প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুজিববর্ষ ও করোনাভাইরাস : সরকারের একটি সুসিদ্ধান্ত

দীপক চৌধুরী : করোনাভাইরাস। মানুষের মধ্যে শঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনি উচ্ছাস ও আনন্দ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, গরিবরা এদেশে বা বিশ্বে যা, বিলোনিয়ার হলে তা। কারণ, এ ভাইরাস ধনী-গরিব চেনে না,ধনীরাষ্ট্র-গরিব রাষ্ট্র বোঝে না। এ ভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্বে অস্থিরতা, চঞ্চলতা। এটা নিয়ে একধরনের দোলাচল দেখা গেল অফিসার্স ক্লাবেও। রোববার, তখন ঠিক সন্ধ্যা। কারণ, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের খবর রেডিও- টেলিভিশনে ইতিমধ্যেই প্রচার হয়েছে। বোঝা গেল, কিছুদিন থেকে আলোচনায় থাকা প্রাণঘাতি ভাইরাসটি হঠাৎ করেই বাংলাদেশে ধরা পড়ায় মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। অনেকে আবার আতঙ্কিতও। বিকেলেই দেখলাম, বিভিন্ন ওষুধের দোকানে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনার হিড়িক পড়ে গেছে।

নারীদিবসের আলোচনায় দর্শক হিসেবে দাওয়াত ছিল। কিন্তু সেখানে হাজির হয়ে দেখলাম, যার সঙ্গেই দেখা তাদের মুখেই করোনাভাইরাস প্রসঙ্গ। এ মুহূর্তে হাত মেলানো বা হ্যান্ডস্যাক নয়। এর বদলে সৌহার্দ্য প্রকাশের পথ বাতলানো হচ্ছে। অর্থাৎ এ আলোচনাও পাটমেলার মাঠে। ঠাট্টা করেই হোক বা অন্য কারণেই হোক, ক্লাবের নির্বাচিত নেতা অতিরিক্ত সচিব মেসবাহ অনেকের সঙ্গেই হাত মেলাচ্ছিলেন না এই বলে যে, ‘সাবধান করোনাভাইরাস।’ এরইসঙ্গে একে অপরের মধ্যে হাসিঠাট্টাও চলছিল। এতে যোগ দেন তিয়াত্তর ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা রংপুরের মান্নান সাহেব বা এম এ রাজেকও। অফিসার্স কøাবের ভেতরই পাটমেলারও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেও সমাগম নেই। ‘নারীদিবসের’ প্রসঙ্গ ছাপিয়ে ব্যক্তিগত আলোচনায় করোনাভাইরাস জায়গা করে নিয়েছে। কোনো কোনো সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই বলে মন্তব্য করছিলেন কিংবা নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন তুলছিলেন, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান কী সংক্ষিপ্ত করা উচিৎ না? বঙ্গবন্ধুর কাছে তো আগে মানুষ, পরে মিটিং-সমাবেশ যাই বলুন। তিনি কী কখনো নিজের জন্মদিন পালন করেছেন? আমাদের জাতির পিতা তো জীবন দিয়েছেন মানুষের জন্য। অফিসার্স কøাবের মাঠে কর্মকর্তাদের আড্ডায় নানা কথা হচ্ছিল জাতির পিতার জীবনাচার নিয়েও। একটু পরেই শোনা গেল, বিশ্বে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মুজিব বর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস ও সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতরাতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

আমরা জানি, মুজিব বর্ষ পালন করার মধ্যে শুধু আমাদের উচ্ছাস প্রকাশই নয়, এতে রয়েছে আমাদের দায়িত্ববোধ, শ্রদ্ধা ও জাতির পিতাকে স্মরণ করা। তাঁর শতবর্ষে পদার্পণ করার সময়টা এ জাতির জন্য অনেক বড়বিষয়। এ সময়টাতে তাঁরই মেয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক, স¦াধীন বাংলাদেশের স্থপতি। কিছুদিন ধরেই একশ্রেণির মানুষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী সমাবেশ বিক্ষোভ-মিছিল করে আসছিল। বুঝে হোক, না বোঝে হোক এই প্রতিবাদ কী আমাদের বিব্রত করে না। ভারতের প্রতিনিধি হয়ে তাঁর আসার সঙ্গে অন্যকিছুর সম্পর্ক খোঁজা ঠিক নয়।

শুনেছি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে রোববার স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী সম্পর্কে অবহিত করতে যান। সাক্ষাৎকারকালে কেউ কেউ কয়েকটা দিন করোনাভাইরাস আক্রান্ত তথ্য গোপন করে আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের পর ঘোষণা দেয়ার প্রস্তাব করলে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, আগে মানুষ, অনুষ্ঠান পরেও করা যাবে।

আমরা জানি, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সবাইকে ভীত করে রেখেছে। চীন থেকে শুরু করে ভাইরাসটি এখন বিশ্বের একশটির বেশি দেশে ছড়িয়েছে। এ রোগে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে এবং লাখোর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যমে এ ভাইরাসের প্রভাব সম্পর্কে নানা তথ্য উঠে আসছে।
১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত মুজিব বর্ষ। করোনা পরিস্থিতির কারণে বড় পরিসরে জনসমাগম করা ঠিক হবে না। কামাল চৌধুরীর এমন ঘোষণা সময়োপযোগী। অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সুসিদ্ধান্ত এটি। বছরব্যাপী ছোট পরিসর কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার বিকেলে দেশে তিনজন করোনাভাইরাসে ( কোভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর বৈঠকে বসে মুজিব বর্ষ উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করে মুজিববর্ষের কর্মসূচির বিষয়ে ওই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

লেখক : উপ-সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত