প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবৈধ সুবিধা না পেয়ে ষড়যন্ত্র : ইউএনও
[১] নোয়াখালীতে ইউএনওর বিরুদ্ধে সাংসদের সংবাদ সম্মেলন

নোয়াখালী প্রতিনিধি : [২] নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্র্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নোয়াখালী-৩ আসনের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ কিরন। এদিকে ইউএনওর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেন ইউএনও মো. মাহবুব আলম।
[৩] বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ ভবনে সাংসদের নিজস্ব কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন করেন সাংসদ মামুনুর রশিদ কিরন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ডা. এবিএম জাফর উল্যা, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বিনয় কিশোর রায়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ মামুনুর রশিদ কিরন বলেন, ইউএনও ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৫ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। উপজেলার ১৯৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের বায়োমেট্রিক মেশিন ৭ হাজার টাকার এর স্থলে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে অতিরিক্ত টাকা আত্মসাৎ করে। হাটবাজার ও জলাশয়ের ইজারার টাকা তার সিএ জাহেরের যোগসাজসে সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ। মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে ৫ হাজার টাকা এবং এসএসসি/দাখিল,জেএসসি/জেডিসি, পিএসসি/এবতেদায়ী পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্র থেকে বাধ্যতামূলক ১৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহন করেন। গৃহহীনদের জন্য সরকারী অর্থে গৃহ নির্মানে অনিয়মসহ বিভিন্নক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে দ্রæত বদলি ও দূর্ণীতির বিচার দাবী করেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, দূর্ণীতিবাজ ইউএনও অপসারন না হওয়া পর্যন্ত মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও মো. মাহবুব আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ তা তো আমিই জানি না। তবে সরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের সুযোগ না দেওয়া, সাংসদ মামুনুর রশীদ কিরনের সুপারিশ না শোনা এবং টিআর, কাবিখার বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে স্থানীয় একটি পক্ষ নাখোশ হয়েছেন। এ কারণেই ক্ষুদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক এসব কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে।
ইউএনও দাবি করেন, হাটবাজার ইজারার সচ্ছতার কারণে এ বছর সরকারের অতিরিক্ত ৫১ লাখ টাকার বেশি সরকারি রাজস্ব আদায় হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিগত ১৪২৪ ও ১৪২৫ বাংলা বর্ষে হাটবাজার ইজারার বকেয়া থাকা ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি। এসব কারণেও ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় নেমেছে।
এরআগে গত সোমবার সকাল দশটা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের সামনের ফটকে ইউএনও মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে জুতা ও ঝাঁড়– নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সর্বাধিক পঠিত