প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোনো দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলা করতে পারে না

 

ডা. জাহিদুর রহমান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা গিয়েছে- এটি একটি গুজব। রোগী অন্য সমস্যায় ভুগছিল, কানাডা ফেরত বলে তার করোনাভাইরাসের টেস্ট করে তাতে নেগেটিভ এসেছে। ভর্তি হওয়ার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল, দূর্ভাগ্যক্রমে বাঁচানো যায়নি। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পালিয়ে গিয়েছে -এটি একটি গুজব। রোগী ১৮জানুয়ারি বাহরাইন থেকে দেশে ফিরছেন। সে সময় বাহরাইনে করোনাভাইরাসের কোন রোগী ছিল না। তারপর আবার দেশে আসার পরও ১৪ দিন পর হয়ে গিয়েছে।
গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে কিছু তিতা কথা বলি, আপনারা যদি যে রোগীর মৃত্যুর সাথেই করোনাভাইরাসকে জড়িয়ে নিউজ করেন, তাহলে অচিরেই দেশে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। সারা বছর অনেক হলুদ সাংবাদিকতা করেন, প্যানডেমিক নিয়ে অন্তত করবেন না। একটা কথা স্পষ্ট ভাষায় শুনে রাখুন। বেশিরভাগ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সরা এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ ফেসমাস্ক পাননি।

কোন ডাক্তার যদি নিজের জীবন বাঁচাতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে রাজি না হন, তাহলে তিনি মেডিকেল ইথিকস ভঙ্গ করবেন না। দুনিয়ার কোন দেশের কোন আদালতে বিচার চাইলে সেই ডাক্তারকে দোষী সাভ্যস্ত করতে পারবেন না। এটি শুধু সরকারেরও কাজ না। অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার সাহায্য লাগবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে সার্কভুক্ত দেশের সরকার প্রধানদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। আশা করি তিনি প্যানডেমিক মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে একযোগে, সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিবেন। এখন অনুরোধের সময় নাই। গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। আইসিটি এবং এটুআই একটা ওয়েল ইকুইপট রুমে কয়েকজন তরুণ প্রোগ্রামারদের বসিয়ে দিক, তাদের কাজই হবে গুজব সনাক্ত করা। আজকে আমাদের অপসাংবাদিকতা এবং গুজব ছড়ানোর কারণে রোগী মারা যাচ্ছে, হাসপাতাল থেকে ভেগে যাচ্ছে, লক্ষণ থাকার পরও আইডিসিআর এ জানাচ্ছেন না। কালকে সেই গুজবের স্বীকার কিন্তু আপনি কিংবা আপনার পরিবারের কেউ হতে পারে। মাইন্ড ইট। অনেক ডেন্টিস্ট এবং ডাক্তাররা গরম পানিতে গার্গল করে অথবা ভিনেগার দিয়ে গলার ভিতরেই করোনাভাইরাস মেরে ফেলছেন। এদের নামে আইসিটি মামলা করা হোক। একজনের বিরুদ্ধে করলেই বাকিরা যা বুঝার বুঝে নিবে। নির্বুদ্ধিতার একটা সীমা থাকা দরকার। ফেইসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত