প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কর্ক দিয়ে তৈরি এক বাড়ি

মাজহারুল ইসলাম : [২] কর্কের ছিপি দিয়ে ওয়াইনের বোতল বন্ধ করা হয়। সেই একই উপাদান দিয়ে ইংল্যান্ডের ইটন শহরে আস্ত এক বাড়ি বানিয়েছেন স্থপতি ম্যাথিউ বার্নেট হাউল্যান্ড। তিনি বলেন, আবাসনের মতো নির্মাণের ক্ষেত্রে কংক্রিট বøক, সিমেন্টভিত্তিক মোল্ডার, প্লাস্টিক ফোম ইনসুলেশনের মতো উপকরণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

[৩] প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যাথিউ সহকর্মীদের সঙ্গে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন। কর্ক কেটে বিভিন্ন স্তরে বিন্যাস করে শেষ পর্যন্ত মানানসই কাঠামো খুঁজে পেয়েছেন। ১,২৬৮টি টুকরো দিয়ে এক প্রণালী তৈরি করেছেন, যা কোনও আঠা বা সংযোজক ছাড়াই অটুট থাকে। গোটা কাঠামোটি ধরে রাখে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। কোনও কিছু জোড়া দেবার প্রয়োজন নেই।

[৪] এ উপাদান সম্পর্কে ম্যাথিউ বলেন, স্পর্শ পেলে সামান্য উষ্ণ হয়ে ওঠে। গঠনও স্পষ্ট চোখে পড়ে। সেইসঙ্গে সুগন্ধের কারণে বাসায় বেশ সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়।

[৫] ওই ঘরের মধ্যে অন্য রকম গন্ধ পাওয়া যায়। যা অনেকটা সিগারের বাক্সের মতো। ৪৪ বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে বেশ আরামদায়ক অনুভূতি পাওয়া যায়। প্রাচীনের ছোঁয়া সত্তে¡ও এই শৈলি বেশ আধুনিক। অনেকটা মায়া সভ্যতার প্রাচীন মন্দিরের মতো।

[৬] ভবনের বাইরের অংশে কর্কের ব্যবহার এর আগেও হয়েছে। যেমন ২০০৭ সালে কর্ক গাছের দেশ পর্তুগালের উত্তরে একটি ভবন তৈরি করা হয়েছিলো। বাড়িটির উপর সময়ের ছাপ বেশ স্পষ্ট। কারণ কর্ক প্রতিক্রিয়া দেখায়, স্থান পরিবর্তন করে, রংও বদলায়।

[৭] স্থপতি হিসেবে ভাস্কো মাগালেস সেই বৈশিষ্ট্যের বিশেষ কদর করেন। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে বাড়িটি প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করছে। তাই এই চকোলেটের মতো খয়েরি রং আসলে পরিবেশের আর্দ্রতার প্রতিক্রিয়া। উপকরণ হিসেবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যা ঋতু অনুযায়ী পরিবর্তন ঘটে।

[৮] কর্ক দিয়ে বাড়ি তৈরির পর স্থপতিদের মনে এ বিষয়ে বিশ্বাস জন্মেছে যে উত্তাপ, শব্দ ও আগুন প্রতিরোধী এ উপকরণ পুরোপুরি পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব। এ যেনো সত্যি এক বিপ্লব। য জাপান থেকে কানাডায় এ ধারা ছড়িয়ে পড়েছে।

[৯] এ শহরে ১৩’শ এর বেশি কাঠের বাড়ি রয়েছে। ১৯৯৪ সালে শহরের পুরোনো অংশকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তারপর প্রাকৃতিক এই উপাদান দিয়ে বসতবাড়ি, ডাক্তারের চেম্বার, স্কুল ইত্যাদি গড়ে তোলা হয়েছে।

[১০] তবে ইটনের মতো শুধু কর্ক দিয়ে তৈরি আস্ত একটি ভবন এর আগে তৈরি হয়নি। ম্যাথিউ হাউল্যান্ড এই কাজ করে সন্তুষ্ট। সেখানে তিনি থাকতেও শুরু করেছেন। তিনি বলেন, অত্যাধুনিক স্থাপত্যের আওতায় বিশাল জানালা ও সাদা রংয়ের মসৃণ দেওয়াল থাকে। এই পরিবেশ আরও গভীর অনুভূতি দেয়ায় আমি খুব খুশি। কার্বন নির্গমন কমানোর ফলে এখানে তিনি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত