প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৯১টি বেসরকারী মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রকে কোটি টাকা অনুদান দিলো সরকার

সুজন কৈরী : [২] মাদকাসক্তদের সুস্থ করে তোলাসহ নানাবিধ ভাল কাজের জন্য এ আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে সারাদেশ থেকে ওই প্রতিষ্ঠান গুলোকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

[৩] সোমবার বিকেলে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ৮টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে অনুদানের অর্থের চেক তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

[৪] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বচানী ইসতেহার ২০১৮ তে সরকার মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা কার্যক্রম উন্নত করতে বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আর্থিক অনুদানের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশে মোট বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ৩২৯টি, যার বেড সংখ্যা- ৪১৭৩টি। ২০১৯ সালে ১৩ হাজার ৮৫২ জন মাদকাসক্ত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলো মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে। এসব নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন বিধিমালা ২০০৫ অনুযায়ী প্রতি ১০ বেডের নিরাময় কেন্দ্রের জন্য ১ জন সার্বক্ষনিক চিকিৎসক, ১ জন খন্ডকালীন মনোচিকিৎসক, ১জন কাউন্সিলর ও ২ জন নার্স/ওয়ার্ড বয়ের প্রয়োজন হয়। সরকার এই চিকিৎসা ব্যয় খরচ হ্রাস ও নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়নে এই অনুদান কার্যক্রম গ্রহন করে। এজন্য গত ২২ ডিসেম্বর বেসরকারি মদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর জন্য সরকারি অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৯ প্রনয়ণ করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান অর্থবছরের জন্য অনুদানের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অনুদান পাওয়ায় চিকিৎসার মান উন্নত হবে এবং বেসরকারি মালিকরা আরও দক্ষভাবে কেন্দ্রগুলো চালাবেন।

[৫] মন্ত্রী বলেন, দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূখী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সরকারের নির্বাচনী ইসতেহারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইসতেহারে তরুণদের মাদকের ভয়াল আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে প্রতিটি জেলায় সরকারী মাদকাসিক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা এবং বেসরকারীভাবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রæতি দিয়েছে। শুধু তাই নয় বেসকারী মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর সেবার মান উন্নত করা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারী অনুদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বেসরকারী মদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

[৬] আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, নীতিমালাটি প্রস্তুত হওয়ায় প্রথমে এই খাতে বাজেট বরাদ্দ ছিল না। কিন্তু মুজিববর্ষে এই কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা হিসেবে আমরা এ বছর অন্তত ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি এবং মুজিববর্ষ শুরুর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা এই অনুদান দিচ্ছি। আশা করি ভবিষ্যতে এই বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করা হবে। আমরা মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সর্বাতœক কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এর অংশ হিসেবে আমরা একদিকে যেমন অপারেশনাল কার্যক্রম শক্তিশালী করেছি পাশাপাশি অসুস্থ মাদকাসক্তদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসা কাযক্রম শক্তিশালী করেছি। অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবা কার্যক্রম আরও উন্নত করতে পারে এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলো যাতে ভবিষ্যতে অনুদান প্রাপ্তির জন্য চিকিৎসা কার্যক্রমে আরও মনোযোগী হয় এটি আমাদের প্রত্যাশা।

[৭] তিনি বলেন, এককালীন আর্থিক অনুদানের জন্য গত ২২ জানুয়ারি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে দরখাস্ত আহবান করা হয়। ওই আবেদন যাচাই বাছাই শেষে ৯১টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অনুদান প্রদানের নীতিমালা অনুসরণ করে সর্বোচ্চ ২ লখ এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে।

[৮] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ২২টি জেলায় বর্তমানে বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্র নেই। এসব জেলাগুলোতে কেউ যদি বেসরকারিভাবে নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করেন তবে তাকে আর্থিক অনুদান প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত