর্মীদেরও একই কথা। তাদের ভাষ্য ২৬ মার্চ থেকে আমাদের কিস্তি আদায় বন্ধ হবে। সরকারী ভাবে এটাই বলা হয়েছে।

[৬] খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থানে দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। লোকজন চলাচলও সীমিত। ফলে নি¤œ আয়ের মানুষদের কর্মসংস্থান কমে গেছে। এতে দিনমজুর-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় নেই। এমন পরিস্থিতিতে এনজিওর ঋণ আদায় কার্যক্রম মানুষকে মহাদুর্ভোগে ফেলে দিচ্ছে। এমনিতেই খেটে খাওয়া মানুষেরা হয়ে পড়ছেন বেকার। এমতাবস্থায় এনজিওর সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তির টাকা জোগাড় দূরের কথা খাবার কেনার টাকা জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ঝিনাইদহে বৈধ অবৈধ শতাধিক এনজিও নিয়মিত ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

[৭] এসব এনজিও থেকে হাজার হাজার মানুষ চড়াসুদে ঋণ সংগ্রহ করেছেন। এতে ঋণগ্রহীতারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগীরা জানায়, কিস্তির টাকা না দিলে কর্মীরা আদায়ের জন্য ঘরের বারাান্দায় বসে থাকেন, গালমন্দ করেন, হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে সিও এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক শামছুল ইসলাম গনমাধ্যম কর্মীদের জানান, শুধু আমি একা নয়, ঝিনাইদহে প্রায় ৬০টি এনজিও কিস্তির টাকা আদায় করেছে। সরকার আমাদের চিঠি দিয়েছে। সে মোতাবেক আমরা ২৬ মার্চের পর থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কিস্তির টাকা তুলবো না।

[৮] একই কথা জানান সৃজনীর নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, সরকারী ঘোষনা মেতাবেক ২৬ মার্চের পর থেকে কিস্তির টাকা উঠাবো না। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অফিসের ডিডি আব্দুল লতিফ শেখ জানান, তাদের কাছে ক্রেডিট প্রোগাম করে এমন এনজিওর কোন তালিকা নেই। তাই কিছু করতে পারছেন না। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত