প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালিয়াকৈরে গ্রাহকের ৩০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে ভুয়া এনজিও উধাও থানায় বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার-১

ফজলুল হক, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি : [২] গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্রাহকের প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে এক ভুয়া এনজিও উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ১৯ দিন পর কৌশলে ওই ভুয়া এনজিও পরিচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ এলাকাবাসী। টাকা ফেরত পেতে গত দুদিন ধরে থানায় হাজির হয়ে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
[৩] গ্রেপ্তারকৃত হলেন, গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর থানার গোপালপুর এলাকার আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে মিজানুর রহমান। তিনি গ্রাম সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি ভুয়া এনজিও’র পরিচালক বলে জানা গেছে।
[৪] এলাকাবাসী, গ্রাহক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান ঢাকার মুহাম্মদপুর থানা এলাকায় বাসা ভাড়া থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া এনজিও প্রতিষ্ঠান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসখানেক আগে কালিয়াকৈর উপজেলা শিমুলতলী এলাকায় গ্রাম সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি ভুয়া এনজিও খোলেন। পরে উপজেলার কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় সাগর আহম্মেদের হল মার্কেটের নিচ তলায় একটি অফিস নিয়ে তার ভুয়া এনজিও পরিচালনা করে আসছিলেন। পরে স্থানীয় কিছু বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা নিয়ে ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ হয়। এছাড়া প্রতি গ্রাহকদের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ১০০ টাকা এবং প্রতি সদস্যদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে সঞ্চয় আদায় করে। এরই মধ্যে শেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে ১ হাজার ৪০০ করে টাকা উঠায় ওই এনজিও কর্তৃপক্ষ। এভাবে তিনি প্রায় ১ হাজার ৬০০ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন মিজানুর রহমান। এরা সবাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারী গ্রাহক। এরপর তিনি হঠাৎ করেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারী এনজিও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যান। পরের দিন খবর পেয়ে গ্রাহক ও তাদের পরিবারের লোকজন এনজিও কার্যালয়ে তালা ঝুলানো দেখে হতাশা গ্রস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি টের পেয়ে ওই হল মার্কেটের মালিক সাগর আহম্মেদ ওই ভুয়া এনজিওর সাইবোর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণাদি সরিয়ে ফেলেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা। এ ঘটনার ১৯ দিন পর গত মঙ্গলবার বিকেলে কৌশলে এনজিও পরিচালক মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুয়া এনজিও পরিচালককে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই এনজিও কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন গ্রাহকরা। এদিকে ওই এনজিও পরিচালককে পুলিশে নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রাহক থানা হাজির হন এবং টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় পুলিশ বিক্ষুব্দ গ্রাহকদের বুঝিয়ে শান্ত করলে সন্ধ্যার দিকে তারা বাড়ি চলে যায়। এ ঘটনায় সুজন মিয়া নামে এক গ্রাহক বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওইদিন রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ভুয়া এনজিও পরিচালকের বাড়ি থেকে ২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। পরের দিন বুধবার সকাল থেকে শত শত গ্রাহক ফের থানায় হাজির হন এবং বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশ বুঝিয়ে বিক্ষুব্দ গ্রাহকদের শান্ত করে। পরে দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমানকে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ওই ভুয়া এনজিও পরিচালক মিজানুর রহমানের নামে নারায়নগঞ্জের বন্দর থানায় একটি মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ ব্যাপারে সৈয়দ পাভেল রেজবী, আতিকুজ্জামান মারুফ, নুর নবী, সুজন মিয়া, আয়শা আক্তার, সুমী আক্তারসহ বেশ কিছু গ্রাহকরা বলেন, হল মার্কেটের মালিক ও এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থানীয়, ফলে তাদের ভরসায় আমরা সেখানে সদস্য হয়েছি। আর সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা নিয়ে ওই এনজিও পালিয়ে গেছে।
এব্যাপারে ওই হল মার্কেটের মালিক সাগর আহম্মেদ জানান, এই এনজিও পরিচালক সিকিউরিটি’র কিছু টাকা দিয়ে আমার ঘর ভাড়া নেয়। পরে খবর পাই তিনি পালিয়ে গেছেন। তবে এনজিও’র সাইনবোর্ডটি তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নামিয়ে রেখেছে। এছাড়া ওই এনজিও পরিচালকের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আর ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, এনজিও নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে প্রায় ২০-৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে কৌশলে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। তাকে আটকের খবর পেয়ে গ্রাহকরা থানায় ছুটে আসে। পরে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। এ ঘটনায় সুজন নামে এক গ্রাহক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত