প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রাইভেট প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট নিশ্চিত না করলে চিকিৎসকরা সেবা দিতে বাধ্য না, এফডিএসআর’র পক্ষে জানালেন ডা. আব্দুল লতিফ

শরীফ শাওন : [২] তিনি বলেন, করোনা আক্রান্তদের সেবা প্রদানে ডাক্তার, নার্স বা ক্লিনার অনেক ক্ষেত্রে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন। তাদের পরিবার আছে, মৃত্যুর ভয়ও আছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া তাদের চিকৎসা ক্ষেত্রে পাঠালে মানবধিকার লঙ্ঘন হবে। রাষ্ট্র চাকরি দিতে পেরেছে, নানান তদারকি করতে পারলে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত কারার দায়িত্বও পালন করতে হবে।

[৩] ডা. আব্দুল লতিফ বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন রোগী দেখেন কমপক্ষে ৯০ হাজার চিকিৎসক। একজন চিকিৎসকের জন্য প্রতিদিন একটি করে প্রাইভেট প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) প্রয়োজন, আগামী ৩ মাসের জন্য পিপিই লাগবে ৫.১ মিলিয়ন।

[৪] তিনি বলেন, করোনায় সেবা প্রদানে ডাক্তারদের এবং বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে করণীয় নিয়ে, তাদেরকে গাইডলাইন দেয়া হয়নি। কোথায় কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন, ঘুরছেন, কাদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন সেক্ষেত্রেও মনিটরিং নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করলেও ঘুরতে যেতে পারবেন না, এমন কোন চিঠিও শিক্ষার্থীদের বা পরিবারকে দেয়া হয়নি।

[৫] তিনি আরও বলেন, বিশ্বে করোনা সংক্রমনের ২ থেকে আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশে এখনো প্রটোকল, যথেষ্ট স্যানিটাইজার, সাবান ও খাবারের মজুত নিশ্চিত করা যায়নি। জনসমাগম বন্ধ নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি।

[৬] দায়িত্বরতরা কর্তব্যে অবহেলা করেছেন বলে জানান, বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার, গণমাধ্যমকর্মী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সমাজকর্মী, আইশৃঙ্খলা বাহিনী, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের একত্র করে টাস্কফোর্স গঠন করা উচিত ছিল।

[৭] বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনা আক্রান্তে ৯৯ শতাংশ রোগী আরোগ্য লাভ করছেন, যাদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ চিকিৎসা ছাড়াই ভাল হচ্ছেন। ৫ থেকে ১০ শতাংশ রোগী ডাক্তারের কাছে যান এবং ২ থেকে ৩ শতাংশকে আইসিইউতে রাখার প্রয়োজন হয়।

[৮] তিনি বলেন, করোনা তেমন ভয়াবহ রোগ না, এটি সাধারন সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতই। অনেকেই জানেন না যে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন, সর্বোচ্চ ৭ দিনেই তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। বরং অন্যান্য ভাইরাস করোনার চেয়েও মারাত্মক।

[৯] তিনি আরও বলেন, ‘ডাক্তারদের নিরাপত্তা রক্ষায় মার্চ মাসেই তাদের একটি গাইডলাইন দেয়া হয়েছে, একটা আইডিয়া দেয়া হয়েছে। বেসিকেলি গাইডলাইন তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

[১০] ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নতুন রোগ হিসেবে উন্নত দেশগুলো হিমশিম খেলেও বাংলাদেশে এখনও ভয়াবহ পরিস্থিতি হয় নি। সম্প্রতি যিনি মারা গেছেন, তিনি বয়স্ক এবং অনেক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাই করোনাতেই মারা গেছেন বলা যাবে না।

[১১] বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেসপন্সিবিলিটিস (এফডিএসআর) এর ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডাক্তারসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত