প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সিঙ্গাপুরকে মডেল হিসেবে উদাহরণ দিচ্ছে, দেশবাসীকে খোলা চিঠিতে জানালেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী

লিহান লিমা : [২] প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং চিঠিতে আরো বলেন, পাঁচ সপ্তাহ পূর্বে আপনাদের সঙ্গে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি আপনাদের আবারো হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছি এবং জানাচ্ছি যে আমরা এটি নিয়ন্ত্রণে কি করতে পারি। আমি এই ইস্যু সংশ্লিষ্ট তিনটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো, চিকিৎসাজনিত, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক।

[২] চিকিৎসাখাত : আমরা সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইন ও শনাক্তকরণের মাধ্যমে তাদের আইসোলেশনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাই সংক্রমণের মাত্রা বাড়ছেনা। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্তে¡ও আমরা এই ভাইরাসকে নির্মূল করতে সক্ষম হই নি।

[৩] চীনের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯কে মহামারী ঘোষণা দিয়েছেন।

[৪] সিঙ্গাপুরে আমরা কোভিড-১৯ ভাইরাস নিয়ে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

[৫] আমাদের এখন কি করা উচিত? প্রথমত, কোভিড-১৯ দীর্ঘদিন ধরে থাকবে। তাই কিছু বিষয়ের সঙ্গে আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে। প্রথমতো আমাদের, ব্যক্তিগত হাইজিন চর্চা করতে হবে, নতুন সামাজিক রীতি গ্রহণ করতে হবে ও জনসমাগম নিরুতসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে নির্দিষ্ট শারীরিক দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে।

[৬] সিঙ্গাপুরো দুইটি বড় চার্চ থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। এবং যে সব সিঙ্গাপুরবাসী কুয়ালালামপুরে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অবশ্যই এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় সমাগম কেন্দ্রীক নয়। কিন্তু অনেক লোক জমায়েত হন এমন স্থান থেকে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়াতে পারে, সেটি হোক ধর্মীয় কিংবা অন্যান্য। আর এই কারণেই সৌদিআরব সাময়িকভাবে ওমরা হজ্বের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পোপ লাইভে তার অনুসারীদের সেন্ট পিটার স্কয়ারের সমাগম এড়িয়ে চলতে বলেছেন। আমি আশা করি সিঙ্গাপুরবাসী এই সময়টাতে ধর্মীয় সমাগমের মতো অন্যান্য সমাবেশ ও সমাগম এড়িয়ে চলার বিষয়টি বুঝতে পারবেন।

[৭] অর্থনৈতিক প্রভাব : আমাদের পরবর্তী উদ্বেগ এটি কিভাবে আমাদের অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে তা বিবেচনা করা। আমাদের অর্থনীতি মারাত্মক ধাক্কার মুখে পড়বে। সেই কারণেই এই পরিস্থিতিতে আমরা বাজেটে ব্যবসা, শ্রম ও গৃহস্থালি সাহায্যের জন্য ৪ বিলিয়ন সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার সহায়তা তহবিল গঠন করেছি। এটি আমাদের সাহায্য করবে। কিন্তু আমাদের আরো বেশি কিছু করতে হবে। হোটেল, এভিয়েশন, পর্যটনখাত ও ফ্রিল্যান্সাররা সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কিন্তু কেউ এর থেকে রক্ষা পাবেন না। ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সবাই এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

[৮] সামাজিক ও মনস্তাত্তি¡ক সহনশীলতা : আমরা এই পরিকল্পনাগুলো আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি এবং নিশ্চিত করছি যে আমরা সঠিকভাবে পরিকল্পনা করেছি। আমরা যথাযথ চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি নিশ্চিত যে আমরা এটি মোকাবেলা করতে পারবো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত