প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বকশিশ দিলেই ঢোকা যায় নারী হাজতখানায় ১০০ টাকার নিচে কথা নেই

নুসরাত জাহান, চট্টগ্রাম প্রতিদিন প্রতিবেদন, [২] চট্টগ্রাম নতুন আদালত ভবনে মেট্রো নারী হাজতখানার ভেতরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আসামির আত্মীয়-স্বজনরা অনায়াসে আসা-যাওয়া করছে হাজতখানায়। আর এজন্য বকশিশ হিসেবে জনপ্রতি গুণতে হচ্ছে কখনও ১০০ টাকা, কখনও ১৫০, এমনকি ২০০ টাকাও। হাজতখানার দায়িত্বরত নারী পুলিশরাই বকশিশের বিনিময়ে এমন বেআইনি কাজে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

[৩] সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা হাজতখানার প্রবেশমুখের দেয়ালে লেখা আছে— ‘আইনজীবী ব্যতীত সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ।’ কিন্তু সেখানে অনায়াসেই প্রবেশ করছেন আসামির আত্মীয়-স্বজনরা। হাজতখানার দায়িত্বরত দিদার নামের এক তরুণ মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই মহিলাকে হাজতখানায় প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এরপর সেখানে দায়িত্বরত নারী পুলিশকে কখনও ১০০ টাকা, কখনও ১৫০, এমনকি ২০০ টাকা দিয়েও প্রবেশ করেন আরও অনেকে। ১০-১৫ মিনিট আসামিদের সাথে কথা বলে বেরিয়ে যান তারা। এছাড়া মহিলা হাজতখানায় মহিলা আত্মীয়-স্বজন ছাড়া পুরুষও দেখা করতে ভিড় জমিয়েছেন। হাজতখানার বাইরে দায়িত্বরত পুলিশরা থাকলেও কেউ এসব অনিয়ম যেন দেখেও দেখছেন না।

[৪] চন্দনাইশ থেকে ননদকে দেখতে এসেছিলেন রাবেয়া নামের এক মহিলা। সাথে আরও কয়েকজন। তারা হাজতের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। অপেক্ষার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইয়াবা পাচার মামলায় আমার ননদকে হাজতখানায় রাখা হয়েছে। তাকে দেখতে এসেছি। ১০০ টাকা বকশিশ দিয়ে ভেতরে ননদের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। কখনো কখনো আবার বাড়িয়েও দিতে হয়। ১০ মিনিটের বেশি কথা বলতে দেয়নি। এরপর ননদের মেয়ে ঢুকেছে তার মাকে দেখার জন্য। আমি তার জন্য এখানে অপেক্ষা করছি।’

[৫] তিনি আরও বলেন, ‘টাকা দিলেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়, আর টাকা না দিলে আইনের যত কড়াকড়ি।’

[৬] বৃদ্ধা আছিয়া খাতুন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। অনেক কষ্টে গাড়ি ভাড়া জোগাড় করে মেয়েকে দেখতে আইছি। কতজনরে হাজতখানায় ঢুকতে দেখলাম। কিন্তু আমি ঢুকতে চাইলে বাধা দিল। টাকা দিলে নাকি ঢুকতে পারুম। কিন্তু আমার কাছে গাড়ি ভাড়া ছাড়া আর এক টাকাও নাই। আমি কোত্থেকে ওদেরকে টাকা দিমু।’

[৭] নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘হাজতখানায় ঢোকা নিষেধ থাকলেও প্রতিনিয়ত আসামিদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব অনায়াসে ঢুকছে। টাকার বিনিময়ে তারা প্রতিদিন মানুষ ভেতরে আসামির সঙ্গে কথা বলতে সুযোগ দিচ্ছে। শুধু নারী আত্মীয় নয়, পুরুষ আত্মীয়রাও হাজতখানায় ঢুকছে। মহিলা হাজতখানার ইনচার্জ এএসআই আইরিন আক্তার টাকার বিনিময়ে এই বেআইনি কাজ করছে।’

[৮] মহিলা হাজতখানায় আসামির আত্মীয়স্বজনদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে ভেতরে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব পালন করছে দিদার নামের এক তরুণ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিদার নামের ওই তরুণ বলেন, ‘আমি আসামিদের আত্মীয়ের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে ভেতরে নিয়ে দেখা করিয়ে দেই। তার বিনিময়ে কিছু বকশিশ নেয় দায়িত্বরত পুলিশেরা। পরবর্তীতে এ বকশিশ সবাই ভাগ ভাটোয়ারা করে। আমাকেও কিছু দেয়।’

[৯] নারী হাজতখানায় আসামির আত্মীয়-স্বজনদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও টাকার বিনিময়ে ঢুকতে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা হাজতখানার ইনচার্জ এএসআই আইরিন প্রশ্ন শুনে কোনও উত্তর না দিয়ে কল কেটে দেন। এরপর আরও কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি।

[১০] এ বিষয়ে মেট্রো হাজতখানার ইনচার্জ নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, ‘এমন কোনও অভিযোগ আমি পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। মহিলা হাজতখানার দায়িত্বরত এএসআই আইরিনের সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বলে পদক্ষেপ নেবো।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত