প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]ভয়ঙ্কর কাজের বুয়া!

সুজন কৈরী: [২] নতুন যন্ত্রণায় ভুগছেন রাজধানীবাসী। ব্যস্ততম শহুরে জীবনে ‘বুয়া’ নিয়ে আরেক আতঙ্কে পড়েছেন নগরবাসী। বুয়া, গৃহকর্মী বা কাজের লোক যাই বলা হোক, কর্মব্যস্ত নগরবাসীর বাসার কাজের লোকটিই এখন তাদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বুয়া সেজে একশ্রেণীর প্রতারক চক্র বাসার লোকজনকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।

সংঘবদ্ধ একটি চক্র অভিনব কায়দায় সুকৌশলে বাসা বাড়িতে বুয়া নিয়োগ দিয়ে দুর্র্ধষ চুরি করে আসছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[৩] পুলিশ বলছে, বুয়া সেজে চুরি করতে টার্গেট করা বাসায় কাজ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে চক্রটি। বেশ কয়েকটি ধাপে কাজ করে প্রতারকরা। বাসায় লোকসংখ্যা কম, শিক্ষিত ও সরল, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ কম, মূলত এমন গৃহকর্তীদের টার্গেট করে চক্রটি। চক্রের মূল অস্ত্র হচ্ছে নারী সদস্যদের গৃহকর্মী সাজিয়ে বিভিন্ন বাসায় কাজের ব্যবস্থা করা। এরপর বেশি কাজ দেখিয়ে বাসার লোকজনের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায় গৃহকর্মীটি। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে বাসার লোকজনকে চেতনানাশক খাইয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়া হয়।

[৪] গত ৯ মার্চ রাজধানীর একটি বাসায় দারোয়ানের মাধ্যমে বুয়া হিসেবে কাজ নেন বিউটি বেগম ময়না। পরদিন দুপুরে বাড়ির তিন সদস্যকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করেন। বাড়িতে থাকা নগদ দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যান। পরে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পাঁচ দিন পর শনিবার তাদের জ্ঞান ফেরে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- বিউটি বেগম ওরফে ময়না ওরফে জান্নাতের মা, খোরশেদ আলম ওরফে মোরশেদ, আশাদুল ইসলাম, রিপনা বেগম ও ফারুক আহম্মেদ। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের এক জোড়া হাতের চুড়ি, একটি লকেটসহ স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৩০ হাজার টাকা, ছয়টি চেতনানাশক ট্যাবলেট ও ব্যবহৃত মোবাইলফোন জব্দ করা হয়েছে।

[৫] রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের ডিসি ইফতেখার আহমেদ জানান, গেন্ডারিয়া এলাকার গৃহবধূ মোছা. ফয়জুন্নেছা বাসার দারোয়ানের মাধ্যমে গত ৯ মার্চ কাজের বুয়া হিসেবে ময়নাকে নিয়োগ দেন। গ্রেপ্তার আশাদুল ও তার স্ত্রী রিপনা বেগম চুরির উদ্দেশ্যে চেতনানাশক ওষুধ ময়নাকে সরবরাহ করেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের বুয়া ময়না চেতনানাশক ওষুধ দুপুরের খাবারের সঙ্গে মিশ্রিত করে ভিকটিম ও তার পরিবারের সদস্যদের খাওয়ালে সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর আলমারিতে থাকা দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ২৫ ভরি বিভিন্ন স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর চোরাইকৃত মালামাল স্বর্ণের দোকানদার গ্রেপ্তার ফারুক আহম্মেদের কাছে বিক্রি করেন। চেতনানাশক ওষুধের তীব্রতায় অজ্ঞান সবাইকে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের সন্দেহমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রথমে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া থেকে কাজের বুয়া ময়নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিকে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

[৬] চক্রের সিন্ডিকেটের বিষয়ে ডিসি জানান, ২০১৩ সালে একটি মামলায় হাজিরায় দিতে গিয়ে খোরশেদ-ময়না ও আশাদুল-রিপনা দম্পতির মধ্যে পরিচয় হয়। তখন থেকে তারা সংঘবদ্ধভাবে ঢাকা ও রাজশাহীতে এই কৌশলে স্ত্রীদের বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে নিয়োগ দিয়ে চুরির করছিল। ময়না বুয়া সেজে চুরি করে ধরা পড়ার সময়ের মধ্যে রিপনা-আশাদুল দম্পতি আরেক জায়গা আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটায়। যেটাতে একজন এখনো আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে।

[৭] পুলিশ বলছে, বাসায় কাজের বুয়া নিয়োগ দেয়ার সময় বিস্তারিত তথ্য, ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি ও প্রয়োজনে বুয়ার বাড়ির নম্বরও রেখে দিতে হবে। এছাড়া সন্দেহজনক হলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত