প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা সংক্রমণ রোধে ৭৭টি রাসায়নিক পদার্থ চিহ্নিত করলো সুপার কম্পিউটার

মাজহারুল ইসলাম : [২] সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ বর্তমানে বিজ্ঞানীদের জন্য এক অভাবনীয় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এর দ্রæত সংক্রমণের সক্ষমতা সারাবিশ্বকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। মানবজমিন

[৩] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর সংক্রমণ রোধে হাত ধোঁয়া, মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ নানা পদক্ষেপ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খুব শিগগির এর টিকা আবিষ্কারের সম্ভাবনা নেই। কিন্তু এতো কিছুর মধ্যে এবার আশা জাগিয়েছে বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার।

[৪] সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, করোনা সংক্রমণ রোধে সক্ষম, এমন ৭৭টি রাসায়নিক পদার্থ চিহ্নিত করেছে সুপার কম্পিউটার। কম্পিউটার হার্ডওয়ার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আইবিএম এর আইবিএম সুপার কম্পিউটার সামিট। এটি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একটি কম্পিউটার। এ বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার ওষুধ বিশ্লেষণ করে এসব পদার্থ সনাক্ত করেছে ওই কম্পিউটারটি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি করোনভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

[৫] সিএনএন এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ক্যামআরভিক্স সাময়িকীতে সুপার কম্পিউটারের এ আবিষ্কারের কথা প্রকাশ করেছে ওক ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকরা। ওই সামিট তৈরির মূল লক্ষ্যই ছিলো বিশ্বের জটিল সমস্যার সমাধান করা। সামিটে রয়েছে ২০০ পেটাফ্লপস। এর মানে, এটি প্রতি সেকেন্ডে ২০০ কোয়াড্রিলিয়ন হিসাব সম্পন্ন করতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ল্যাপটপের তুলনায় এটি ১০ লাখ গুণ বেশি দ্রæত কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

[৬] সিএনএন জানায়, সামিট এখন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে। করোনা ভাইরাস মানুষের দেহের কোষগুলোকে জেনেটিক পদার্থ দিয়ে তৈরি ‘স্পাইক’ দিয়ে আক্রমণ করে আক্রান্ত করে। সামিটের কাজ ছিলো ওই স্পাইককে আটকে দিতে সক্ষম এমন পদার্থ খুঁজে বের করা। যাতে ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধ করা যায়।

[৭] সামিটের সাহায্যে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, এ ভাইরাসটি বিভিন্ন পদার্থের ক্ষেত্রে কি কি রকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। সামিট এ রকম ৮ হাজার পদার্থের সিমুলেশন চালিয়ে, সেখান থেকে ৭৭টি পদার্থকে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে সক্ষম হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

[৮] ওক রিজের গবেষণা দল জানিয়েছে, সামিটের সাহায্যে আরও নিখুঁত মডেল দিয়ে আবারও পরীক্ষা চালানো হবে। রাসায়নিক পদার্থ চিহ্নিত করাই ভাইরাসটির সংক্রমণ থামাতে সক্ষম নয়, পরবর্তি পদক্ষেপ হচ্ছে পরীক্ষামূলক গবেষণা চালিয়ে কার্যকরী পদার্থগুলো খুঁজে বের করা।

[৯] ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি সেন্টার ফর মলিউকুলার বায়োফিজিক্সের পরিচালক জেরেমি স্মিথ জানান, আমরা করোনাভাইরাসের কোন টিকা বা চিকিৎসা পাইনি। তবে এই তথ্যগুলো ভবিষ্যৎ গবেষণায় কাজে লাগবে। টিকা তৈরির পথে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সর্বাধিক পঠিত