প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নওগাঁয় চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা

নওগাঁ প্রতিনিধি: [২] হঠাৎ করেই খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত উত্তরাঞ্চল নওগাঁয় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) বেড়েছে প্রায় ৩০০-৩৫০ টাকা। বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এসুযোগে এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা চাউলের দাম বৃদ্ধি করেছে বলে মনে করছেন সচেতনরা।

[৩] ব্যবসায়ীরা বলছেন,  প্রতি বছর এ মৌসুমে বোরো ধান ঘরে উঠার আগে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। চালের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যখন সবকিছুর দাম উর্ধ্বমূখী তখন চালের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেলে কোন সমস্যা হবে না। তবে দামের সাথে করোনার কোন প্রভাব নাই বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

[৪] নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাউল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি স্বর্না-৫- ৩৪/৩৫ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৩০ টাকা, জিরাশাইল ৪৮ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৪৬ টাকা, আটাশ ৪০ টাকা, যা পূর্বে ছিল৩৮ টাকা, মিনিগেট ৫৪ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৪৮টাকা, কাটারি ৬০ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৫৬ টাকা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকার ভেদে প্রতিকেজি চাল ৪-৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

[৫] ৫০ কেজি ওজনের বস্তা স্বর্না-৫ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০শ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ৪০০শ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকা, জিরাশাইল ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ৯০০শ থেকে ২ হাজার টাকা, কাটারি ২ হাজার ৫০০শ থেকে ২ হাজার ৬০০শ টাকা, যা আগে ছিল ২ হাজার ২০০শ থেকে ২ হাজার ৩০০শ টাকা, মিনিগেট ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩০০শ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ৯০০ শ থেকে ২ হাজার টাকা।

[৬] সদর উপজেলার শেরপুর গ্রামে সামসুদ্দিন বলেন, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭জন। প্রতিদিন তিনবেলা খেতে প্রায় ৩ কেজি চাউল লাগে। বাড়িতে একটু চাউল আছে। স্বর্ণা-৫, ৩৫ টাকা কেজি দরে ২ কেজি চাউল ৭০ টাকায় কিনেছেন। কিছুদিন আগে যে চাউল ৩০ টাকায় কিনেছিলাম। এখন তা ৩৫ টাকায় কিনতে হয়েছে। এক লাফে কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা বৃদ্ধি পেলে আমাদের মতো দরিদ্রদের হিমশিম খেতে হবে।

[৭] খুচরা চাউল বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে ধান চালের অভাব নাই। মজুমদাররা বেশি লাভের আশায় দাম বাড়াচ্ছেন। করোনা যেখানে সারা বিশ্ব থমথমে, সেখানে দেশের বাজারের চালের দাম অস্থির। প্রশাসনের উচিত বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা।

[৮] নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাউল ব্যবসায়ী সমিতি সাধারন সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, মোকামে চাল সংকট। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় যানবাহন কম চলাচল করছে। মৌসুমের শেষ সময় এবং করোনার প্রভাব এ দুয়ে মিলে বাজারে চালের দামের প্রভাব পড়েছে।

[৯] নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা হুজুগে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুদিন আগেও লবন কান্ড ঘটেছিল। তবে প্রতি বছরের এই সময়ে বাজারে একটু চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। জেলা প্রশাসকের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে শিগগিরই বাজারে অভিযানে নামবেন বলে জানান তিনি। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত