প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভারতের আইটেক স্কলারশিপ শেষে দেশে ফিরে ১৬ সাংবাদিক স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে

নিউজ ডেস্ক : [২] বিশ্বজুড়ে বন্ধু প্রতীম দেশগুলোর পেশাজীবিদের দক্ষতা উন্নয়নে ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিশেষ প্রকল্প ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল এন্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন আইটেক শিক্ষা বৃত্তি শেষ করে দেশে ফিরে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৬ জন সাংবাদিক। সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটে ডিজিটাল এন্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের উপর এক মাসের শিক্ষা বৃত্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে ভারতের কোলকাতা থেকে শনিবার ফিরে আসে সাংবাদিক দলটি। বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ১৬ জন সাংবাদিক আইটেক স্কলারশিপে অংশ নিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী কোলকাতায় গিয়েছিলেন। নিউজ স্নো বাংলা

[৩] সাংবাদিকদের স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট দিয়েছেন।

আয়নায় নিজের মুখ না দেখে সমালোচনা নয়! আপনাদের অনেকের মতো বিদেশে ঘুরতে, প্রশিক্ষণ নিতে এমনকি পড়তে ও কাজের সুবাদে যেতে আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয়ের একটি। উহানে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে আমি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশ ভ্রমণের সব সুযোগ রিগ্রেট করে দিয়েছি। শুধু
তা-ই নয়, পরিবারের যারা চিকিৎসা নিতে বিদেশ যেতে আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিয়ে ফিরতে বলেছি।মার্চের শুরুতে বাংলাদেশে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে, আমরা পুরো পরিবার অফিস, বাসা ও জরুরি প্রয়োজনের জায়গাগুলো ছাড়া মুভ কমিয়ে দেই। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরের আমন্ত্রণ সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করি। সেই সফর ফেরত সহকর্মীদের আশেপাশে রেখে শংকা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রতিবাদও করেছি। ওই সফরে অনেক সিনিয়র সাংবাদিকদের দেশে ফিরেই অফিসে ও বিভিন্ন সভায় দেখে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। ঘরবন্দী থাকার অনুরোধ করেছি। দেশের পরিস্থিতি আরো নাজুক হলে মার্চের ১১ তারিখ থেকে আমি ছাড়া মা-ভাই-বোন সপরিবারে বাসায় বন্দী। এক পাড়ায় থেকেও আমরা ফোনে যোগাযোগ করি। আমার মেয়েটা সারাদিন একা কাটাচ্ছে বাপ-মা ছাড়া, তবুও খালা-মামা-নানুদের কাছে যায় না! মিরপুরে বসবাস করছে আরেক বোন ও তার বরকে ওদের অফিস আগেই বাসায় বসে কাজ করার সমস্ত সেটিংস করে দিয়ে গেছে। হ্যা, বিশিষ্ট রাজনীতিক তমি ভাইকে খুব একটা বন্দী রাখা যাচ্ছে না, তবে তিনি হেক্সিসল ও সাবানের সাথেই বসবাস করতে করতে পাড়ায় কোভিড ১৯ মোকাবেলার চেয়ে ভোট নিয়ে কাজ বেশি করেছেন বুঝলাম উপনির্বাচনে ভোটদানের সংখ্যা দেখে। তার উপজেলা দেশের প্রথম লকডাউন শহর হওয়ার পর অবশ্য তিনি ট্রমার মধ্যে আছেন। এখন যদি চলাফেরা আরো সীমিত করে আমাদের ধন্য করে! আমার কামলার জীবন বলে নিজের সতর্কতা নিজেই নিশ্চিত করে অফিস করতেই হচ্ছে। সহকর্মীদের সতর্কতা ব্যবস্থার জন্য যা দরকার অনুভব করছি খোলামনে অফিসকে জানাচ্ছি। দেশের একজন হিসেবে খুব বড় পরিসরে কাউকে হেল্প করতে না পারলেও যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং করে দিচ্ছি। মিডিয়ার সতর্কতামূলক চর্চাগুলো নিজেদের মধ্যে শেয়ার করছি। অফিস ছাড়া সবই করছি ডিজিটাল মাধ্যমেই। অফিসের পরিবহন না থাকলে হয়তো অফিস করার ঝুঁকিও নিতে পারতাম না। এই যে আমার মতো বন্ধুপ্রিয় আড্ডাবাজ পরিবারের মানুষ নিজে এতো সীমিত পরিসরে জীবন যাপন করছি, সেটা আপনাদের কাছে কিছুই না হতে পারে! আমার কাছে অনেক বড় বিষয়! তবুও অসংবেদনশীল বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য ঝু্ঁকিতেই কাটছে প্রতি মূহুর্ত! এমন বাস্তবতায় রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসন, মিডিয়াকে আরো দায়িত্বশীল করতে আমার সমালোচনা করার পুরো অধিকার রয়েছে। আশার কথা, ভারত ফেরত সবশেষ সাংবাদিক দলটি (Naznin Munni শামীমা দোলা Ashiqur Rahman Apu সহ অনেকেই) হাতে সিল নিয়ে স্বেচ্ছা হোম কোয়ারেন্টাইন করার যে মানসিকতা দেখাচ্ছে তা অবশ্যই পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি তাদের দায়িত্বশীল আচরণ। সরকারের কাঁধে সব না চাপিয়ে সবাইকে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে। সবার দায়িত্ব মনে করাতেই হয়তো ক্ষুদে অদৃশ্য দৈত্য কোভিড ১৯ এর আগমন। দোষারোপে মুক্তি মিলবে না কিছুতেই। হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলেও হবে না। প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবেই। নিজের সাধ্যমতো অন্যের পাশেও দাঁড়াতেই হবে! #FightAgainstCOVID19 #StayHygieneStaySafe #StayHomeLetCOVID19BeDestroyed

[৪] এক মাস পর যখন সন্তান কে দেখতে পাবেন। তখন তাকে বুকে জড়ানো যাবে না। দুর থেকে কেবল একবার দেখা যাবে । এমন দিনও আসবে কে ভেবেছে কবে? স্যুটকেস ভর্তি তার জিনিস। চকলেট টা, তার অনেক চাওয়া গল্পের বইটা কোনকিছু তার হাতে দেয়া যাচ্ছে না। আমি আতংক নিয়ে সেগুলির দিকে তাকিয়ে আছি। আসলেই কি তাকে দেয়া যাবে এগুলো? তার কাছ থেকে , পুরো পরিবার… এমনকি পুরো ভবনের সবার কাছ থেকে আলাদা আছি। একা! একটা পুরো বাসায়। বাকি রুমগুলো খা খা করছে। এমনদিনও আসার কথা তাহলে? অথচ আমি জানি আমি সুস্থ। তারপরও এই নির্বাসন। কারন আমি আমার পরিবারের চেয়েও দেশটাকে ভালোবাসি । ভালোবাসি এদেশের প্রতিটা মানুষকে। আমার জন্য তাদের কারো ক্ষতি না হোক…. কেবল একটা জিনিসই বুঝলাম না, গোসল করার সাথে সাথে কোয়ারেন্টাইনের সিলটা উঠে গেলো কেন?!!! বিষয়টার কোথাও কি কোনো মশকরা আছে?

আইটেক স্কলারশিপ অংশ নেয়া শিক্ষার্থী ও নিউজ নাউ বাংলার সম্পাদক শামীমা দোলা তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেনঃ
[৫] আজ থেকে শুরু হলো আমার ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন!! আমি আরো খুশি হতাম যদি বাসায় না থেকে অন্য জায়গায় থাকতে হতো!! আমার পরিবারের জন্যে ন্যুনতম আশংকা থাকতো না।
[৬] এবার আইটেক স্কলারশিপের মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কোর্সে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, গাম্বিয়া, নামিবিয়া ও ভিয়েতনামের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত