প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইভিএম মেশিন থেকেও ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস বলছেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা

চট্টগ্রাম প্রতিদিন প্রতিবেদন : [২] ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) থেকেও ছড়াতে পারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু এরপরও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ (চসিক) কোন নির্বাচন পেছানো যাবে না। এদিকে সিইসির এমন মন্তব্যে দেশব্যাপী চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, নির্বাচনের ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। কারণ দেশে মহামারি আকার ধারণ করলে তা প্রতিরোধ করার মতো সক্ষমতা দেশে নেই। তাই সরকার আগেভাগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করাসহ গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাও স্থগিত করেছে। এর মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনের ‘একগুঁয়ে’ সিদ্ধান্তে হতাশ দেশের মানুষ।

[৩] এবারই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন (চসিক)। একটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে কয়েক হাজার ভোটার বৃদ্ধাঙ্গুলির চাপ দিয়ে ভোট দেবেন। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে তা ওই মেশিন ব্যবহারকারী সবার দেহে নিমিষেই ছড়িয়ে যাবে। এতে মহামারির আকার ধারণ করবে এ করোনাভাইরাস। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কথাকে কানেই নিচ্ছেন না সিইসি। এছাড়াও সরকার যেখানে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত বন্ধ করেছে। সেখানে সিইসি বলছেন ভিন্ন কথা।

[৪] করোনা ভাইরাসকে নিয়ে বিশ্বের মোড়ল দেশগুলো যেখানে ধরাশায়ী, সেখানে বাংলাদেশ শুরুতেই ছেলেখেলার মতো মামুলি ব্যাপার হিসেবের ধ্যানধারণায় চলছিল। কিন্তু বিদেশ থেকে দেশে আসা কয়েকজনের শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ পাওয়ায় সরকারও নড়েচড়ে বসেছে। কিন্তু একমাত্র সিইসি হাঁটছেন উল্টো পথে— এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. হাসান শাহরীয়ার কবীর চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, হাতের ছোঁয়া থেকেই করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই আমরা বারবার হাত ধোয়ার কথাটি বলছি। ভোটের ইভিএম মেশিনে অনেকজনের ছোঁয়া লাগতে পারে। এতে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে।

[৫] চট্টগ্রাম নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের প্রধান রিটানিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আপাতত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যেকেই ফলো করছি। কেন্দ্র থেকে পরবর্তী কোন সিদ্ধান্ত আসলে তা পরে বাস্তবায়ন হবে।’ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচন পেছাতে চায় না। ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়েও একই মনোভাব ইসির। সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা এসব তথ্য জানান।

[৬] করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই আতঙ্কগ্রস্ত। মানুষ দুশ্চিন্তায় আছে। আমরাও শঙ্কিত। তবে কমিশন এখন পর্যন্ত ২১ মার্চের নির্বাচন স্থগিত করতে চাইছে না। তিনি বলেন, যে নির্বাচনগুলো এখন মাঠে আছে, সেখানে সীমিত আকারে প্রচার চালানো এবং জনসভা, পথসভা পরিহার করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

[৭] রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সব ধরনের জনসমাগম না করার নির্দেশনাটি সাংবাদিকরা সামনে আনলে সিইসি বলেন, ‘আমরা এখনই বিষয়টি দেখভাল করবো। প্রার্থীরা যেন জনসভা, পথসভা পরিহার করে সে অনুরোধ করবো। তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিইনি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত